শ্রমিকদের জাতীয় নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্রমিকদের জাতীয় নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশ

শ্রমিকদের জন্য জাতীয় নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আমাদের দাবি যৌক্তিক এবং আমাদের দাবি ইনশাআল্লাহ আদায় হবে। প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামবো। বর্তমানে আমরা যে অবস্থায় আছি, আমরা মনে করেছিলাম রাজনৈতিক সরকার আসলে আমরা ভালো থাকবো। কিন্তু, আমরা ভালো নেই। এদেশের সাত কোটি শ্রমিক ভালো নেই। কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকদের মৃত্যু হচ্ছে, কিন্তু সরকারের টনক নড়ছে না।’

টিইউসি’র সহ-সভাপতি এবং শ্রমিক নেতা মাহবুব আলম বলেন, ‘এ সমাজকে পরিবর্তন করতে না পারলে, শ্রমিকরা কখনোই তাদের অধিকার ফিরে পাবে না। শ্রমিকরা বর্তমানে খুব কষ্টে আছে। আমার ৬০ বছর বয়সে শ্রমিকদের এত কষ্ট দেখিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের বয়স ৭ মাস হয়ে গেল। কিন্তু তারা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি না দিয়ে, উল্টো চাকরিচ্যুত করেছে। ইতোমধ্যে ২ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে।’

সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন টিইউসির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ
সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন টিইউসির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ

টিইউসি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা থেকে যাওয়ার কিছুদিন আগে আমেরিকার সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, এটি শুধু গোলামির চুক্তি নয়। এ চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকা যাদের বন্ধু হয়, তাদের কোনো শত্রুর দরকার হয় না।’

বিএনপি সরকার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনি ইশতেহারে বন্ধ কলকারখানা খুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু, নির্বাচিত হওয়ার ৭ মাসের মধ্যে আপনারা সেই ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন। ৪৫ কারখানা আপনারা ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দিচ্ছেন। যেকোনো দলই ক্ষমতায় আসার আগে শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করবে বলে জানায়। কিন্তু, ক্ষমতায় আসার পরে বাস্তবে তারা কারখানার মালিকের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করে।’

টিইউসি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, ‘বাংলাদেশে শিল্প কারখানায় নৈরাজ্যকর অবস্থা চলছে। এ অবস্থার মধ্যে দিয়ে জিনিসপত্রের দাম এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সাধারণ মানুষসহ শ্রমিকদের জীবন দূর্বিষহ হয়ে পড়েছে।’

তিনি জানান, ‘কয়েকদিন আগে সরকারি কর্মচারীদের মজুরি বেড়েছে। কিন্তু, গার্মেন্টসের মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে শ্রমিক মজুরি মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকা। টেনারি শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি ১৮ হাজার টাকা। যাদের উৎপাদনের মধ্য দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, তাদের বেতন এতো কম হতে পারবে না।’

টিইউসি’র দপ্তর সম্পাদক শাহিদা পারভীন শিখা বলেন, ‘আজকে দেশের উপর অসনি সংকেত দেখা দিয়েছে। সেটা হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী। এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন এবং চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।’

শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন টিইউসির সহ-সভাপতি মাহবুব আলম
শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন টিইউসির সহ-সভাপতি মাহবুব আলম

শ্রমিক সমাবেশ থেকে ৬ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো:

১. শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা জাতীয় নূন্যতম মজুরি ঘোষণা করতে হবে।

২. সার্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালুসহ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. ৪৫ টি রাষ্ট্রীয় কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ নয়, রাষ্ট্রীয় অংশায়নে চালাতে হবে।

৪. শ্রমিকদের রেশন, আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. চট্টগ্রাম বন্দর ইজারার সিদ্ধান্ত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম চুক্তি বাতিল করতে হবে।

৬. শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

শ্রমিক সমাবেশে টিইউসি’র সংগঠক হাফজিুল ইসলাম, টিইউসি'র নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন, টিইউসি'র কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক রুহুল আমিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে পুরোনো পল্টন মোড়ের দিকে যান শ্রমিক নেতারা। এসময় তারা ‘দুনিয়ার মজদুর, এক হও, লড়াই করো’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

/এমএকে/