
একান্ত সাক্ষাৎকার: শামসুল হায়দার সিদ্দিকী
ব্রিগেডিয়ার আমিন বলেন, সেনাপ্রধানের একটু দরকার আছে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাব, আবার দিয়ে যাব
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘এক-এগারো’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নাটকীয় অধ্যায়। ২০০৭ সালের সেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঘটনার সময় দেশের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীন ওই বিশেষ সেলের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। ২০০৯ সালে তিনি অবসরে যান। বিশেষ কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা কীভাবে সময় কাটিয়েছেন এবং সেখানে যেসব চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছিল-সেসব নিয়ে সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরের সঙ্গে কথা বলেছেন মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরের বিশেষ প্রতিনিধি আয়নাল হোসেন।

ব্রিগেডিয়ার আমিন বলেন, সেনাপ্রধানের একটু দরকার আছে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাব, আবার দিয়ে যাব
আয়নাল হোসেন

সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: এক-এগারোর সময় দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রী. এমপি ও অনেক জঙ্গি কারাগারে ছিলেন। ওই সময় কীভাবে এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: ওই সময় কারাগারে দুইজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি ছিলেন। শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুর ইসলাম ওরফে বাংলাভাইসহ বড় বড় জঙ্গিরাও কারাগারে ছিলেন। ওই সময়ে আমরা নানা ধরনের কাজ করেছি। জেলখানার সবাই যে খারাপ তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু ভালো লোক ছিলেন। আমরা সবার সহযোগিতা নিয়েই কাজ করেছি। ওখানে কিন্তু একা কেউ কাজ করে না। আমাদের কাজে মাঝেমধ্যেও বন্দিরাও সহযোগিতা করেছে। অনেক বন্দি আছে, যারা খুব শিক্ষিত, যারা অনেক জ্ঞানী। কিন্তু কোনো কারণবশত এখানে চলে আসছেন। তারাও আমাদের ভালো কাজের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: দুই নেত্রী কারাগারে কেমন ছিলেন। তারা কেমন আচরণ করতেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: আমি ওই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুইজনের সঙ্গেই কথা বলতাম। খালেদা জিয়া সারারাত জেগে জেগে ইবাদত করতেন। ফজরের নামাজ পড়ে উনি ঘুমাতেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা হতো। উনি অনেক সময় ভাত বেড়ে আমাকে খাওয়াতেন। আমি গেলে উল্টো বলতেন,‘আসেন, আমার বাসায় গেস্ট আসছে।’ ডিআইজি প্রিজনস হিসেবে আমার তার সঙ্গে কথা বলার কথা না। ওই সময় কিন্তু আমি তার সঙ্গে অনেক কথাই বলেছি। কারণ ওই সময় আমি ছাড়া তাদের কাছে কথা বলার আর কেউ ছিল না।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনার কী কথা হতো?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশের রাজনীতি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, ‘আপনি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেন। এতদিন ধরে দলের সভানেত্রী হিসেবে আছেন। এত বড় দলের নেত্রী আপনি। আপনার দলে ৩০০ ভালো লোক পান না, যারা চোর না. যারা ভালো। তখন আমি মতিয়া চৌধুরীর কথা বললাম যে, উনি যে দলই করুক, চোর ছিলেন না।’ তখন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমার দল বিএনপির মতো বোয়াল মাছের দল না, হা করে খায় না। একটু কম খায়।’ তার একটু পরেই বললেন, ‘ডিআইজি সাহেব ইচ্ছা করলেই আমি সবকিছু করতে পারি না।’
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: কারাগারে থাকা অবস্থায় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে শেখ হাসিনা কীভাবে গোপন বৈঠক করেছিলেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: কীভাবে শেখ হাসিনা জেলখানা থেকে বের হয়ে গেছেন ওটা আমি আজ আপনাকে বলবো। এই ১৬ বছর আমি কখনো এই কথাটা কারো কাছে বলি নাই। কারণ বিষয়টি আইনবিরুদ্ধ। তার আগে আপনাকে আমি আরও কিছু কথা বলতে চাই, ওই বিশেষ কারাগারে ব্রিগেডিয়ার আমিন (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এটিএম আমিন), গওহর রিজভী আসতেন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে যেতেন। জেলখানায় খালেদা জিয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে মিটিং করেছেন।
শেখ হাসিনা যেদিন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যান সেই দিন রাত আটটা-নয়টায় কারাগারে ব্রিগেডিয়ার আমিন আসেন। তিনি আমাকে বলেন, ‘হায়দার তোমার আইজি প্রিজনস জানে সেনাপ্রধানের একটু দরকার আছে। শেখ হাসিনাকে একটু নিয়ে যাব, আবার দিয়ে যাব। তুমিও যাবা নাকি? আমি বললাম না ‘স্যার’। আমি কেমনে যাই? কারণ আমি তখন চিন্তা করলাম যে এটা পুরা আইনবিরুদ্ধ। কোনো বন্দির রাতে একা এভাবে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। হ্যাঁ উনি অসুস্থ হলে উনার ট্রিটমেন্টের জন্য নিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নাই। ওটার জন্য ডাক্তার থাকবে, পুলিশ থাকবে, কারা কর্তৃপক্ষ যাবে, সবার সঙ্গে তিনি যাবেন। ওই সময় সেনাপ্রধানের কথাতে কিন্তু সব চলতো। উনি নিয়ে চলে গেলেন। চলে যাওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টা বা প্লাস মাইনাস সময়ের পরে আবার উনি চলে আসলেন। এই কথাটা কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর আমি কারও কাছে বলিনি। যতক্ষণ আইন বলেন, যাই বলেন সরকার যখন যেটা চায়, তখন সেটাই হয়। কিন্তু দেশটা যদি ওই পর্যায়ে যায় যে, সরকার চাইলেও আইনের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে পারে না; তখন বোঝা যাবে না দেশটা সত্যিকারের উন্নতি হইছে। কিন্তু আমাদের দেশতো এখনো সরকার যেটা চাবে ন্যায় হোক অন্যায় হোক ওই কাজটাই করে। এখন আমাদের আপনি দোষ দিতে পারেন যে, আপনি কেন দিলেন। আপনি আইনবিরুদ্ধ কাজ করেছেন। কিন্তু তখন আমার এছাড়া কোনো কিছু করার উপায় ছিল না। ১৯৭৫ সালের জেল হত্যার সময়ও কারা কর্তৃপক্ষ আটকাইছিল। কিন্তু আল্টিমেটলি পারে নাই। কিন্তু এই যে গেলেন কথা বললেন। রেজাল্ট কি হবে ওইখানেই সেটা নির্ধারণ হয়েছে।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: আপনাকেও ধন্যবাদ।
একান্ত সাক্ষাৎকার: শামসুল হায়দার সিদ্দিকী
ব্রিগেডিয়ার আমিন বলেন, সেনাপ্রধানের একটু দরকার আছে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাব, আবার দিয়ে যাব

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘এক-এগারো’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নাটকীয় অধ্যায়। ২০০৭ সালের সেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঘটনার সময় দেশের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীন ওই বিশেষ সেলের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। ২০০৯ সালে তিনি অবসরে যান। বিশেষ কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা কীভাবে সময় কাটিয়েছেন এবং সেখানে যেসব চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছিল-সেসব নিয়ে সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরের সঙ্গে কথা বলেছেন মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরের বিশেষ প্রতিনিধি আয়নাল হোসেন।

ব্রিগেডিয়ার আমিন বলেন, সেনাপ্রধানের একটু দরকার আছে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাব, আবার দিয়ে যাব
আয়নাল হোসেন

সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: এক-এগারোর সময় দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রী. এমপি ও অনেক জঙ্গি কারাগারে ছিলেন। ওই সময় কীভাবে এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: ওই সময় কারাগারে দুইজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি ছিলেন। শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুর ইসলাম ওরফে বাংলাভাইসহ বড় বড় জঙ্গিরাও কারাগারে ছিলেন। ওই সময়ে আমরা নানা ধরনের কাজ করেছি। জেলখানার সবাই যে খারাপ তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু ভালো লোক ছিলেন। আমরা সবার সহযোগিতা নিয়েই কাজ করেছি। ওখানে কিন্তু একা কেউ কাজ করে না। আমাদের কাজে মাঝেমধ্যেও বন্দিরাও সহযোগিতা করেছে। অনেক বন্দি আছে, যারা খুব শিক্ষিত, যারা অনেক জ্ঞানী। কিন্তু কোনো কারণবশত এখানে চলে আসছেন। তারাও আমাদের ভালো কাজের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: দুই নেত্রী কারাগারে কেমন ছিলেন। তারা কেমন আচরণ করতেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: আমি ওই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুইজনের সঙ্গেই কথা বলতাম। খালেদা জিয়া সারারাত জেগে জেগে ইবাদত করতেন। ফজরের নামাজ পড়ে উনি ঘুমাতেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা হতো। উনি অনেক সময় ভাত বেড়ে আমাকে খাওয়াতেন। আমি গেলে উল্টো বলতেন,‘আসেন, আমার বাসায় গেস্ট আসছে।’ ডিআইজি প্রিজনস হিসেবে আমার তার সঙ্গে কথা বলার কথা না। ওই সময় কিন্তু আমি তার সঙ্গে অনেক কথাই বলেছি। কারণ ওই সময় আমি ছাড়া তাদের কাছে কথা বলার আর কেউ ছিল না।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনার কী কথা হতো?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশের রাজনীতি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, ‘আপনি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেন। এতদিন ধরে দলের সভানেত্রী হিসেবে আছেন। এত বড় দলের নেত্রী আপনি। আপনার দলে ৩০০ ভালো লোক পান না, যারা চোর না. যারা ভালো। তখন আমি মতিয়া চৌধুরীর কথা বললাম যে, উনি যে দলই করুক, চোর ছিলেন না।’ তখন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমার দল বিএনপির মতো বোয়াল মাছের দল না, হা করে খায় না। একটু কম খায়।’ তার একটু পরেই বললেন, ‘ডিআইজি সাহেব ইচ্ছা করলেই আমি সবকিছু করতে পারি না।’
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: কারাগারে থাকা অবস্থায় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে শেখ হাসিনা কীভাবে গোপন বৈঠক করেছিলেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: কীভাবে শেখ হাসিনা জেলখানা থেকে বের হয়ে গেছেন ওটা আমি আজ আপনাকে বলবো। এই ১৬ বছর আমি কখনো এই কথাটা কারো কাছে বলি নাই। কারণ বিষয়টি আইনবিরুদ্ধ। তার আগে আপনাকে আমি আরও কিছু কথা বলতে চাই, ওই বিশেষ কারাগারে ব্রিগেডিয়ার আমিন (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এটিএম আমিন), গওহর রিজভী আসতেন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে যেতেন। জেলখানায় খালেদা জিয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে মিটিং করেছেন।
শেখ হাসিনা যেদিন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যান সেই দিন রাত আটটা-নয়টায় কারাগারে ব্রিগেডিয়ার আমিন আসেন। তিনি আমাকে বলেন, ‘হায়দার তোমার আইজি প্রিজনস জানে সেনাপ্রধানের একটু দরকার আছে। শেখ হাসিনাকে একটু নিয়ে যাব, আবার দিয়ে যাব। তুমিও যাবা নাকি? আমি বললাম না ‘স্যার’। আমি কেমনে যাই? কারণ আমি তখন চিন্তা করলাম যে এটা পুরা আইনবিরুদ্ধ। কোনো বন্দির রাতে একা এভাবে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। হ্যাঁ উনি অসুস্থ হলে উনার ট্রিটমেন্টের জন্য নিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নাই। ওটার জন্য ডাক্তার থাকবে, পুলিশ থাকবে, কারা কর্তৃপক্ষ যাবে, সবার সঙ্গে তিনি যাবেন। ওই সময় সেনাপ্রধানের কথাতে কিন্তু সব চলতো। উনি নিয়ে চলে গেলেন। চলে যাওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টা বা প্লাস মাইনাস সময়ের পরে আবার উনি চলে আসলেন। এই কথাটা কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর আমি কারও কাছে বলিনি। যতক্ষণ আইন বলেন, যাই বলেন সরকার যখন যেটা চায়, তখন সেটাই হয়। কিন্তু দেশটা যদি ওই পর্যায়ে যায় যে, সরকার চাইলেও আইনের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে পারে না; তখন বোঝা যাবে না দেশটা সত্যিকারের উন্নতি হইছে। কিন্তু আমাদের দেশতো এখনো সরকার যেটা চাবে ন্যায় হোক অন্যায় হোক ওই কাজটাই করে। এখন আমাদের আপনি দোষ দিতে পারেন যে, আপনি কেন দিলেন। আপনি আইনবিরুদ্ধ কাজ করেছেন। কিন্তু তখন আমার এছাড়া কোনো কিছু করার উপায় ছিল না। ১৯৭৫ সালের জেল হত্যার সময়ও কারা কর্তৃপক্ষ আটকাইছিল। কিন্তু আল্টিমেটলি পারে নাই। কিন্তু এই যে গেলেন কথা বললেন। রেজাল্ট কি হবে ওইখানেই সেটা নির্ধারণ হয়েছে।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: আপনাকেও ধন্যবাদ।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: এক-এগারোর সময় দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রী. এমপি ও অনেক জঙ্গি কারাগারে ছিলেন। ওই সময় কীভাবে এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: ওই সময় কারাগারে দুইজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি ছিলেন। শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুর ইসলাম ওরফে বাংলাভাইসহ বড় বড় জঙ্গিরাও কারাগারে ছিলেন। ওই সময়ে আমরা নানা ধরনের কাজ করেছি। জেলখানার সবাই যে খারাপ তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু ভালো লোক ছিলেন। আমরা সবার সহযোগিতা নিয়েই কাজ করেছি। ওখানে কিন্তু একা কেউ কাজ করে না। আমাদের কাজে মাঝেমধ্যেও বন্দিরাও সহযোগিতা করেছে। অনেক বন্দি আছে, যারা খুব শিক্ষিত, যারা অনেক জ্ঞানী। কিন্তু কোনো কারণবশত এখানে চলে আসছেন। তারাও আমাদের ভালো কাজের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: দুই নেত্রী কারাগারে কেমন ছিলেন। তারা কেমন আচরণ করতেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: আমি ওই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুইজনের সঙ্গেই কথা বলতাম। খালেদা জিয়া সারারাত জেগে জেগে ইবাদত করতেন। ফজরের নামাজ পড়ে উনি ঘুমাতেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা হতো। উনি অনেক সময় ভাত বেড়ে আমাকে খাওয়াতেন। আমি গেলে উল্টো বলতেন,‘আসেন, আমার বাসায় গেস্ট আসছে।’ ডিআইজি প্রিজনস হিসেবে আমার তার সঙ্গে কথা বলার কথা না। ওই সময় কিন্তু আমি তার সঙ্গে অনেক কথাই বলেছি। কারণ ওই সময় আমি ছাড়া তাদের কাছে কথা বলার আর কেউ ছিল না।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনার কী কথা হতো?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশের রাজনীতি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, ‘আপনি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেন। এতদিন ধরে দলের সভানেত্রী হিসেবে আছেন। এত বড় দলের নেত্রী আপনি। আপনার দলে ৩০০ ভালো লোক পান না, যারা চোর না. যারা ভালো। তখন আমি মতিয়া চৌধুরীর কথা বললাম যে, উনি যে দলই করুক, চোর ছিলেন না।’ তখন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমার দল বিএনপির মতো বোয়াল মাছের দল না, হা করে খায় না। একটু কম খায়।’ তার একটু পরেই বললেন, ‘ডিআইজি সাহেব ইচ্ছা করলেই আমি সবকিছু করতে পারি না।’
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: কারাগারে থাকা অবস্থায় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে শেখ হাসিনা কীভাবে গোপন বৈঠক করেছিলেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: কীভাবে শেখ হাসিনা জেলখানা থেকে বের হয়ে গেছেন ওটা আমি আজ আপনাকে বলবো। এই ১৬ বছর আমি কখনো এই কথাটা কারো কাছে বলি নাই। কারণ বিষয়টি আইনবিরুদ্ধ। তার আগে আপনাকে আমি আরও কিছু কথা বলতে চাই, ওই বিশেষ কারাগারে ব্রিগেডিয়ার আমিন (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এটিএম আমিন), গওহর রিজভী আসতেন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে যেতেন। জেলখানায় খালেদা জিয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে মিটিং করেছেন।
শেখ হাসিনা যেদিন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যান সেই দিন রাত আটটা-নয়টায় কারাগারে ব্রিগেডিয়ার আমিন আসেন। তিনি আমাকে বলেন, ‘হায়দার তোমার আইজি প্রিজনস জানে সেনাপ্রধানের একটু দরকার আছে। শেখ হাসিনাকে একটু নিয়ে যাব, আবার দিয়ে যাব। তুমিও যাবা নাকি? আমি বললাম না ‘স্যার’। আমি কেমনে যাই? কারণ আমি তখন চিন্তা করলাম যে এটা পুরা আইনবিরুদ্ধ। কোনো বন্দির রাতে একা এভাবে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। হ্যাঁ উনি অসুস্থ হলে উনার ট্রিটমেন্টের জন্য নিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নাই। ওটার জন্য ডাক্তার থাকবে, পুলিশ থাকবে, কারা কর্তৃপক্ষ যাবে, সবার সঙ্গে তিনি যাবেন। ওই সময় সেনাপ্রধানের কথাতে কিন্তু সব চলতো। উনি নিয়ে চলে গেলেন। চলে যাওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টা বা প্লাস মাইনাস সময়ের পরে আবার উনি চলে আসলেন। এই কথাটা কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর আমি কারও কাছে বলিনি। যতক্ষণ আইন বলেন, যাই বলেন সরকার যখন যেটা চায়, তখন সেটাই হয়। কিন্তু দেশটা যদি ওই পর্যায়ে যায় যে, সরকার চাইলেও আইনের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে পারে না; তখন বোঝা যাবে না দেশটা সত্যিকারের উন্নতি হইছে। কিন্তু আমাদের দেশতো এখনো সরকার যেটা চাবে ন্যায় হোক অন্যায় হোক ওই কাজটাই করে। এখন আমাদের আপনি দোষ দিতে পারেন যে, আপনি কেন দিলেন। আপনি আইনবিরুদ্ধ কাজ করেছেন। কিন্তু তখন আমার এছাড়া কোনো কিছু করার উপায় ছিল না। ১৯৭৫ সালের জেল হত্যার সময়ও কারা কর্তৃপক্ষ আটকাইছিল। কিন্তু আল্টিমেটলি পারে নাই। কিন্তু এই যে গেলেন কথা বললেন। রেজাল্ট কি হবে ওইখানেই সেটা নির্ধারণ হয়েছে।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ব্রিগেডিয়ার আমিন বলেন, সেনাপ্রধানের একটু দরকার আছে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাব, আবার দিয়ে যাব
আয়নাল হোসেন

সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: এক-এগারোর সময় দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রী. এমপি ও অনেক জঙ্গি কারাগারে ছিলেন। ওই সময় কীভাবে এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: ওই সময় কারাগারে দুইজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি ছিলেন। শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুর ইসলাম ওরফে বাংলাভাইসহ বড় বড় জঙ্গিরাও কারাগারে ছিলেন। ওই সময়ে আমরা নানা ধরনের কাজ করেছি। জেলখানার সবাই যে খারাপ তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু ভালো লোক ছিলেন। আমরা সবার সহযোগিতা নিয়েই কাজ করেছি। ওখানে কিন্তু একা কেউ কাজ করে না। আমাদের কাজে মাঝেমধ্যেও বন্দিরাও সহযোগিতা করেছে। অনেক বন্দি আছে, যারা খুব শিক্ষিত, যারা অনেক জ্ঞানী। কিন্তু কোনো কারণবশত এখানে চলে আসছেন। তারাও আমাদের ভালো কাজের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: দুই নেত্রী কারাগারে কেমন ছিলেন। তারা কেমন আচরণ করতেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: আমি ওই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুইজনের সঙ্গেই কথা বলতাম। খালেদা জিয়া সারারাত জেগে জেগে ইবাদত করতেন। ফজরের নামাজ পড়ে উনি ঘুমাতেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা হতো। উনি অনেক সময় ভাত বেড়ে আমাকে খাওয়াতেন। আমি গেলে উল্টো বলতেন,‘আসেন, আমার বাসায় গেস্ট আসছে।’ ডিআইজি প্রিজনস হিসেবে আমার তার সঙ্গে কথা বলার কথা না। ওই সময় কিন্তু আমি তার সঙ্গে অনেক কথাই বলেছি। কারণ ওই সময় আমি ছাড়া তাদের কাছে কথা বলার আর কেউ ছিল না।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনার কী কথা হতো?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশের রাজনীতি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, ‘আপনি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেন। এতদিন ধরে দলের সভানেত্রী হিসেবে আছেন। এত বড় দলের নেত্রী আপনি। আপনার দলে ৩০০ ভালো লোক পান না, যারা চোর না. যারা ভালো। তখন আমি মতিয়া চৌধুরীর কথা বললাম যে, উনি যে দলই করুক, চোর ছিলেন না।’ তখন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমার দল বিএনপির মতো বোয়াল মাছের দল না, হা করে খায় না। একটু কম খায়।’ তার একটু পরেই বললেন, ‘ডিআইজি সাহেব ইচ্ছা করলেই আমি সবকিছু করতে পারি না।’
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: কারাগারে থাকা অবস্থায় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে শেখ হাসিনা কীভাবে গোপন বৈঠক করেছিলেন?
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: কীভাবে শেখ হাসিনা জেলখানা থেকে বের হয়ে গেছেন ওটা আমি আজ আপনাকে বলবো। এই ১৬ বছর আমি কখনো এই কথাটা কারো কাছে বলি নাই। কারণ বিষয়টি আইনবিরুদ্ধ। তার আগে আপনাকে আমি আরও কিছু কথা বলতে চাই, ওই বিশেষ কারাগারে ব্রিগেডিয়ার আমিন (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এটিএম আমিন), গওহর রিজভী আসতেন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে যেতেন। জেলখানায় খালেদা জিয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে মিটিং করেছেন।
শেখ হাসিনা যেদিন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যান সেই দিন রাত আটটা-নয়টায় কারাগারে ব্রিগেডিয়ার আমিন আসেন। তিনি আমাকে বলেন, ‘হায়দার তোমার আইজি প্রিজনস জানে সেনাপ্রধানের একটু দরকার আছে। শেখ হাসিনাকে একটু নিয়ে যাব, আবার দিয়ে যাব। তুমিও যাবা নাকি? আমি বললাম না ‘স্যার’। আমি কেমনে যাই? কারণ আমি তখন চিন্তা করলাম যে এটা পুরা আইনবিরুদ্ধ। কোনো বন্দির রাতে একা এভাবে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। হ্যাঁ উনি অসুস্থ হলে উনার ট্রিটমেন্টের জন্য নিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নাই। ওটার জন্য ডাক্তার থাকবে, পুলিশ থাকবে, কারা কর্তৃপক্ষ যাবে, সবার সঙ্গে তিনি যাবেন। ওই সময় সেনাপ্রধানের কথাতে কিন্তু সব চলতো। উনি নিয়ে চলে গেলেন। চলে যাওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টা বা প্লাস মাইনাস সময়ের পরে আবার উনি চলে আসলেন। এই কথাটা কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর আমি কারও কাছে বলিনি। যতক্ষণ আইন বলেন, যাই বলেন সরকার যখন যেটা চায়, তখন সেটাই হয়। কিন্তু দেশটা যদি ওই পর্যায়ে যায় যে, সরকার চাইলেও আইনের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে পারে না; তখন বোঝা যাবে না দেশটা সত্যিকারের উন্নতি হইছে। কিন্তু আমাদের দেশতো এখনো সরকার যেটা চাবে ন্যায় হোক অন্যায় হোক ওই কাজটাই করে। এখন আমাদের আপনি দোষ দিতে পারেন যে, আপনি কেন দিলেন। আপনি আইনবিরুদ্ধ কাজ করেছেন। কিন্তু তখন আমার এছাড়া কোনো কিছু করার উপায় ছিল না। ১৯৭৫ সালের জেল হত্যার সময়ও কারা কর্তৃপক্ষ আটকাইছিল। কিন্তু আল্টিমেটলি পারে নাই। কিন্তু এই যে গেলেন কথা বললেন। রেজাল্ট কি হবে ওইখানেই সেটা নির্ধারণ হয়েছে।
সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী: আপনাকেও ধন্যবাদ।









