শিরোনাম

যেভাবে সংরক্ষণ করা হয় খামেনির মরদেহ

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যেভাবে সংরক্ষণ করা হয় খামেনির মরদেহ
সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায়ে কালো পোশাক পরে রাস্তায় নেমে এসেছেন বাসিন্দারা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দীর্ঘ ৪ মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে তার জানাজা। তবে এ সময় খামেনির মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা বিষয়ক ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, খামেনির মরদেহ রাসায়নিকভাবে নয় বরং শীতলীকরণ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয় প্রায় নিশ্চিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামে রাসায়নিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ নিষিদ্ধ।’ ভিন্ন পরিস্থিতিতে শিয়া আইনে দাফন বিলম্বিত করা ও শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে।

‘ইরানের ফরেনসিক মর্গে এমনিতেই কয়েক মাস ধরে মৃতদেহ রাখা হয়। তাই চার মাস হিমায়িত করে রাখাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়,’ বলেন তিনি।

৪ থেকে ৬ জুলাই ছয় দিনব্যাপী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বৃহস্পতিবার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ বহনকারী কফিনটি মধ্য তেহরানে তার হত্যাকাণ্ডের স্থানে নেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায়ে কালো পোশাক পরে রাস্তায় নেমে এসেছেন বাসিন্দারা। তাদের ইরানের জাতীয় পতাকা ওড়াতে ও শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এসময় কাউকে কাউকে কাঁদতেও দেখা যায়।

খামেনির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা গেছে, কফিনটিকে একটি ছোট কক্ষে রাখা হয়েছে, যার দেয়াল ইরানের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত।

খামেনির শেষ বিদায় ঘিরে যেসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ

শনিবার থেকে সোমবার (৪-৬ জুলাই) পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে তার মরদেহ রাখা হবে। সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর রাস্তাগুলো দিয়ে একটি বিশাল জানাজা মিছিল বের হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মিছিলটি তেহরান থেকে পবিত্র শহর কোমের দিকে অগ্রসর হয়। বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের বাইরে প্রতিবেশী ইরাকের ঐতিহাসিক পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায় নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) খামেনির মরদেহ তার নিজ শহর মাশহাদে দাফনের জন্য ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে ভয়াবহ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অভিযানের প্রথম দিনই স্ত্রী, পুত্রবধু এবং নাতিসহ নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি।

সূত্র: ফক্স নিউজ, রয়টার্স, আল জাজিরা

/জেএইচ/