‘ওই চরে হামার বাড়ি ছিলো, নদী নিয়া গেছে’

‘ওই চরে হামার বাড়ি ছিলো, নদী নিয়া গেছে’
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

‘হামার বাড়ি ৭ বার ভাংছি, যে একনা জমি ছিলো তাও এলা নদীর পেটত। ধার-দেনা করি মাইনষের জাগাত বাড়ি করছি। এলাতাও যদি নদী নিয়া যায় হামরা কোনটে যামো। হামরা চাই এটে সরকার বাঁধ বান্ধি দেউক।’ কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামগতি এলাকার বাসিন্দা রাহেদা খাতুন। তিস্তার করাল গ্রাসে তিনি ভিটেমাটি হারিয়েছেন। তার কপালে চিন্তার ভাঁজ। নদীপাড়ে বসে তিনি প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, কবে সরকার স্থায়ী বাঁধ নিমাণ করবে?
রাহেদার সঙ্গে কথা বলতে বলতে প্রতিবেদককে সরকারি লোক ভেবে ছুটে আসেন আবিয়া খাতুন। তিনি আবেদন জানান, তার নাম লিখে নেওয়ার জন্য। আবিয়া হাত দিয়ে দেখিয়ে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ওই চরে হামার বাড়ি ছিলো, জমি ছিলো কিন্তু সোগে নদী নিয়া গেছে। এলা থাকি এক সাগাইয়ের বাড়িত। নদী যে ডাক ছাড়ছে তাতে এবার যে কপালত কী আছে কাই জানে।’
নদী ভাঙনের এ আতঙ্ক শুধু রাহেদা ও আবিয়া খাতুনের নয়। জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার পাড়ের কয়েক লাখ বাসিন্দা একই আতঙ্কে ভুগছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা তিস্তা নদীর আববাহিকায় পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্ট, পাটেশ্বরী পয়েন্টে, দুধকুমার পয়েন্ট আর কুড়িগ্রামের ধরলা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। জেলার ৩৬টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ১নং রামহরি মৌজার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী, শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতবাড়ি তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা অন্যের জায়গায় এখন বসবাস করছেন। তাদের ভাষ্য, গত বছর বাড়ি ভাঙা হয়েছে, এবার তিস্তা সব নিয়ে গেলো।
জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝা ইউনিয়নের দুধকুমার নদপাড়ের বাসিন্দা আজিফা বেগম। তিনি এখন ব্যস্ত নিজের শেষ সম্বল বসতবাড়িটুকু বাঁচাতে। আজিফা বলেন, ‘গত দুদিনে এই এলাকার প্রায় ৩০টি বাড়ি ভেঙে গেছে। আমরা বাড়ি কি আর থাকবে? আমি চাই দুধকুমার পাড়ে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হউক।’
রব্বানী মিয়া তার ৬০ বছরের জীবনে বহুবার দেখেছেন তিস্তার করাল গ্রাস। তিনি বলেন, ‘মোর বাড়ি-ঘর, জমি সোগে তিস্তা নিয়া গেছে। বন্যা আইসে আর হামরা আল্লাহ আল্লাহ করি।’ তার দাবি, সরকার যেন খুব দ্রুত তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে।
নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েকদিন জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আপাতত জিও ব্যাগ ফেলছি। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন।

‘হামার বাড়ি ৭ বার ভাংছি, যে একনা জমি ছিলো তাও এলা নদীর পেটত। ধার-দেনা করি মাইনষের জাগাত বাড়ি করছি। এলাতাও যদি নদী নিয়া যায় হামরা কোনটে যামো। হামরা চাই এটে সরকার বাঁধ বান্ধি দেউক।’ কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামগতি এলাকার বাসিন্দা রাহেদা খাতুন। তিস্তার করাল গ্রাসে তিনি ভিটেমাটি হারিয়েছেন। তার কপালে চিন্তার ভাঁজ। নদীপাড়ে বসে তিনি প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, কবে সরকার স্থায়ী বাঁধ নিমাণ করবে?
রাহেদার সঙ্গে কথা বলতে বলতে প্রতিবেদককে সরকারি লোক ভেবে ছুটে আসেন আবিয়া খাতুন। তিনি আবেদন জানান, তার নাম লিখে নেওয়ার জন্য। আবিয়া হাত দিয়ে দেখিয়ে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ওই চরে হামার বাড়ি ছিলো, জমি ছিলো কিন্তু সোগে নদী নিয়া গেছে। এলা থাকি এক সাগাইয়ের বাড়িত। নদী যে ডাক ছাড়ছে তাতে এবার যে কপালত কী আছে কাই জানে।’
নদী ভাঙনের এ আতঙ্ক শুধু রাহেদা ও আবিয়া খাতুনের নয়। জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার পাড়ের কয়েক লাখ বাসিন্দা একই আতঙ্কে ভুগছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা তিস্তা নদীর আববাহিকায় পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্ট, পাটেশ্বরী পয়েন্টে, দুধকুমার পয়েন্ট আর কুড়িগ্রামের ধরলা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। জেলার ৩৬টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ১নং রামহরি মৌজার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী, শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতবাড়ি তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা অন্যের জায়গায় এখন বসবাস করছেন। তাদের ভাষ্য, গত বছর বাড়ি ভাঙা হয়েছে, এবার তিস্তা সব নিয়ে গেলো।
জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝা ইউনিয়নের দুধকুমার নদপাড়ের বাসিন্দা আজিফা বেগম। তিনি এখন ব্যস্ত নিজের শেষ সম্বল বসতবাড়িটুকু বাঁচাতে। আজিফা বলেন, ‘গত দুদিনে এই এলাকার প্রায় ৩০টি বাড়ি ভেঙে গেছে। আমরা বাড়ি কি আর থাকবে? আমি চাই দুধকুমার পাড়ে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হউক।’
রব্বানী মিয়া তার ৬০ বছরের জীবনে বহুবার দেখেছেন তিস্তার করাল গ্রাস। তিনি বলেন, ‘মোর বাড়ি-ঘর, জমি সোগে তিস্তা নিয়া গেছে। বন্যা আইসে আর হামরা আল্লাহ আল্লাহ করি।’ তার দাবি, সরকার যেন খুব দ্রুত তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে।
নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েকদিন জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আপাতত জিও ব্যাগ ফেলছি। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন।

‘ওই চরে হামার বাড়ি ছিলো, নদী নিয়া গেছে’
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

‘হামার বাড়ি ৭ বার ভাংছি, যে একনা জমি ছিলো তাও এলা নদীর পেটত। ধার-দেনা করি মাইনষের জাগাত বাড়ি করছি। এলাতাও যদি নদী নিয়া যায় হামরা কোনটে যামো। হামরা চাই এটে সরকার বাঁধ বান্ধি দেউক।’ কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামগতি এলাকার বাসিন্দা রাহেদা খাতুন। তিস্তার করাল গ্রাসে তিনি ভিটেমাটি হারিয়েছেন। তার কপালে চিন্তার ভাঁজ। নদীপাড়ে বসে তিনি প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, কবে সরকার স্থায়ী বাঁধ নিমাণ করবে?
রাহেদার সঙ্গে কথা বলতে বলতে প্রতিবেদককে সরকারি লোক ভেবে ছুটে আসেন আবিয়া খাতুন। তিনি আবেদন জানান, তার নাম লিখে নেওয়ার জন্য। আবিয়া হাত দিয়ে দেখিয়ে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ওই চরে হামার বাড়ি ছিলো, জমি ছিলো কিন্তু সোগে নদী নিয়া গেছে। এলা থাকি এক সাগাইয়ের বাড়িত। নদী যে ডাক ছাড়ছে তাতে এবার যে কপালত কী আছে কাই জানে।’
নদী ভাঙনের এ আতঙ্ক শুধু রাহেদা ও আবিয়া খাতুনের নয়। জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার পাড়ের কয়েক লাখ বাসিন্দা একই আতঙ্কে ভুগছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা তিস্তা নদীর আববাহিকায় পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্ট, পাটেশ্বরী পয়েন্টে, দুধকুমার পয়েন্ট আর কুড়িগ্রামের ধরলা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। জেলার ৩৬টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ১নং রামহরি মৌজার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী, শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতবাড়ি তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা অন্যের জায়গায় এখন বসবাস করছেন। তাদের ভাষ্য, গত বছর বাড়ি ভাঙা হয়েছে, এবার তিস্তা সব নিয়ে গেলো।
জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝা ইউনিয়নের দুধকুমার নদপাড়ের বাসিন্দা আজিফা বেগম। তিনি এখন ব্যস্ত নিজের শেষ সম্বল বসতবাড়িটুকু বাঁচাতে। আজিফা বলেন, ‘গত দুদিনে এই এলাকার প্রায় ৩০টি বাড়ি ভেঙে গেছে। আমরা বাড়ি কি আর থাকবে? আমি চাই দুধকুমার পাড়ে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হউক।’
রব্বানী মিয়া তার ৬০ বছরের জীবনে বহুবার দেখেছেন তিস্তার করাল গ্রাস। তিনি বলেন, ‘মোর বাড়ি-ঘর, জমি সোগে তিস্তা নিয়া গেছে। বন্যা আইসে আর হামরা আল্লাহ আল্লাহ করি।’ তার দাবি, সরকার যেন খুব দ্রুত তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে।
নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েকদিন জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আপাতত জিও ব্যাগ ফেলছি। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন।




