ইরানে মার্কিন হামলায় কি যুদ্ধাপরাধ হয়েছে, কি বলছে জাতিসংঘের প্রতিবেদন

ইরানে মার্কিন হামলায় কি যুদ্ধাপরাধ হয়েছে, কি বলছে জাতিসংঘের প্রতিবেদন
সিজেডএন ডেস্ক

ইরানে চালানো বিমান হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ‘বেপরোয়া’ আচরণ করেছে এবং এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পরমাণু আলোচনা যখন স্থবির হয়ে পড়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এই সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে তদন্ত চালানোর পর সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে এ চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল কেউই তদন্ত দলের সদস্যদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি কিংবা কোনো তথ্যের অনুরোধেও সাড়া দেয়নি। ফলে স্যাটেলাইট চিত্র, যাচাইকৃত ভিডিও, অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ এবং স্থানীয় সূত্র বা স্বাধীন সংস্থাগুলোর বিবরণের ওপর নির্ভর করেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

মিনাব ও ল্যামার্ডে যা ঘটেছিল
২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটার দিকে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাহারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। স্কুলটি ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি থাকলেও এটি একটি দেয়াল দিয়ে পুরোপুরি আলাদা করা ছিল। এর নিজস্ব গেট ছিল এবং স্যাটেলাইট চিত্রে শিশুদের আঁকা দেয়ালচিত্র, খেলার মাঠ ও সচল শ্রেণিকক্ষ স্পষ্ট দেখা গেছে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন স্কুলটিতে একবার নয়, দুবার হামলা হয়েছিল। প্রথম আঘাতটি করা হয় নিচতলায়। এরপর যখন শিক্ষক ও কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপরের তলার একটি প্রার্থনা কক্ষে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ওপরের তলায় আঘাত হানে, যার ফলে বহু শিশু প্রাণ হারায়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১২০ জন স্কুলছাত্র ও ২৬ জন নারী শিক্ষকসহ মোট ১৫৬ জন নিহত হয়েছেন। হামলার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন এগুলো মার্কিন টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল, যা ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে নেই।
একই দিনে বিকেলে ফার্স প্রদেশের ল্যামার্ডে অবস্থিত শহিদ হাজ খলিল নাইমি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সেও আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। জাতিসংঘ-নিযুক্ত মিশন জানিয়েছে, এ ক্রীড়া কমপ্লেক্সটির কোনো ধরনের সামরিক ব্যবহার ছিল না। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটে পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকায়, আর দ্বিতীয়টি সরাসরি আঘাত হানে এ কমপ্লেক্সের কেন্দ্রস্থলে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ৪ শিশুসহ মোট ২২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পাশেই অবস্থিত একটি স্কুলও এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যা বলেছে
মিনাবের স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন এই হামলার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারেনি। ১৯ মে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, পেন্টাগনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ ঘটনার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, কেউই ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে হামলা চালায়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভুলের কারণে সংলগ্ন সামরিক ঘাঁটির অংশ হিসেবে ভুলবশত স্কুলটিতে হামলা চালিয়েছিল পেন্টাগন।
তবে ল্যামার্ড হামলার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। সেন্টকমের দাবি, ওই হামলার পেছনে ইরানের নিজস্ব হোভেজেহ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হাত রয়েছে। যদিও জাতিসংঘ মিশন এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বরাতে তারা জানিয়েছে, নকশাগত পার্থক্যের কারণে হোভেজেহ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। বরং এটি মার্কিন প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের কাজ, যা এই প্রথমবার ইরানে ব্যবহারের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য
জাতিসংঘের প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে এর ফলাফলকে পুরোপুরি চ্যালেঞ্জ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ কয়েক দশক ধরে গুরুত্বহীন আবোলতাবোল বকে মানবাধিকারের জন্য কিছুই করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সংঘাতে একমাত্র যে পক্ষটি যুদ্ধাপরাধ করেছে, তা হলো ইরানি শাসকগোষ্ঠী, যারা নিজেদের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, বিদেশে আমেরিকানদের খুন করেছে, হরমুজ প্রণালীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং এই অঞ্চলে তাদের প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে নির্বিচার হামলা চালিয়েছে।’ এছাড়া তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এমন এক দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন যাতে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, যা পুরো বিশ্বকে নিরাপদ করবে।

এ ব্যাপারে ইরান যা বলছে
ল্যামার্ড হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ওই এলাকায় আঘাত হানার জন্য দায়ী ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন, কোনো ইরানি অস্ত্র নয়। একইসঙ্গে মিনাব ও ল্যামার্ডের এ ধ্বংসলীলাকে সাধারণ মানুষের ওপর ওয়াশিংটনের নির্বিচার ও নিষ্ঠুর হামলার বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে তারা। মিনাবের প্রসিকিউটর ইব্রাহিম তাহেরি এবং ল্যামার্ড কাউন্টি ক্রীড়া ও যুব বিভাগ পৃথকভাবে হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানিয়েছে, মিনাবে ১৫৬ এবং ল্যামার্ডে ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে যুদ্ধ চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছিল ইরান।
যুদ্ধাপরাধ বলতে কী বোঝায়
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর আগে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য করতে হবে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। মানবাধিকার আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ কমিশনের সদস্য রিড ব্রডি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ আইনের সব লঙ্ঘনই সরাসরি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না।
তিনি বলেন, যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রেই অভিপ্রায়ের একটি উপাদান থাকতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র জেনেশুনে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আঘাত হানার মানসিকতা নিয়েছিল, এমন অভিযোগ কেউ তুলছে না। তবে আসল মাপকাঠিটি হলো ‘বেপরোয়া মনোভাব’। কোনো বেআইনি কাজের মাধ্যমে মারাত্মক ও ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে তা জেনেও সেই অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে একে ‘ডোলাস ইভেনচুয়ালিস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নির্বিচার হামলা চালানোর যুদ্ধাপরাধ প্রমাণিত করার জন্য যথেষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্র কি কোনো শাস্তির মুখোমুখি হবে
এই প্রতিবেদনের ফলে সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয় কোনো আইনি শাস্তি বা পরিণতি আসার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন রিড ব্রডি। তবে তিনি মনে করেন যে এ ধরনের অনুসন্ধান পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার বা দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইসরায়েল মামলার মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিচার প্রক্রিয়ার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এখতিয়ার থেকে দূরে সরে আছে এবং ইরানেরও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এতে তাদের নিজেদের বিভিন্ন পদক্ষেপও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে- তাই শেষ পর্যন্ত আইনি কাঠামোর চেয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানে চালানো বিমান হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ‘বেপরোয়া’ আচরণ করেছে এবং এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পরমাণু আলোচনা যখন স্থবির হয়ে পড়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এই সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে তদন্ত চালানোর পর সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে এ চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল কেউই তদন্ত দলের সদস্যদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি কিংবা কোনো তথ্যের অনুরোধেও সাড়া দেয়নি। ফলে স্যাটেলাইট চিত্র, যাচাইকৃত ভিডিও, অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ এবং স্থানীয় সূত্র বা স্বাধীন সংস্থাগুলোর বিবরণের ওপর নির্ভর করেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

মিনাব ও ল্যামার্ডে যা ঘটেছিল
২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটার দিকে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাহারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। স্কুলটি ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি থাকলেও এটি একটি দেয়াল দিয়ে পুরোপুরি আলাদা করা ছিল। এর নিজস্ব গেট ছিল এবং স্যাটেলাইট চিত্রে শিশুদের আঁকা দেয়ালচিত্র, খেলার মাঠ ও সচল শ্রেণিকক্ষ স্পষ্ট দেখা গেছে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন স্কুলটিতে একবার নয়, দুবার হামলা হয়েছিল। প্রথম আঘাতটি করা হয় নিচতলায়। এরপর যখন শিক্ষক ও কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপরের তলার একটি প্রার্থনা কক্ষে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ওপরের তলায় আঘাত হানে, যার ফলে বহু শিশু প্রাণ হারায়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১২০ জন স্কুলছাত্র ও ২৬ জন নারী শিক্ষকসহ মোট ১৫৬ জন নিহত হয়েছেন। হামলার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন এগুলো মার্কিন টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল, যা ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে নেই।
একই দিনে বিকেলে ফার্স প্রদেশের ল্যামার্ডে অবস্থিত শহিদ হাজ খলিল নাইমি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সেও আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। জাতিসংঘ-নিযুক্ত মিশন জানিয়েছে, এ ক্রীড়া কমপ্লেক্সটির কোনো ধরনের সামরিক ব্যবহার ছিল না। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটে পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকায়, আর দ্বিতীয়টি সরাসরি আঘাত হানে এ কমপ্লেক্সের কেন্দ্রস্থলে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ৪ শিশুসহ মোট ২২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পাশেই অবস্থিত একটি স্কুলও এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যা বলেছে
মিনাবের স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন এই হামলার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারেনি। ১৯ মে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, পেন্টাগনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ ঘটনার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, কেউই ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে হামলা চালায়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভুলের কারণে সংলগ্ন সামরিক ঘাঁটির অংশ হিসেবে ভুলবশত স্কুলটিতে হামলা চালিয়েছিল পেন্টাগন।
তবে ল্যামার্ড হামলার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। সেন্টকমের দাবি, ওই হামলার পেছনে ইরানের নিজস্ব হোভেজেহ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হাত রয়েছে। যদিও জাতিসংঘ মিশন এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বরাতে তারা জানিয়েছে, নকশাগত পার্থক্যের কারণে হোভেজেহ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। বরং এটি মার্কিন প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের কাজ, যা এই প্রথমবার ইরানে ব্যবহারের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য
জাতিসংঘের প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে এর ফলাফলকে পুরোপুরি চ্যালেঞ্জ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ কয়েক দশক ধরে গুরুত্বহীন আবোলতাবোল বকে মানবাধিকারের জন্য কিছুই করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সংঘাতে একমাত্র যে পক্ষটি যুদ্ধাপরাধ করেছে, তা হলো ইরানি শাসকগোষ্ঠী, যারা নিজেদের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, বিদেশে আমেরিকানদের খুন করেছে, হরমুজ প্রণালীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং এই অঞ্চলে তাদের প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে নির্বিচার হামলা চালিয়েছে।’ এছাড়া তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এমন এক দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন যাতে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, যা পুরো বিশ্বকে নিরাপদ করবে।

এ ব্যাপারে ইরান যা বলছে
ল্যামার্ড হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ওই এলাকায় আঘাত হানার জন্য দায়ী ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন, কোনো ইরানি অস্ত্র নয়। একইসঙ্গে মিনাব ও ল্যামার্ডের এ ধ্বংসলীলাকে সাধারণ মানুষের ওপর ওয়াশিংটনের নির্বিচার ও নিষ্ঠুর হামলার বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে তারা। মিনাবের প্রসিকিউটর ইব্রাহিম তাহেরি এবং ল্যামার্ড কাউন্টি ক্রীড়া ও যুব বিভাগ পৃথকভাবে হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানিয়েছে, মিনাবে ১৫৬ এবং ল্যামার্ডে ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে যুদ্ধ চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছিল ইরান।
যুদ্ধাপরাধ বলতে কী বোঝায়
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর আগে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য করতে হবে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। মানবাধিকার আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ কমিশনের সদস্য রিড ব্রডি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ আইনের সব লঙ্ঘনই সরাসরি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না।
তিনি বলেন, যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রেই অভিপ্রায়ের একটি উপাদান থাকতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র জেনেশুনে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আঘাত হানার মানসিকতা নিয়েছিল, এমন অভিযোগ কেউ তুলছে না। তবে আসল মাপকাঠিটি হলো ‘বেপরোয়া মনোভাব’। কোনো বেআইনি কাজের মাধ্যমে মারাত্মক ও ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে তা জেনেও সেই অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে একে ‘ডোলাস ইভেনচুয়ালিস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নির্বিচার হামলা চালানোর যুদ্ধাপরাধ প্রমাণিত করার জন্য যথেষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্র কি কোনো শাস্তির মুখোমুখি হবে
এই প্রতিবেদনের ফলে সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয় কোনো আইনি শাস্তি বা পরিণতি আসার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন রিড ব্রডি। তবে তিনি মনে করেন যে এ ধরনের অনুসন্ধান পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার বা দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইসরায়েল মামলার মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিচার প্রক্রিয়ার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এখতিয়ার থেকে দূরে সরে আছে এবং ইরানেরও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এতে তাদের নিজেদের বিভিন্ন পদক্ষেপও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে- তাই শেষ পর্যন্ত আইনি কাঠামোর চেয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানে মার্কিন হামলায় কি যুদ্ধাপরাধ হয়েছে, কি বলছে জাতিসংঘের প্রতিবেদন
সিজেডএন ডেস্ক

ইরানে চালানো বিমান হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ‘বেপরোয়া’ আচরণ করেছে এবং এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পরমাণু আলোচনা যখন স্থবির হয়ে পড়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এই সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে তদন্ত চালানোর পর সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে এ চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল কেউই তদন্ত দলের সদস্যদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি কিংবা কোনো তথ্যের অনুরোধেও সাড়া দেয়নি। ফলে স্যাটেলাইট চিত্র, যাচাইকৃত ভিডিও, অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ এবং স্থানীয় সূত্র বা স্বাধীন সংস্থাগুলোর বিবরণের ওপর নির্ভর করেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

মিনাব ও ল্যামার্ডে যা ঘটেছিল
২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটার দিকে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাহারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। স্কুলটি ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি থাকলেও এটি একটি দেয়াল দিয়ে পুরোপুরি আলাদা করা ছিল। এর নিজস্ব গেট ছিল এবং স্যাটেলাইট চিত্রে শিশুদের আঁকা দেয়ালচিত্র, খেলার মাঠ ও সচল শ্রেণিকক্ষ স্পষ্ট দেখা গেছে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন স্কুলটিতে একবার নয়, দুবার হামলা হয়েছিল। প্রথম আঘাতটি করা হয় নিচতলায়। এরপর যখন শিক্ষক ও কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপরের তলার একটি প্রার্থনা কক্ষে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ওপরের তলায় আঘাত হানে, যার ফলে বহু শিশু প্রাণ হারায়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১২০ জন স্কুলছাত্র ও ২৬ জন নারী শিক্ষকসহ মোট ১৫৬ জন নিহত হয়েছেন। হামলার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন এগুলো মার্কিন টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল, যা ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে নেই।
একই দিনে বিকেলে ফার্স প্রদেশের ল্যামার্ডে অবস্থিত শহিদ হাজ খলিল নাইমি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সেও আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। জাতিসংঘ-নিযুক্ত মিশন জানিয়েছে, এ ক্রীড়া কমপ্লেক্সটির কোনো ধরনের সামরিক ব্যবহার ছিল না। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটে পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকায়, আর দ্বিতীয়টি সরাসরি আঘাত হানে এ কমপ্লেক্সের কেন্দ্রস্থলে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ৪ শিশুসহ মোট ২২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পাশেই অবস্থিত একটি স্কুলও এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যা বলেছে
মিনাবের স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন এই হামলার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারেনি। ১৯ মে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, পেন্টাগনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ ঘটনার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সংযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, কেউই ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে হামলা চালায়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভুলের কারণে সংলগ্ন সামরিক ঘাঁটির অংশ হিসেবে ভুলবশত স্কুলটিতে হামলা চালিয়েছিল পেন্টাগন।
তবে ল্যামার্ড হামলার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। সেন্টকমের দাবি, ওই হামলার পেছনে ইরানের নিজস্ব হোভেজেহ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হাত রয়েছে। যদিও জাতিসংঘ মিশন এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বরাতে তারা জানিয়েছে, নকশাগত পার্থক্যের কারণে হোভেজেহ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। বরং এটি মার্কিন প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের কাজ, যা এই প্রথমবার ইরানে ব্যবহারের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য
জাতিসংঘের প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে এর ফলাফলকে পুরোপুরি চ্যালেঞ্জ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ কয়েক দশক ধরে গুরুত্বহীন আবোলতাবোল বকে মানবাধিকারের জন্য কিছুই করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সংঘাতে একমাত্র যে পক্ষটি যুদ্ধাপরাধ করেছে, তা হলো ইরানি শাসকগোষ্ঠী, যারা নিজেদের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, বিদেশে আমেরিকানদের খুন করেছে, হরমুজ প্রণালীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং এই অঞ্চলে তাদের প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে নির্বিচার হামলা চালিয়েছে।’ এছাড়া তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এমন এক দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন যাতে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, যা পুরো বিশ্বকে নিরাপদ করবে।

এ ব্যাপারে ইরান যা বলছে
ল্যামার্ড হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ওই এলাকায় আঘাত হানার জন্য দায়ী ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন, কোনো ইরানি অস্ত্র নয়। একইসঙ্গে মিনাব ও ল্যামার্ডের এ ধ্বংসলীলাকে সাধারণ মানুষের ওপর ওয়াশিংটনের নির্বিচার ও নিষ্ঠুর হামলার বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে তারা। মিনাবের প্রসিকিউটর ইব্রাহিম তাহেরি এবং ল্যামার্ড কাউন্টি ক্রীড়া ও যুব বিভাগ পৃথকভাবে হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানিয়েছে, মিনাবে ১৫৬ এবং ল্যামার্ডে ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে যুদ্ধ চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছিল ইরান।
যুদ্ধাপরাধ বলতে কী বোঝায়
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর আগে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য করতে হবে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। মানবাধিকার আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ কমিশনের সদস্য রিড ব্রডি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ আইনের সব লঙ্ঘনই সরাসরি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না।
তিনি বলেন, যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রেই অভিপ্রায়ের একটি উপাদান থাকতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র জেনেশুনে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আঘাত হানার মানসিকতা নিয়েছিল, এমন অভিযোগ কেউ তুলছে না। তবে আসল মাপকাঠিটি হলো ‘বেপরোয়া মনোভাব’। কোনো বেআইনি কাজের মাধ্যমে মারাত্মক ও ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে তা জেনেও সেই অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে একে ‘ডোলাস ইভেনচুয়ালিস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নির্বিচার হামলা চালানোর যুদ্ধাপরাধ প্রমাণিত করার জন্য যথেষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্র কি কোনো শাস্তির মুখোমুখি হবে
এই প্রতিবেদনের ফলে সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয় কোনো আইনি শাস্তি বা পরিণতি আসার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন রিড ব্রডি। তবে তিনি মনে করেন যে এ ধরনের অনুসন্ধান পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার বা দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইসরায়েল মামলার মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিচার প্রক্রিয়ার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এখতিয়ার থেকে দূরে সরে আছে এবং ইরানেরও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এতে তাদের নিজেদের বিভিন্ন পদক্ষেপও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে- তাই শেষ পর্যন্ত আইনি কাঠামোর চেয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।
সূত্র: আল জাজিরা









