সৌদি আরব কেন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান চায়, যুক্তরাষ্ট্র কি বিক্রি করবে

সৌদি আরব কেন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান চায়, যুক্তরাষ্ট্র কি বিক্রি করবে
সিজেডএন ডেস্ক

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারের এ বিশাল সামরিক চুক্তি কেবল রিয়াদের সামরিক শক্তিই বাড়াবে না, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরব বহু বছর ধরে এই যুদ্ধবিমানগুলো কেনার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ইসরায়েলের আপত্তির কারণে আগের কয়েকটি মার্কিন প্রশাসন তাতে সায় দেয়নি। তবে গত বছরের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর বরফ গলতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে কাজ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ।

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান
মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘লকহিড মার্টিন’-এর তৈরি এফ-৩৫ হলো বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ও আধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যার আনুষ্ঠানিক নাম ‘এফ-৩৫ লাইটনিং টু’। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওয়েবসাইটে এটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান’ হিসেবে অভিহিত করেছে। শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা না পড়ার ক্ষমতা একে অন্যরকম উচ্চতা দিয়েছে। আক্রমণ করার আগেই শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দিতে পারে এ স্টেলথ জেট। বিমানটি তৈরি করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ের মতো দেশগুলো অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে।
এফ-৩৫ এর বৈচিত্র্যময় সংস্করণ
এ যুদ্ধবিমানের মূলত তিনটি প্রধান সংস্করণ রয়েছে- এফ-৩৫এ, এফ-৩৫বি এবং এফ-৩৫সি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মডেলটি হলো এফ-৩৫এ। এটি সাধারণ রানওয়ে থেকে অনায়াসে উড়তে ও নামতে পারে। স্টেলথ সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে এর অস্ত্র ও জ্বালানি বিমানের ভেতরেই সংরক্ষণ করা হয়।
এ মডেলেরই একটি বিশেষ সংস্করণ রয়েছে ইসরায়েলের জন্য, যার নাম এফ-৩৫আই বা ‘আদির’। ইসরায়েলি প্রযুক্তি ও জ্যামিং ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি এ মডেলে নিজস্ব অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, এফ-৩৫বি সংস্করণটি হেলিকপ্টারের মতো প্রায় উল্লম্বভাবে ওঠানামা করতে পারে এবং খুবই ছোট রানওয়ে থেকে চালনার উপযোগী। ফলে সীমিত জায়গার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।
আর এফ-৩৫সি হলো মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বিশেষভাবে তৈরি সুপারসনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যা বিশাল বিমানবাহী রণতরি থেকে পরিচালিত হয়।
অন্য সব যুদ্ধবিমান থেকে আলাদা
লকহিড মার্টিনের দাবি অনুযায়ী, এফ-৩৫ হলো ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী, টিকে থাকার সক্ষমতাসম্পন্ন এবং সংযুক্ত যুদ্ধবিমান’। এর আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর অত্যাধুনিক সেন্সর, স্টেলথ প্রযুক্তি এবং উচ্চগতির কম্পিউটিং সিস্টেমের নিখুঁত সমন্বয়ে। এর ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ও সেন্সরগুলো থেকে মুহূর্তেই তথ্য পৌঁছে যায় পাইলটের কাছে। ফলে এটি কেবল একটি আক্রমণকারী যুদ্ধবিমানই নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের এক অভাবনীয় হাব। এ বিমান ব্যবহারের ফলে যেকোনো দেশের আকাশযুদ্ধ পরিচালনার ধারণাই সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে, যেখানে কেবল গতি নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বই শেষ কথা বলে।

সৌদি আরব কেন এফ-৩৫ চায়?
সৌদি আরব দীর্ঘসময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ক্রেতা। কিন্তু এখনো দেশটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। এ সুযোগ পেলে দেশটি তাদের বিমান বাহিনীকে আরও উন্নত করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান অনেক শক্তিশালী করতে পারত। যদিও বর্তমানে ইরানের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক ইতিবাচক, তবুও অতীতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া এবং একে অপরকে হুমকি হিসেবে গণ্য করার ইতিহাস রয়েছে। এ ছাড়া, সৌদি আরব অতীতে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো অমীমাংসিত রয়েছে এবং বর্তমানে তা আবার নতুন করে সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
কোন কোন দেশের এফ-৩৫ রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, কানাডা এবং ইসরায়েলের মতো দেশের বিমানবাহিনীতে বর্তমানে এফ-৩৫ নিয়মিত সেবা দিচ্ছে। এখন এ অভিজাত ক্লাবেই যুক্ত হতে চলেছে সৌদি আরব, যা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষার মানচিত্রকেই নতুন করে এঁকে দেবে।
সূত্র: আল জাজিরা

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারের এ বিশাল সামরিক চুক্তি কেবল রিয়াদের সামরিক শক্তিই বাড়াবে না, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরব বহু বছর ধরে এই যুদ্ধবিমানগুলো কেনার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ইসরায়েলের আপত্তির কারণে আগের কয়েকটি মার্কিন প্রশাসন তাতে সায় দেয়নি। তবে গত বছরের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর বরফ গলতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে কাজ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ।

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান
মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘লকহিড মার্টিন’-এর তৈরি এফ-৩৫ হলো বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ও আধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যার আনুষ্ঠানিক নাম ‘এফ-৩৫ লাইটনিং টু’। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওয়েবসাইটে এটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান’ হিসেবে অভিহিত করেছে। শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা না পড়ার ক্ষমতা একে অন্যরকম উচ্চতা দিয়েছে। আক্রমণ করার আগেই শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দিতে পারে এ স্টেলথ জেট। বিমানটি তৈরি করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ের মতো দেশগুলো অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে।
এফ-৩৫ এর বৈচিত্র্যময় সংস্করণ
এ যুদ্ধবিমানের মূলত তিনটি প্রধান সংস্করণ রয়েছে- এফ-৩৫এ, এফ-৩৫বি এবং এফ-৩৫সি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মডেলটি হলো এফ-৩৫এ। এটি সাধারণ রানওয়ে থেকে অনায়াসে উড়তে ও নামতে পারে। স্টেলথ সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে এর অস্ত্র ও জ্বালানি বিমানের ভেতরেই সংরক্ষণ করা হয়।
এ মডেলেরই একটি বিশেষ সংস্করণ রয়েছে ইসরায়েলের জন্য, যার নাম এফ-৩৫আই বা ‘আদির’। ইসরায়েলি প্রযুক্তি ও জ্যামিং ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি এ মডেলে নিজস্ব অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, এফ-৩৫বি সংস্করণটি হেলিকপ্টারের মতো প্রায় উল্লম্বভাবে ওঠানামা করতে পারে এবং খুবই ছোট রানওয়ে থেকে চালনার উপযোগী। ফলে সীমিত জায়গার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।
আর এফ-৩৫সি হলো মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বিশেষভাবে তৈরি সুপারসনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যা বিশাল বিমানবাহী রণতরি থেকে পরিচালিত হয়।
অন্য সব যুদ্ধবিমান থেকে আলাদা
লকহিড মার্টিনের দাবি অনুযায়ী, এফ-৩৫ হলো ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী, টিকে থাকার সক্ষমতাসম্পন্ন এবং সংযুক্ত যুদ্ধবিমান’। এর আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর অত্যাধুনিক সেন্সর, স্টেলথ প্রযুক্তি এবং উচ্চগতির কম্পিউটিং সিস্টেমের নিখুঁত সমন্বয়ে। এর ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ও সেন্সরগুলো থেকে মুহূর্তেই তথ্য পৌঁছে যায় পাইলটের কাছে। ফলে এটি কেবল একটি আক্রমণকারী যুদ্ধবিমানই নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের এক অভাবনীয় হাব। এ বিমান ব্যবহারের ফলে যেকোনো দেশের আকাশযুদ্ধ পরিচালনার ধারণাই সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে, যেখানে কেবল গতি নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বই শেষ কথা বলে।

সৌদি আরব কেন এফ-৩৫ চায়?
সৌদি আরব দীর্ঘসময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ক্রেতা। কিন্তু এখনো দেশটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। এ সুযোগ পেলে দেশটি তাদের বিমান বাহিনীকে আরও উন্নত করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান অনেক শক্তিশালী করতে পারত। যদিও বর্তমানে ইরানের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক ইতিবাচক, তবুও অতীতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া এবং একে অপরকে হুমকি হিসেবে গণ্য করার ইতিহাস রয়েছে। এ ছাড়া, সৌদি আরব অতীতে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো অমীমাংসিত রয়েছে এবং বর্তমানে তা আবার নতুন করে সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
কোন কোন দেশের এফ-৩৫ রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, কানাডা এবং ইসরায়েলের মতো দেশের বিমানবাহিনীতে বর্তমানে এফ-৩৫ নিয়মিত সেবা দিচ্ছে। এখন এ অভিজাত ক্লাবেই যুক্ত হতে চলেছে সৌদি আরব, যা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষার মানচিত্রকেই নতুন করে এঁকে দেবে।
সূত্র: আল জাজিরা

সৌদি আরব কেন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান চায়, যুক্তরাষ্ট্র কি বিক্রি করবে
সিজেডএন ডেস্ক

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারের এ বিশাল সামরিক চুক্তি কেবল রিয়াদের সামরিক শক্তিই বাড়াবে না, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরব বহু বছর ধরে এই যুদ্ধবিমানগুলো কেনার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ইসরায়েলের আপত্তির কারণে আগের কয়েকটি মার্কিন প্রশাসন তাতে সায় দেয়নি। তবে গত বছরের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর বরফ গলতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে কাজ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ।

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান
মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘লকহিড মার্টিন’-এর তৈরি এফ-৩৫ হলো বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ও আধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যার আনুষ্ঠানিক নাম ‘এফ-৩৫ লাইটনিং টু’। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওয়েবসাইটে এটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান’ হিসেবে অভিহিত করেছে। শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা না পড়ার ক্ষমতা একে অন্যরকম উচ্চতা দিয়েছে। আক্রমণ করার আগেই শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দিতে পারে এ স্টেলথ জেট। বিমানটি তৈরি করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ের মতো দেশগুলো অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে।
এফ-৩৫ এর বৈচিত্র্যময় সংস্করণ
এ যুদ্ধবিমানের মূলত তিনটি প্রধান সংস্করণ রয়েছে- এফ-৩৫এ, এফ-৩৫বি এবং এফ-৩৫সি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মডেলটি হলো এফ-৩৫এ। এটি সাধারণ রানওয়ে থেকে অনায়াসে উড়তে ও নামতে পারে। স্টেলথ সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে এর অস্ত্র ও জ্বালানি বিমানের ভেতরেই সংরক্ষণ করা হয়।
এ মডেলেরই একটি বিশেষ সংস্করণ রয়েছে ইসরায়েলের জন্য, যার নাম এফ-৩৫আই বা ‘আদির’। ইসরায়েলি প্রযুক্তি ও জ্যামিং ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি এ মডেলে নিজস্ব অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, এফ-৩৫বি সংস্করণটি হেলিকপ্টারের মতো প্রায় উল্লম্বভাবে ওঠানামা করতে পারে এবং খুবই ছোট রানওয়ে থেকে চালনার উপযোগী। ফলে সীমিত জায়গার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।
আর এফ-৩৫সি হলো মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বিশেষভাবে তৈরি সুপারসনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যা বিশাল বিমানবাহী রণতরি থেকে পরিচালিত হয়।
অন্য সব যুদ্ধবিমান থেকে আলাদা
লকহিড মার্টিনের দাবি অনুযায়ী, এফ-৩৫ হলো ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী, টিকে থাকার সক্ষমতাসম্পন্ন এবং সংযুক্ত যুদ্ধবিমান’। এর আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর অত্যাধুনিক সেন্সর, স্টেলথ প্রযুক্তি এবং উচ্চগতির কম্পিউটিং সিস্টেমের নিখুঁত সমন্বয়ে। এর ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ও সেন্সরগুলো থেকে মুহূর্তেই তথ্য পৌঁছে যায় পাইলটের কাছে। ফলে এটি কেবল একটি আক্রমণকারী যুদ্ধবিমানই নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের এক অভাবনীয় হাব। এ বিমান ব্যবহারের ফলে যেকোনো দেশের আকাশযুদ্ধ পরিচালনার ধারণাই সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে, যেখানে কেবল গতি নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বই শেষ কথা বলে।

সৌদি আরব কেন এফ-৩৫ চায়?
সৌদি আরব দীর্ঘসময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ক্রেতা। কিন্তু এখনো দেশটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। এ সুযোগ পেলে দেশটি তাদের বিমান বাহিনীকে আরও উন্নত করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান অনেক শক্তিশালী করতে পারত। যদিও বর্তমানে ইরানের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক ইতিবাচক, তবুও অতীতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া এবং একে অপরকে হুমকি হিসেবে গণ্য করার ইতিহাস রয়েছে। এ ছাড়া, সৌদি আরব অতীতে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো অমীমাংসিত রয়েছে এবং বর্তমানে তা আবার নতুন করে সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
কোন কোন দেশের এফ-৩৫ রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, কানাডা এবং ইসরায়েলের মতো দেশের বিমানবাহিনীতে বর্তমানে এফ-৩৫ নিয়মিত সেবা দিচ্ছে। এখন এ অভিজাত ক্লাবেই যুক্ত হতে চলেছে সৌদি আরব, যা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষার মানচিত্রকেই নতুন করে এঁকে দেবে।
সূত্র: আল জাজিরা









