ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটকে সমর্থন বিরোধীদের

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটকে সমর্থন বিরোধীদের
ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে বিদায় জানিয়ে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গড়ার লক্ষ্যে এক ছাতার নিচে দেশটির প্রধান বিরোধী দলগুলো। নতুন সরকার গঠনে তারা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর তেল আবিবের পার্শ্ববর্তী শহর হার্জলিয়ায় প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা। ১২০ আসনের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো জোটই না পাওয়ায় বর্তমানে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বিরোধী জোটের এ বৈঠক শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিরোধী দলগুলো প্রেসিডেন্ট হারজগের কাছে ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের রূপরেখা ও জোটের শর্তাবলী তৈরিতে দলগুলোর প্রতিনিধিরা অবিলম্বে কাজ শুরু করছেন।

জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, এ বৈঠকে আইজেনকট ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইসরায়েল বেইতেনুর আভিগদর লিবারম্যান, ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান এবং ইয়েশ আতিদের শীর্ষ নেতা ইয়ার লাপিদ।

বৈঠকে আইজেনকটের তুলে ধরা চারটি মূল নীতিতে সায় দিয়েছেন সব নেতা। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো- সরকারের অংশ হতে হলে ইসরায়েলকে স্পষ্টভাবে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে হবে এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকার করতে হবে।

তবে এ সমঝোতার পরও কৌশলগত কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। নেসেটে থাকা আরব দলগুলোকে এ জোটে টানা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। অথচ নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে এ দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আইজেনকটের দেওয়া শর্তের কারণে আরব দলগুলোর পক্ষে এ প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের হাতে অপচয় করার মতো একেবারেই সময় নেই। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/