নির্বাচনে ভরাডুবির পর ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে ট্রাম্পের মিত্ররা

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
নির্বাচনে ভরাডুবির পর ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে ট্রাম্পের মিত্ররা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সুর শোনা গেছে দলটির কট্টর ইরানবিরোধী সিনেটর টেড ক্রুজের গলাতেও।

বুধবার এক্সে দেওয়া এক লম্বা পোস্টে ভ্যান্স লিখেছেন, আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও এ কথা বলেছেন। তার মতে, এ যুদ্ধের রাজনৈতিক মাশুল কতটা ভারী হয়েছে, এখন সেটাই হিসাব করে দেখার সময়। এমনকি আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টিকেও এই যুদ্ধের ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, নিজের পডকাস্টে টেড ক্রুজ বলেছেন, ইরান যুদ্ধ আরও ছোট, দ্রুত ও চূড়ান্ত ফলাফলের মাধ্যমে শেষ হওয়া উচিত ছিল। তার মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে কোনো অবস্থাতেই হাজার হাজার কোটি ডলার দেওয়া ঠিক হবে না। উল্লেখ্য, গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া এক সমঝোতায় যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গড়ার প্রস্তাব ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৮ সালের হোয়াইট হাউসের লড়াই সামনে রেখেই রিপাবলিকান নেতারা এখন থেকেই নিজেদের মাঠ গোছাচ্ছেন। যেহেতু ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের আর লড়ার সুযোগ নেই, তাই জেডি ভ্যান্স কিংবা ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের মতো হেভিওয়েটরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পোক্ত করতে ব্যস্ত। ভ্যান্স মূলত দলের ভেতরের যুদ্ধবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। উল্টো দিকে, ক্রুজের মতো কট্টরপন্থীরা যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্যের চেয়ে এর দীর্ঘসূত্রতা আর পরিচালনার ধরণ নিয়ে বেশি প্রশ্ন তুলছেন। এদিকে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা হাত দেওয়ার পর থেকেই এই যুদ্ধে বাজেট আটকাতে তৎপর হয়ে উঠেছে। সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলনেতা চাক শুমার জানিয়েছেন, যুদ্ধ যেকোনো মূল্যে থামা উচিত। কংগ্রেসম্যান রো খান্না তো ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের ফান্ডিং বন্ধেরই প্রস্তাব দিয়ে বসেছেন। সেই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর তদন্ত।

তবে রাজনৈতিক চাপ যতই বাড়ুক না কেন, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি পুরোপুরি থামায়নি পেন্টাগন। নির্বাচনের দিনই হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনারা। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তিনটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের পর্দার পেছনের আলোচনাও থেমে নেই। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই পক্ষই আলোচনার টেবিলে থাকতে রাজি আছে। তবে নতুন করে কোনো হামলা হলে ইরান চুপ করে বসে থাকবে না, সে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে দেশটি।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/