শিরোনাম

সৌদি আরবে হুথিদের ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ৭৩

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সৌদি আরবে হুথিদের ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ৭৩
সৌদি আরবে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় চার জেলা- আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান এবং নাজরানের সাধারণ জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।

ইরানের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠীর এ হামলায় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাদশাহ খালিদ বিমান ঘাঁটি এবং আবহা ও জাজানে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর বেশ কয়েকটি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পরপরই বিমানবন্দর ও আরামকোর কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। ২০২২ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর সৌদি আরবের ভূখণ্ডে এটিই হুথিদের সবচেয়ে বড় আঘাত।

ঘটনার পর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছে সৌদি আরব।

অন্যদিকে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি এ পদক্ষেপকে চরম উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে। এটা বিপজ্জনক উসকানি এবং সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের ওপর নির্লজ্জ হামলা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ হামলার জবাব দিতে এবং সৌদি নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছি’।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর এ দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে পরের বছরই রাজধানী সানা দখল করে নেয় সশস্ত্র হুথিরা। তখন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে গেলে তাকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি ও ইয়েমেনি বাহিনী। বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের নিয়ন্ত্রণে, আর বাকি অংশ পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল। ২০২২ সালের চুক্তির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও জুলাইয়ে সানার বিমানবন্দরে হামলার পর দুই মেরুর তিক্ততা আবার বাড়তে থাকে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত একটি কারাগারে সৌদি জোটের হামলায় ১১ জন কয়েদি নিহত হওয়ার পরপরই এই পাল্টা আঘাত হানে হুথিরা।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/