ফ্লাই দুবাইয়ের ঘটনা

যারা সহ-পাইলটকে পাঠিয়েছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে: নেতানিয়াহু

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যারা সহ-পাইলটকে পাঠিয়েছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে: নেতানিয়াহু
ফ্লাই দুবাইয়ের একটি বিমান ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ইনসেটে)। কোলাজ: সিজিডএন টোয়েন্টিফোর

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ওড়ার পর মাঝআকাশে ঘটা আকস্মিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় বিমানটি।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সময় যত গড়াচ্ছে, চিত্রটি তত স্পষ্ট হচ্ছে। ইয়ানিভ এবং তার সঙ্গীরা ৯/১১-এর মতো একটি বিপর্যয় প্রতিরোধ করেছেন। হামলাকারী ইসলামপন্থী চরমপন্থায় দীক্ষিত ছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রীসহ বিমানটি বিধ্বস্ত করা। তিনি আরও যোগ করেন, তাকে পাঠানো হয়েছিল কি না, আমরা তা খতিয়ে দেখছি এবং যে বা যারা তাকে পাঠিয়েছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। বিমানটি আকাশে থাকা অবস্থায় সহ-পাইলটকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ ওঠে। ওই পরিস্থিতিতে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪,০০০ ফুট নিচে নেমে যায়। তবে চরম বিপদের মুখেও অনন্য সাহসিকতার পরিচয় দেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড়। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। ফলে যাত্রীরা দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে আক্রমণকারীকে কাবু করে ফেলেন। এরপর বিমানে থাকা ফ্লাই দুবাইয়ের অফ ডিউটিতে থাকা অন্য দুই পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।

এর আগে এ বিষয়ে নেতানিয়াহু জানান, হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ইসরায়েলি তদন্তকারীরাও অংশ নিচ্ছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আক্রমণকারী, সহ-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত যা জানতে পেরেছি তা হলো, সে ইসলামপন্থী চরমপন্থী মতাদর্শে দীক্ষিত হয়েছিল। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটা জানা গেছে যে আক্রমণকারী আত্মহত্যাপ্রবণ ছিল। নেতানিয়াহুর জানান, ‘তিনি (সহ-পাইলট) মেঝেতে শুয়ে ছিলেন এবং ক্রুদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলছিলেন, আমাকে মেরে ফেলো, আমাকে মেরে ফেলো।’

তবে ঘটনার আসল উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কোনো বহিরাগত হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ককপিটের ই ঘটনাকে একটি বিপজ্জনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

পাইলট স্মিত মাচ্ছাড়কে প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি বলেন, ফ্লাই দুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছাড় সর্বোচ্চ প্রশংসার যোগ্য, কারণ একটি বিপজ্জনক সন্ত্রাসী হামলা ও সম্ভাব্য বিপর্যয়ের মোকাবিলা করার সময় তিনি সাহস ও দায়িত্ববোধের প্রকৃত অর্থকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহের অবকাশই নেই।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

/এমএকে/