হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে: ইরানি জেনারেল

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে: ইরানি জেনারেল
হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষতি সাধনের দাবি ইরানের

সাম্প্রতিক সংঘাতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর বড় ধরনের ক্ষতিসাধনের দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তি ও দুর্বলতা উন্মোচিত হয়েছে এবং ওয়াশিংটন এখন সম্পূর্ণভাবে একটি প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানে চলে গেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও প্রকাশনা বিষয়ক কাউন্সিল’-এর এক সভায় এ দাবি করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিউমার্স হায়দারি। তার মতে, বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের পুরো গতিপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে।

হায়দারি বলেন, কোনো রক্ষণশীল পক্ষ যদি আক্রমণকারীকে তার নির্ধারিত সময় ও স্থানে লক্ষ্য অর্জন করতে বাধা দিতে পারে, তবে সে পক্ষকেই বিজয়ী হিসেবে গণ্য করা হয়। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক তেমনই। যে শত্রু একসময় ইসলামি শাসনব্যবস্থা উৎখাতের স্বপ্ন দেখত, তারা এখন যুদ্ধক্ষেত্রে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় এবং কেবল প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হচ্ছে।

এ জ্যেষ্ঠ ইরানি কমান্ডার বলেন, মার্কিন সামরিক শক্তির মূল ভিত্তি হলো তাদের শক্তিশালী নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজ। কিন্তু কিছুদিন আগে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি মার্কিন ভারী যুদ্ধজাহাজ ও ফ্রিগেটগুলোতে আঘাত হেনে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। এ হামলার কারণেই মার্কিন বাহিনী বাধ্য হয়েছে ইরান থেকে অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে যেতে।

হায়দারি আরও বলেন, বিশ্বের বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় পায় এবং সামরিক সংঘাত তো দূরের কথা, দেশটির নাম উচ্চারণ করতেও তাদের বুক কাঁপে। কিন্তু ইরান সমস্ত ভয় ও প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে মার্কিন শক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক বেশ কয়েকটি দেশের প্রকাশ্য সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ইরান যেভাবে সামরিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে চলেছে, তা প্রতিপক্ষের হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নানা কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি নিজস্ব প্রযুক্তি ও সক্ষমতার ওপর ভর করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

শত্রুর যেকোনো উদ্ধত পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব হিসেবে ইরান নিয়মিত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের এ সামরিক সক্ষমতা প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি বিস্মিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন এ সামরিক কর্মকর্তা। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন হায়দারি। তিনি বলেন, এ যুদ্ধ যদি চলতেই থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের সামনে মাত্র দুটি পথ খোলা থাকবে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মার্কিন সেনাদের একটি অংশ যুদ্ধজাহাজে করে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবে, আর বাকিদের কপালে সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে যাওয়ার পরিণতি অপেক্ষা করছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

/এমএকে/