
সিটিজেন ডেস্ক


প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলা বন্ধে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত। এসময় এই হামলাকে ইরানের কৌশলগত ভুল বলেও বর্ণনা করেন তিনি।
এক বিবৃতিতে তিনি জানান, চলমান হামলাগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রতিবেশীদের সঙ্গে ‘অভূতপূর্ব বৈরী সম্পর্ক’ পরিস্থিতি আরও গভীর করছে।
এসময় তিনি এ ধরনের হামলাকে ‘কৌশলগত ভুল’ আখ্যা দিয়ে তেহরানের প্রতি হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ইরানকে অবশ্যই হুঁশে ফিরতে হবে।’
২২ সদস্যের আরব লীগ আঞ্চলিক সহযোগিতা উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। তবে সংস্থাটিকে ব্যাপকভাবে অকার্যকর হিসেবে দেখা হয় এবং বিভিন্ন সংঘাত সমাধানে দীর্ঘদিন ধরেই এটি হিমশিম খাচ্ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, আজ সকালে তাদের নৌবাহিনী উত্তর উপসাগরে একটি মার্কিন ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে।
আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক–বাণিজ্যিক জাহাজকে এই পথে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
আইআরজিসি বলেছে, ‘এ ধরনের কোনো জাহাজ দেখা গেলে অবশ্যই তা লক্ষ্য করে আঘাত হানা হবে।’
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি আরও বলেছে, তারা আগেই জানিয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুদ্ধের সময়ে হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার ইরানের রয়েছে। সূত্র: বিবিসি ও আল–জাজিরা

শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) দূরে ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ‘আইরিশ দেনা’ থেকে সাহায্যের বার্তা পাওয়ার পর মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনী বত্রিশ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে।
উদ্ধারকারী দল জীবিতদের খুঁজে বের করার জন্য সাগরে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু তারা জানিয়েছে যে ফ্রিগেট বা ধ্বংসাবশেষের কোনও দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন একটি ফ্রিগেটে টর্পেডো দিয়ে আঘাত করেছে।
দেনা এবং অন্যান্য ইরানি জাহাজগুলি ভারতের বিশাখাপত্তনমে ৫৪টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ ২০২৬ থেকে ফিরছিল।
ঘটনাস্থল থেকে ৮০ টিরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্যালের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতদেহগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে, তারা ইরানের কোম শহরে রাতভর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, ‘ওই শহর থেকে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।’
একইসাথে, ইসফাহান শহরে একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও ‘হামলা’ করেছে ইসরায়েল।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে এই দুই নেতাই সমর্থন করেছেন। তারা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি হওয়া উচিত নয়।
ক্যানবেরায় সফররত কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্ব উত্তেজনা নিরসন দেখতে চায় ... আমরা দেখছি যে, উপসাগরীয় দেশগুলোর যারা এর সাথে জড়িত ছিল না তারাও হামলার শিকার হচ্ছে। এমনকি বেসামরিক এবং পর্যটন এলাকাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য অর্জনও দেখতে চাই।’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মতো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিরসনে একই সুরে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মধ্যে শত্রুতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা স্বীকার করি আমরা। তবে বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করা দরকার। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে এগুলো প্রয়োজনীয় শর্ত।’

ইরানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে আঘাত না করতাম, তাহলে তারা একটি পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত। পাগলাটে মানুষদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে খারাপ কিছু ঘটে।’
হোয়াইট হাউসে এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কথা বলেন।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র মহাপরিচালক মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, সংস্থাটি এ বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারছে না।
তিনি বলেন, ‘ইরান পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে— এমন কোনো প্রমাণ না থাকলেও প্রায় অস্ত্রমাত্রার কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় মজুদ এবং আমার পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার না দেওয়া গভীর উদ্বেগের কারণ।’

কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে কাতার সরকার। হামলা থেকে বাসিন্দাদের বাঁচাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সরানো শুরু হয়েছে।
এক্স পোস্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে যাঁদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের জন্য উপযুক্ত বাসস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনা নিশানা করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস হামলার শিকার হয়।
এ ছাড়া দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেটেও হামলা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে কাতারের দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সরানো হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি