শিরোনাম

আব্বাস আরাঘচি

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজে হামলা চালাবে না ইরান

সিটিজেন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজে হামলা চালাবে না ইরান
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ৬টি দেশের জাহাজে কখনও হামলা করা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া এবং ইরাক।

বুধবার (২৪ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হরমুজে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইতোমধ্যে অনেক রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক দেশকে আমরা মিত্র বলে বিবেচনা করি।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, হরমুজ প্রণালিতে ৬টি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী বাহিনী (আইআরজিসি)। এই দেশগুলো হলো– চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব দেশের সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে সম্মতিও জানিয়েছে। এই ছয় দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সবসময়, এমনকি যুদ্ধের পরও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা প্যাসেজ পাবে।’

পৃথিবীতে যে পরিমাণ জ্বালানী তেল রপ্তানি হয়, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে উপসাগরীয় এলাকায় মোট ৬৮৬টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪০০টি জাহাজ রয়েছে ওমান উপসাগরে। তারা হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছে বা দীর্ঘ বিকল্প রুট বেছে নিচ্ছে। ফলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরহারে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে।

ইরান অবশ্য এর আগেও বলেছে যে এই অবরোধ শুধু ‘শত্রুভাবাপন্ন’ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের ওপর প্রযোজ্য হবে। ‘অশত্রু’ কিংবা ‘মিত্রভাবাপন্ন’ দেশগুলোর জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।

তবে মিত্রদেশগুলোর জাহাজে হামলা না করলেও হরমুজে এসব দেশের জাহাজ চলাচলে কিছু নিয়ম জারি করেছে ইরান। এর মধ্যে প্রধান নিয়মটি হলো– হরমুজে প্রবেশের আগে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপ করতে আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির সংসদ এ বিষয়ে একটি খসড়া আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের লক্ষ্যে একটি খসড়া আইন ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই তা আইনগত পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান টোল আদায় করবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বিষয়। অন্যান্য করিডোরের মতোই কোনো দেশের ভেতর দিয়ে পণ্য পরিবহন করলে শুল্ক দিতে হয়। হরমুজ প্রণালিও একটি করিডোর। এখানে নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করি, তাই জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোর ফি দেওয়া স্বাভাবিক।’

সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন

/জেএইচ/