মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে ঝরছে প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সম্পদ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে ঝরছে প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সম্পদ
সিটিজেন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরান ও তার মিত্ররা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। প্রথমে ইরানে হামলা শুরু করেছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার প্রেক্ষিতে ইরান পাল্টা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধ। এই যুদ্ধে দুই পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। দিনের পর দিন যুদ্ধ তীব্র হচ্ছে। এতে ঝরছে হাজার হাজার প্রাণ আর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বসতি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।
ইরানে যা ঘটছে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাসহ হত্যা করে। এসব হত্যাকাণ্ডের পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। ওই দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রথমবারের মতো বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ না করা পর্যন্ত ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, নতুন ইরানি সর্বোচ্চ নেতা হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে যে তিনি আহত এবং সম্ভবত তার শরীর বিকৃত হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করার জন্য দায়ী হওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য ‘বড় ধরনের গৌরবের’।
শনিবার তেহরানে সরকারপন্থী একটি সমাবেশের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে ইরানের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এই সমাবেশ চলাকালেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘ভুলে না যাওয়ার মতো শিক্ষা’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সরকারবিরোধী যেকোনো বিক্ষোভ জানুয়ারি মাসের তুলনায় আরও কঠোরভাবে দমন করা হবে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বয়স আট মাস থেকে ৮৮ বছরের মধ্যে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদ রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে ইরান তেলবাহী জাহাজ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
ওমানের উত্তরাঞ্চলের একটি শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোন ভূপাতিত করার সময় দুইজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বাহরাইন জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৯০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ করায় দেশটির পূর্বাঞ্চলে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং পরে আরও ২৮টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার ঘটনার কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরানের হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কয়েকটি হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নন এমন সরকারি কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং তাদের নাগরিকদের দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বলেছে।
কাতার তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফেরাতে কাতার এয়ারওয়েজ ১৪০টির বেশি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করেছে—এমন দাবি জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। কাতার বিষয়টি স্পষ্ট করতে বলছে, ইরানি ড্রোন হামলার কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটি জাপানের ওকিনাওয়া থেকে প্রায় ২,২০০ সদস্যের একটি মেরিন ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে। তাদের মূল দায়িত্ব হবে সামরিক অভিযান ও জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধবিরোধী চাপ বাড়ছে। ২৫০টির বেশি সংগঠন কংগ্রেসকে যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। তাদের দাবি, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যা দেশের জরুরি সামাজিক খাত যেমন খাদ্য সহায়তার জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল।
এদিকে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, আপাতত ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর প্রয়োজন নেই, তবে এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে বলেও মনে হচ্ছে না। তিনি ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার বিশেষ ধরনের ড্রোন পাঠিয়েছে। এই মার্কিন প্রতিটি ড্রোনের দাম প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার ডলার।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযান
ইসরায়েল জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইরান তাদের দেশ লক্ষ্য করে একসঙ্গে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসরায়েল যেসব এলাকা এসব ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানে বিপ্লবী গার্ডের সহযোগী বাহিনী বাসিজের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানে শাসন পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, তবে তা শেষ পর্যন্ত ইরানের জনগণকেই করতে হবে। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির প্রকল্প ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ঠেকানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
লেবানন ও ইরাকের পরিস্থিতি
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানটির ছয়জন ক্রু নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ঘটনাটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে হয়নি।
ইরাকি জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর দেশটি তাদের বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে একটি ইরানি ড্রোন হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন—যা এই যুদ্ধে ফ্রান্সের প্রথম কারও ওপর আঘাত হওয়ার ঘটনা।
অন্যদিকে লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির অন্তত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু। তীব্র বোমাবর্ষণে প্রায় সাত লাখ থেকে সাত লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরান ও তার মিত্ররা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। প্রথমে ইরানে হামলা শুরু করেছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার প্রেক্ষিতে ইরান পাল্টা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধ। এই যুদ্ধে দুই পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। দিনের পর দিন যুদ্ধ তীব্র হচ্ছে। এতে ঝরছে হাজার হাজার প্রাণ আর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বসতি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।
ইরানে যা ঘটছে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাসহ হত্যা করে। এসব হত্যাকাণ্ডের পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। ওই দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রথমবারের মতো বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ না করা পর্যন্ত ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, নতুন ইরানি সর্বোচ্চ নেতা হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে যে তিনি আহত এবং সম্ভবত তার শরীর বিকৃত হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করার জন্য দায়ী হওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য ‘বড় ধরনের গৌরবের’।
শনিবার তেহরানে সরকারপন্থী একটি সমাবেশের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে ইরানের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এই সমাবেশ চলাকালেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘ভুলে না যাওয়ার মতো শিক্ষা’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সরকারবিরোধী যেকোনো বিক্ষোভ জানুয়ারি মাসের তুলনায় আরও কঠোরভাবে দমন করা হবে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বয়স আট মাস থেকে ৮৮ বছরের মধ্যে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদ রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে ইরান তেলবাহী জাহাজ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
ওমানের উত্তরাঞ্চলের একটি শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোন ভূপাতিত করার সময় দুইজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বাহরাইন জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৯০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ করায় দেশটির পূর্বাঞ্চলে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং পরে আরও ২৮টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার ঘটনার কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরানের হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কয়েকটি হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নন এমন সরকারি কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং তাদের নাগরিকদের দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বলেছে।
কাতার তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফেরাতে কাতার এয়ারওয়েজ ১৪০টির বেশি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করেছে—এমন দাবি জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। কাতার বিষয়টি স্পষ্ট করতে বলছে, ইরানি ড্রোন হামলার কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটি জাপানের ওকিনাওয়া থেকে প্রায় ২,২০০ সদস্যের একটি মেরিন ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে। তাদের মূল দায়িত্ব হবে সামরিক অভিযান ও জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধবিরোধী চাপ বাড়ছে। ২৫০টির বেশি সংগঠন কংগ্রেসকে যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। তাদের দাবি, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যা দেশের জরুরি সামাজিক খাত যেমন খাদ্য সহায়তার জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল।
এদিকে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, আপাতত ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর প্রয়োজন নেই, তবে এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে বলেও মনে হচ্ছে না। তিনি ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার বিশেষ ধরনের ড্রোন পাঠিয়েছে। এই মার্কিন প্রতিটি ড্রোনের দাম প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার ডলার।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযান
ইসরায়েল জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইরান তাদের দেশ লক্ষ্য করে একসঙ্গে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসরায়েল যেসব এলাকা এসব ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানে বিপ্লবী গার্ডের সহযোগী বাহিনী বাসিজের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানে শাসন পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, তবে তা শেষ পর্যন্ত ইরানের জনগণকেই করতে হবে। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির প্রকল্প ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ঠেকানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
লেবানন ও ইরাকের পরিস্থিতি
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানটির ছয়জন ক্রু নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ঘটনাটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে হয়নি।
ইরাকি জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর দেশটি তাদের বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে একটি ইরানি ড্রোন হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন—যা এই যুদ্ধে ফ্রান্সের প্রথম কারও ওপর আঘাত হওয়ার ঘটনা।
অন্যদিকে লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির অন্তত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু। তীব্র বোমাবর্ষণে প্রায় সাত লাখ থেকে সাত লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে ঝরছে প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সম্পদ
সিটিজেন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরান ও তার মিত্ররা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। প্রথমে ইরানে হামলা শুরু করেছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার প্রেক্ষিতে ইরান পাল্টা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধ। এই যুদ্ধে দুই পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। দিনের পর দিন যুদ্ধ তীব্র হচ্ছে। এতে ঝরছে হাজার হাজার প্রাণ আর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বসতি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।
ইরানে যা ঘটছে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাসহ হত্যা করে। এসব হত্যাকাণ্ডের পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। ওই দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রথমবারের মতো বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ না করা পর্যন্ত ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, নতুন ইরানি সর্বোচ্চ নেতা হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে যে তিনি আহত এবং সম্ভবত তার শরীর বিকৃত হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করার জন্য দায়ী হওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য ‘বড় ধরনের গৌরবের’।
শনিবার তেহরানে সরকারপন্থী একটি সমাবেশের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে ইরানের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এই সমাবেশ চলাকালেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘ভুলে না যাওয়ার মতো শিক্ষা’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সরকারবিরোধী যেকোনো বিক্ষোভ জানুয়ারি মাসের তুলনায় আরও কঠোরভাবে দমন করা হবে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বয়স আট মাস থেকে ৮৮ বছরের মধ্যে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদ রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে ইরান তেলবাহী জাহাজ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
ওমানের উত্তরাঞ্চলের একটি শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোন ভূপাতিত করার সময় দুইজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বাহরাইন জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৯০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ করায় দেশটির পূর্বাঞ্চলে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং পরে আরও ২৮টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার ঘটনার কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরানের হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কয়েকটি হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নন এমন সরকারি কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং তাদের নাগরিকদের দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বলেছে।
কাতার তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফেরাতে কাতার এয়ারওয়েজ ১৪০টির বেশি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করেছে—এমন দাবি জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। কাতার বিষয়টি স্পষ্ট করতে বলছে, ইরানি ড্রোন হামলার কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটি জাপানের ওকিনাওয়া থেকে প্রায় ২,২০০ সদস্যের একটি মেরিন ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে। তাদের মূল দায়িত্ব হবে সামরিক অভিযান ও জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধবিরোধী চাপ বাড়ছে। ২৫০টির বেশি সংগঠন কংগ্রেসকে যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। তাদের দাবি, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যা দেশের জরুরি সামাজিক খাত যেমন খাদ্য সহায়তার জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল।
এদিকে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, আপাতত ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর প্রয়োজন নেই, তবে এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে বলেও মনে হচ্ছে না। তিনি ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার বিশেষ ধরনের ড্রোন পাঠিয়েছে। এই মার্কিন প্রতিটি ড্রোনের দাম প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার ডলার।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযান
ইসরায়েল জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইরান তাদের দেশ লক্ষ্য করে একসঙ্গে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসরায়েল যেসব এলাকা এসব ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানে বিপ্লবী গার্ডের সহযোগী বাহিনী বাসিজের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানে শাসন পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, তবে তা শেষ পর্যন্ত ইরানের জনগণকেই করতে হবে। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির প্রকল্প ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ঠেকানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
লেবানন ও ইরাকের পরিস্থিতি
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানটির ছয়জন ক্রু নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ঘটনাটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে হয়নি।
ইরাকি জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর দেশটি তাদের বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে একটি ইরানি ড্রোন হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন—যা এই যুদ্ধে ফ্রান্সের প্রথম কারও ওপর আঘাত হওয়ার ঘটনা।
অন্যদিকে লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির অন্তত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু। তীব্র বোমাবর্ষণে প্রায় সাত লাখ থেকে সাত লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছে।



