
সিটিজেন ডেস্ক

ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খার্গ দ্বীপ থেকে তেল রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে চলমান এবং দ্বীপে তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বিঘ্ন ছাড়াই অব্যাহত আছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘোষণা আসে এমন এক সময় যখন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সতর্ক করেছে যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
খার্গ দ্বীপ ইরানের ৯০ শতাংশেরও বেশি তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র, তাই এর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আল জাজিরা

রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই ইরান আত্মসমর্পণ করবে।
মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে পরিস্থিতি ওই পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই ইরান নতি স্বীকার করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে হরমুজ প্রণালি অবরোধের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আয়োজন করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মাখোঁ বলেন, শুক্রবার তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের স্পিকারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি ইসরায়েলকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ও চলমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকেও সংঘাতের ‘বেপরোয়া উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বন্ধ করতে বলেন।
মাখোঁ বলেন, ‘ইসরায়েলের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আলোচনা শুরু করা এবং যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো। একইসঙ্গে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া।’
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও অবস্থানগুলো এখন ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থার মাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, তারা নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার অধিকার রাখে। সেই অধিকার প্রয়োগ করে আমিরাতের বিভিন্ন শহরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের আশ্রয়স্থল, নৌবন্দর ও জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উৎস হিসেবে বিবেচিত এসব স্থানে আঘাত হানাকে তারা বৈধ প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা যেন নৌবন্দর, জেটি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার আশপাশের এলাকা থেকে দূরে সরে যায়।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবল ফজল শেখারচি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক কঠোর বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পুতুল শক্তি’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর ভরসা না করার সতর্কবার্তা দেন।
শেখারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম নয় এবং তাদের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
তিনি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের অবকাঠামো ও বস্তুগত ক্ষতি হলেও সেগুলো আবার পুনর্গঠন করা সম্ভব।
তবে তার মতে, ‘যে জিনিসটি পুনর্গঠন করা যাবে না, সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সুনাম।’
এই সংঘাতে ইরান সামরিকভাবে কিছু সাফল্য অর্জন করেছে বলে দাবি করেন শেখারচি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সেই দাবিগুলো অস্বীকার করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা