
সিটিজেন ডেস্ক

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরে মার্কিন বা ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক শিশু নিহত হয়েছে এবং তার বাবা-মা আহত হয়েছেন।
ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সিতে খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ভালিউল্লাহ হায়াতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই হামলায় তিনজনের একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে বাবা-মা আহত এবং তাদের ছোট শিশুটি শহীদ হয়েছেন।’
হায়াতি আরও জানান, আরেকটি শহর আগাজারির একটি আবাসিক বাড়িতেও অবিস্ফোরিত গোলা আঘাত হেনেছে। তবে প্রতিবেদনে সেখানে হতাহতের কোনো খবর জানানো হয়নি।

পারস্য নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানি নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মস্কো সব সময় তেহরানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে এবং তেহরানের জন্য বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবে অবিচল রয়েছে।
ক্রেমলিনের বরাতে জানা যায়, পুতিন ইরানি জনগণকে যুদ্ধের এই কঠিন পরিস্থিতি মর্যাদার সঙ্গে সামলানোর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মস্কো এই দুঃসময়ে তেহরানের পাশে একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
রাশিয়ার বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
এছাড়া, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস ও অমানবিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা আরও জোরদার হতে পারে। সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মূল্যায়ন বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
টাইমস অফ ইসরায়েল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাৎজ জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতি যেকোনো নিরাপত্তা হুমকি সম্পূর্ণভাবে দূর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ‘সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা’ মোকাবিলায় ইসরায়েল তাদের সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এর অংশ হিসেবে ইরানের সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং তাদের কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
কাটজের ভাষায়, ‘যুদ্ধের সব লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।’ তাঁর এই বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় সাগরে ভাসমান ইরানি তেল বিক্রির ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে ভারতসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ আবারও ইরানি তেল আমদানির বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ভারতের অন্তত তিনটি শোধনাগার সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা ইরান থেকে তেল কিনতে আগ্রহী। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ভারতের সরকারি নির্দেশনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত পেমেন্ট শর্ত পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
এর আগে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর ভারত রুশ তেল আমদানিতে ঝুঁকেছিল। তুলনামূলকভাবে কম মজুত থাকায় এখন ইরানি তেল কেনার দিকেও নজর দিচ্ছে দেশটি।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের নিকটবর্তী সমুদ্রাঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল জাহাজে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।
এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়ায় এই অঞ্চলের অনেক শোধনাগার উৎপাদন কমাতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর চীন দেশটির প্রধান তেল ক্রেতা হয়ে ওঠে। গত বছর চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে।
চীন ছাড়াও অতীতে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের উল্লেখযোগ্য ক্রেতা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব দেশ আবারও ইরানের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়াগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুদ্ধের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ-এর প্রভাষক মুহানাদ সেলুম বলেছেন, এই হামলা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দিয়াগো গার্সিয়ায় নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, ইরানের কাছে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে—যা আগে প্রকাশ্যে জানা যায়নি।
তিনি বলেন, এতদিন বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সর্বোচ্চ ২ হাজার কিলোমিটার বলা হলেও সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
সেলুমের মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ উল্টো দিকে ধরা হলে তা ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষমতা রাখে, এমনকি যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনও এর আওতায় আসতে পারে। ফলে এই হামলা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নয়, বরং যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হতে অনাগ্রহী ইউরোপীয় দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইরানের কাছে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) থাকতে পারে, যা প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। তার মতে, ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির মাধ্যমে এই ধরনের প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে, যা তাদের দূরপাল্লার সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।

ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দিয়াগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অপরটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
ভৌগোলিকভাবে কৌশলগত এই দ্বীপটি বিষুবরেখার দক্ষিণে, ভারত মহাসাগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস, ব্রিটিশ দূতাবাস কিংবা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন-ও। একটি মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তারা জানায়, দিয়াগো গার্সিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, যেখান থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে এটি মার্কিন বিমানবাহিনীর ভারী বোমারু বিমানের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়ে তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ব্যাপ্তি সম্পর্কে নতুন বার্তা দিয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা পূর্বে ঘোষিত সীমার চেয়েও বেশি হতে পারে।
গত মাসে আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন, ইরান সচেতনভাবেই তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে দেশটির গোয়েন্দা সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে শনিবার সকালে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরাক সরকারের নিরাপত্তা মিডিয়া ইউনিটের প্রধান জেনারেল সাদ মান। তিনি জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলে এই হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে এএফপি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বাগদাদের একটি যোগাযোগ ভবনও একই ধরনের ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ওই ভবনে ইরাকের একটি নিরাপত্তা সংস্থার কার্যালয় ছিল, যা ‘উগ্রবাদবিরোধী’ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে।
এদিকে ইরাকের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সদর দপ্তরের নিকটবর্তী এলাকায় ‘আইনবহির্ভূত একটি গোষ্ঠী’ এই হামলা চালিয়েছে। এতে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইরানের উপকূলীয় শহর রামসারে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় একটি আবাসিক বাড়িতে আঘাত হানার ঘটনায় এক দম্পতি ও তাদের সন্তান নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মাজানদারান প্রদেশের গভর্নর মেহদি ইউনেসি রোস্তামি বলেন, কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী এই শহরে চালানো হামলায় একটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
একজন কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাতভর পরিচালিত এই হামলায় একই পরিবারের তিনজন—স্বামী, স্ত্রী ও তাদের সন্তান—প্রাণ হারান।
তিনি আরও বলেন, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা চালানো হামলাকারীদের অসহায়তারই বহিঃপ্রকাশ। তার ভাষায়, ‘এ ধরনের সহিংসতা ইরানি জনগণের মনোবল ভাঙতে পারবে না; বরং জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকে আরও শক্তিশালী করবে।’
ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলা হয়েছে। চলমান সংঘাতের প্রথম দিকেও এই স্থাপনাটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। সে সময়ের স্যাটেলাইট ছবিতে কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপরাধমূলক হামলা’র ধারাবাহিকতায় নাতাঞ্জে অবস্থিত শহীদ আহমাদি রোশান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে এ আঘাত হানা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, শনিবারের এই হামলায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)সহ পারমাণবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ তুলেছে।
রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই পারমাণবিক স্থাপনাটি এর আগেও হামলার মুখে পড়ে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের সংঘাত চলাকালে প্রথমে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের আঘাতের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল এটি।
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা বর্তমান সংঘাতে উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত মিলছে না। ইসরায়েল জানিয়েছে, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলে—যেখানে বড় বড় তেল স্থাপনা রয়েছে—মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
নিহত ওই কর্মকর্তার নাম মেহদি রোস্তামি শামাস্তান। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাকে ইরানের গোয়েন্দা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, দুই দিন আগে এই হামলা চালানো হয়। এতে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, মোসাদ এবং শিন বেত যৌথভাবে অংশ নেয়।
তবে এ বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা।