শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা পাকিস্তানের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা পাকিস্তানের

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তান। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ এর ভিত্তিতে চরম প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশকে মুখোমুখি সংঘাতের বদলে শান্তির পথে ফেরাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, উত্তেজনা প্রশমন এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামাবাদ সবসময়ই শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও কূটনীতিকে সমর্থন করে এবং এটিই যেকোনো সমস্যা সমাধানের একমাত্র কার্যকর ও টেকসই পথ।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বৈরিতা কমানো এবং থমকে যাওয়া সংলাপ পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে গৃহীত সব ধরনের পদক্ষেপকে পাকিস্তান স্বাগত জানায় বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র মুখপাত্র। তিনি জানান, ২২ জুনের ঐতিহাসিক পাকিস্তান-কাতার যৌথ বিবৃতি এবং সমঝোতা স্মারকের মূল চেতনা বজায় রেখে সকল বাধা দূর করতে ইসলামাবাদ দুই পক্ষকেই চুক্তির শর্তে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তাহির আন্দ্রাবি। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে সেখানে কিছুটা আপেক্ষিক শান্তি বজায় থাকায় নতুন আশা জেগেছিল ঠিকই, কিন্তু সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও বেশ ভঙ্গুর ও উদ্বেগের। এমন নাজুক মুহূর্তে ওয়াশিংটন ও তেহরান- উভয় পক্ষকেই সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ও পাকিস্তান-কাতার যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করার যে প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল, তা পুরোপুরি মেনে চলারও তাগিদ দেন মুখপাত্র।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই সমঝোতার আলোকেই সুইজারল্যান্ডে বহুল আলোচিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরিত হয়। তবে সম্প্রতি অঞ্চলটিতে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ঐতিহাসিক এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

/এমএকে/