শিরোনাম

ভারতে লস্কর-ই-তৈয়বার ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, ৭ জন বাংলাদেশি

সিটিজেন ডেস্ক
ভারতে লস্কর-ই-তৈয়বার ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, ৭ জন বাংলাদেশি

পাকিস্তানি চরমপন্থি গোষ্ঠীর লস্কর-ই-তৈয়বার নেতাসহ ৮ সদস্যকে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। তাদের ৭ জনই বাংলাদেশি। দলের নেতা শাব্বির আহমেদ লোন সম্প্রতি বাংলাদেশে পালিয়ে ছিলেন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, দুই মাস ধরে চালানো এক অভিযানে এদের বাংলাদেশ সীমান্ত, কলকাতা, দিল্লি এবং তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ৭ বাংলাদেশি হলেন– বগুড়ার মিজানুর রহমান (৩২), জাহিদুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ লিটন (৪০), মোহাম্মদ উজ্জ্বল (২৭) ও উমর ফারুক (৩২), ঝালকাঠির মো. শাফায়েত হোসাইন (৩৪) ও ঠাকুরগাঁওয়ের রবিউল ইসলাম (২৭)।

গ্রেপ্তারদের স্থান থেকে পুলিশ ১০টি মোবাইল ফোন, ২৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ৫টি পয়েন্ট অব সেল (পজ) মেশিন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং বেশ কিছু পোস্টার উদ্ধার করেছে।

এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, কাশ্মীরের শ্রীনগরের বাসিন্দা শাব্বির আহমেদ লোনকে ২০০৭ সালে দিল্লি পুলিশ একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেডসহ গ্রেপ্তারের কথা বলেছিল। তিনি জামিনের আগে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিহার কারাগারে ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লোনকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ঢাকার কাছের একটি আস্তানা থেকে লস্করের একটি সেল পরিচালনা করছিলেন।

লস্কর-ই-তৈয়বা যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ তালিকায় রয়েছে। এর বিরুদ্ধে ভারতের পাশাপাশি পশ্চিমে বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাই হামলাও রয়েছে।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর পাশাপাশি লস্কর-ই-তৈয়বার যোগসাজশের ইঙ্গিত থাকার কথা ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) প্রাথমিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই হত্যাকাণ্ডের পর লস্করের শাখা হিসেবে পরিচিত ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’কে (টিআরএফ) ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।

লস্কর-ই-তৈয়বার একটি সেলের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এনডিটিভি বলছে, ২৯ মার্চ স্পেশাল সেল কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে দিল্লির গাজীপুর ড্রেনের কাছ থেকে লোনকে গ্রেপ্তার করে। একাধিক রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী এ অভিযান চালানো হয়।

খবরে বলা হয়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির জনপথ মেট্রো স্টেশনে সন্দেহভাজন কিছু পোস্টার দেখা যায়, সেই সূত্র ধরে এই অভিযানের শুরু হয়। ওই পোস্টারগুলোয় পাকিস্তানপন্থি স্লোগান, কাশ্মীর নিয়ে উসকানিমূলক বার্তা এবং জঙ্গি বুরহান ওয়ানির ছবি ছিল। পরে দিল্লির আরও বেশ কিছু এলাকায় একই ধরনের পোস্টার পাওয়া যায়। মামলাটি স্পেশাল সেলের হাতে ন্যস্ত করা হলে তারা নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ, নিজস্ব সূত্র লাগিয়ে এবং ডিজিটাল ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে।

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় অভিযানে এই চক্রের অন্যতম দুই সদস্য উমর ফারুক ও রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি তিরুপুরের একাধিক স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ৮ জনের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে তারা জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করছিল।

সোমবার দিল্লির একটি আদালত লোনকে ৫ দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছে। রিমান্ড আবেদনে দিল্লি পুলিশ তার বিরুদ্ধে ‘কট্টর ও উচ্চশিক্ষিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনে, যিনি পাকিস্তানের আইএসআই-এর হয়ে কাজ করা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।

/এফসি/