শিরোনাম

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যা বললেন ওয়াংচুক

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যা বললেন ওয়াংচুক
হাসপাতালের বিছানা থেকে বিজয় চিহ্ন দেখিয়ে ছবি শেয়ার করেছেন সোনম ওয়াংচুক। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস দেখা গেছে। শিক্ষামন্ত্রীর এ পদত্যাগকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের শক্তির বিজয় বলে অভিহিত করেছেন সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক।

শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ভয় ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের এই অদম্য প্রতিবাদের প্রশংসা করেন এবং জানান, এবার জবাবদিহিতার পর্ব অতিক্রম করে মূল সংস্কারের কাজে হাত দিতে হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহির দাবিতে ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এ আন্দোলনে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করলে আন্দোলনটি দেশজুড়ে ব্যাপক গতি পায়। টানা ২৬ দিন অনশন করার পর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন। তবে মূল দাবি পূরণের আগেই অনশন প্রত্যাহার করায় তার বিরুদ্ধে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ তুলে সমালোচনা শুরু হয়।

এই বিতর্কের জবাবে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, দীর্ঘ অনশনের কারণে তার ওজন ১১ কেজি কমে গেছে, পেশি ক্ষয় হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় তার ত্যাগ ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতাশাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র রঙ্কা জানান, সোনমের শারীরিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করেই তাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যার সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবির কোনো আপস হয়নি।

এদিকে যন্তর মন্তরে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক জয় হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও জনচাপের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কটাক্ষ করে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই শেষ কথা নয়। আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত বাকি দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/