জার্মানির ঐতিহাসিক বিয়ার উৎসবে ৭৪ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
জার্মানির ঐতিহাসিক বিয়ার উৎসবে ৭৪ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম
জার্মানির ঐতিহাসিক বিয়ার উৎসবে দর্শনার্থীরা

রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া আর উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে জার্মানির মিউনিখে পর্দা নামল বিশ্বখ্যাত লোকজ উৎসব ‘অক্টোবরফেস্ট’-এর। টানা ১৬ দিনের এ আয়োজনে এবার ঢল নেমেছিল প্রায় ৭৪ লাখ দর্শনার্থীর। ২০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই উৎসবের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক এটি। রবিবার (৪ অক্টোবর) সমাপনী দিনে জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রবাসী বাঙালিরাও মেতে উঠেছিলেন উৎসবে।

এর আগে ২০২৩ সালে ১৮ দিনব্যাপী উৎসবে সর্বোচ্চ ৭২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছিল। তবে এবার দিন কম হলেও গ্রীষ্মের শেষভাগের মনোরম আবহাওয়া দর্শনার্থী টানতে বড় ভূমিকা রাখে। উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিউনিখের নতুন মেয়র ডমিনিক ক্রাউজে। তিনি উৎসবের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ, স্বস্তিদায়ক ও আনন্দমুখর বলে অভিহিত করেন।

অক্টোবরফেস্টের ইতিহাস মূলত বাভারীয় রাজপরিবারের সঙ্গে জড়িত। ১৮১০ সালের ১২ অক্টোবর বাভারিয়ার যুবরাজ লুডভিগ ও স্যাক্সনি-হিল্ডবুর্গহাউজেনের রাজকন্যা তেরেসার বিয়ে উপলক্ষে প্রথমবার মিউনিখে ঘোড়দৌড় ও রাজকীয় উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় সেই আনুষ্ঠানিকতাই রূপ নেয় বিশ্বের অন্যতম বড় লোকজ উৎসবে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে অক্টোবরের প্রথম রবিবার পর্যন্ত চলা এ আসর বিয়ার, স্থানীয় খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর লোকসংগীতের জন্য পরিচিত।

দর্শনার্থীর সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এবার পানীয় ও খাবারের বিক্রিও সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মিউনিখের বিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, উৎসবজুড়ে ১ লিটার ধারণক্ষমতার প্রায় ৬৭ লাখ বিয়ারের ক্যান পরিবেশন করা হয়েছে। এটি গত বছরের চেয়ে ২.৭ শতাংশ বেশি। অ্যালকোহলবিহীন পানীয় বিক্রিও বেড়েছে ১০ শতাংশ। সেই সঙ্গে জনপ্রিয় রোস্ট মুরগিসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাবারের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ।

বাভারিয়ার রাজ্য সরকার জানায়, উৎসবের প্রথম সপ্তাহেই থেরেসিয়েনভিজের মাঠে ৩৮ লাখ মানুষ এসেছিলেন। শিশুদের বিশেষ দিনে পরিবারগুলোর উপস্থিতি ছিল গত বছরের চেয়ে ৫৭ শতাংশ বেশি। দেশি অতিথিদের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও অস্ট্রিয়া থেকে প্রচুর বিদেশি পর্যটক এ উৎসবে যোগ দেন।

তবে বিপুল লোকসমাগমের মাঝে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও নজর এড়ায়নি। মিউনিখ পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, উৎসবে মোট ৮৫৪টি অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে। মূলত কোকেনসহ অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারির কারণে এ সংক্রান্ত অপরাধের হিসাব বেড়েছে। পাশাপাশি যৌন অপরাধের ৮০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৫২টি যৌন হয়রানি এবং পাঁচটি ধর্ষণ ঘটনার তদন্ত চলছে। নানা আলোচনার মধ্যে দিয়ে শেষ দিনে রবিবার দুপুর ১২টায় আতশবাজির বদলে গানপাউডারের বিশেষ শব্দে প্রথা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হয় বিশ্বের বৃহত্তম এ বিয়ার উৎসবের।

সূত্র: ইউরো নিউজ

/এমএকে/