যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়ে আইনি জটিলতায় পর্তুগাল সরকার

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়ে আইনি জটিলতায় পর্তুগাল সরকার
পর্তুগালের লাজেস বিমানঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার রেশ গিয়ে পড়েছে পর্তুগালের রাজনীতিতে। মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দেশের একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় সরকার এখন আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দেশটির প্রসিকিউটররা ঘোষণা দিয়েছেন, বর্তমান ডানপন্থী সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে কোন আইনি ভিত্তিতে এ ঘাঁটির ব্যবহার করতে দিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। মূলত বিরোধী দলগুলোর তীব্র চাপের মুখে বিচারকরা এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।

আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে অবস্থিত পর্তুগালের আজোরেস দ্বীপপুঞ্জের লাজেস বিমানঘাঁটি নিয়ে ওয়াশিংটন ও লিসবনের মধ্যে ১৯৫১ সাল থেকেই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, শান্তিকালীন সময়ে মার্কিন বাহিনী পূর্বানুমতি ছাড়াই ঘাঁটিটি ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু যুদ্ধ বা কোনো ধরনের শত্রুতার পরিবেশ তৈরি হলে ঘাঁটিটি ব্যবহারের জন্য পর্তুগাল সরকারের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

কিন্তু ইরান সংঘাতে ঠিক এর উল্টোটা হয়। প্রতিবেশী দেশ স্পেন যখন মার্কিন ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর থেকে নিজেদের পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রেখেছিল, তখন পর্তুগাল ঠিকই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লাজেস বিমানঘাঁটি দিয়ে বেশ কিছু ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনার সবুজ সংকেত দেয়। সরকারের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো তুমুল সমালোচনা শুরু করে। লিসবনের বৈদেশিক নীতি এবং এ সংঘাতে তাদের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় বিতর্ক।

এ প্রেক্ষাপটেই বিরোধীদের অন্যতম প্রধান দল ‘লেফট ব্লক’-এর সংসদ সদস্যরা এপ্রিল মাসে প্রসিকিউটরদের দপ্তরে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাবি ছিল, মার্কিন বাহিনীকে এ ঘাঁটির সুবিধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের চরম ও গুরুতর লঙ্ঘন। সেই অভিযোগের আইনি চুলচেরা বিশ্লেষণের পরই প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস থেকে তদন্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলো।

অন্যান্য অনেক দেশের বিচারব্যবস্থায় প্রসিকিউটরদের নিজস্ব ক্ষমতা বা বিবেচনা প্রয়োগের বড় সুযোগ থাকলেও, পর্তুগালের প্রসিকিউটররা ‘আইনগত নীতি’ বা প্রিন্সিপল অব লিগালিটির কঠোর সীমায় আবদ্ধ। যথেষ্ট আইনি ভিত্তি এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার মতো উপাদান থাকলে তাদের তদন্ত শুরু করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এ ইস্যু নিয়ে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো রাঙ্গেল সরকারের অবস্থান স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এ সংঘাতে পর্তুগাল সরাসরি কোনো পক্ষ নয় বা জড়িয়েও পড়েনি। তার ভাষ্যমতে, লাজেস বিমানঘাঁটির ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের সকল নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ও জোরালো আশ্বাস পাওয়ার পরেই কেবল এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছিল যে মার্কিন সামরিক অভিযানগুলো হবে একান্তই প্রতিরক্ষামূলক, প্রয়োজনীয়, আনুপাতিক এবং তা কঠোরভাবে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

আজোরেসের এ লাজেস বিমানঘাঁটি সাধারণ কোনো সামরিক স্থাপনা নয়। এটি মার্কিন বাহিনী, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এবং তাদের মিত্রদের বিভিন্ন যৌথ অভিযানের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৬৫তম এয়ার বেস উইং স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে এবং এটি মার্কিন, ন্যাটো ও মিত্রবাহিনীর সমস্ত কার্যক্রমে নিয়মিত সহায়তা দিয়ে আসছে।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/