শেনজেন চুক্তি স্থগিত, ইতালিকে পাল্টা হুঁশিয়ারি স্পেনের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
শেনজেন চুক্তি স্থগিত, ইতালিকে পাল্টা হুঁশিয়ারি স্পেনের
স্পেন ও ইতালির জাতীয় পতাকা

মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতা ভূখণ্ডে হাজার হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে ইউরোপে এক নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ৩১ জুলাই থেকে এক মাসের জন্য স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির আওতায় মুক্ত চলাচল স্থগিত করেন। এর ফলে সমুদ্র, আকাশ ও স্থলপথে দুই দেশের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়, যা মাদ্রিদ ও রোমের মধ্যে চরম বিরোধের জন্ম দিয়েছে।

ইতালির এ কঠোর পদক্ষেপকে অন্যায্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থবিরোধী এবং স্প্যানিশ জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্পেন। আগামী রবিবারের (৯ আগস্ট) মধ্যে ইতালি তাদের সীমান্ত চেক পোস্ট না তুললে নিজেদের নাগরিকদের মর্যাদা রক্ষায় পাল্টা কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মাদ্রিদ। যদিও এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ কী হতে পারে, সে বিষয়ে স্পেন কিছু স্পষ্ট করেনি। স্পেনের দাবি, ইতালি সরকার নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচনি সুবিধা হাসিলের জন্যই এই ধরনের অহেতুক দ্বন্দ্ব তৈরি করছে।

অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং নেতিবাচক প্রভাব এড়াতেই এ সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি স্পেনকে শেনজেন চুক্তি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে মাদ্রিদ আশা করছে, শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সদিচ্ছা ও ইউরোপীয় মূল্যবোধেরই জয় হবে।

রাজনৈতিক উত্তেজনার আড়ালে এ সীমান্ত সংকট এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। স্পেনের হিসাব অনুযায়ী, সেউতায় আসা ৭২ হাজার অভিবাসীর মধ্যে ৭০ হাজার মানুষকে ইতোমধ্যেই মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই অনুপ্রবেশের ঘটনায় ৮০ জনের প্রাণহানির তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে মরক্কো জানিয়েছে, তাদের সীমান্তে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনই পানিতে ডুবে মারা গেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সেউতায় এখনো শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু আটকে রয়েছে, যারা পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

সূত্র: আল আরাবিয়া

/এমএকে/