ইরানে হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
ইরানে হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক
বৈঠক শেষে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: অ্যাক্সিওস

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু করা হবে কিনা, সে বিষয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তিনি এ কথা জানান।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন,ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যাতে বন্ধ হয়ে যায় এবং এমনটা যেন আর কখনো না ঘটে তা নিশ্চিত করতে আমরা হামলার ক্ষেত্রে আরও অগ্রসর হতে চাই কিনা সে বিষয়ে এখন আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব। তিনি আরও বলেন, সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না, কিন্তু হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। ট্রাম্প এখন তিনটি পথ খোলা রাখছেন। ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো, অর্থনৈতিকভাবে দেশটির ওপর চাপ অব্যাহত রাখা, কিংবা এমন একটি চুক্তিতে আসা যেখানে ইরানিদের জন্য বড় ধরনের ছাড় থাকবে।

ট্রাম্প যখন তার পরবর্তী চাল নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছেন, ঠিক তখন বৃহস্পতিবার আঞ্চলিক রাজনীতির টেবিলেও ছিল জোর কূটনৈতিক তৎপরতা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের একের পর এক ফোনালাপ হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইতোমধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ খসড়া প্রস্তাব অনুয়াযী, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং আটকে থাকা ইরানি তহবিলের একটি অংশ ছেড়ে দেবে। বিনিময়ে এক বছর আগে কায়রোতে হওয়া একটি চুক্তির সূত্র ধরে পারমাণবিক বোমার আঘাতে বিধ্বস্ত স্থাপনাগুলোতে আইএইএ পরিদর্শকদের আমন্ত্রণের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাবে ইরান। আর দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, যার পরপরই ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে মূল আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।

তবে অন্যদিকে কূটনীতির পাল্লাও বেশ ভারী হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মহসিন রেজাই বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কদিন আগেই পুতিন ও রেজাইয়ের মধ্যে ফোনে কথা হয় এবং পুতিন নিজে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দেন।

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই সামরিক প্রস্তুতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াশিংটন থেকে চূড়ান্ত নির্দেশ না এলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করার সব প্রস্তুতি সেরে রাখছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মার্কিন তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’র আগমনকে নতুন হামলার বড় ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

/এমএকে/