ট্রম্পের দলের পরাজয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ১০ শতাংশ দরপতন

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
ট্রম্পের দলের পরাজয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ১০ শতাংশ দরপতন
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি পরাজিত হয়েছে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক পতন ঘটেছে। গতকাল বুধবার ফিউচার মার্কেটে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান দুই সূচক ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রায় ৮-১০ শতাংশ কমেছে। স্পট মার্কেটেও জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ব্রেন্টের দাম ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং দুবাই ক্রুডের দাম ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে।

নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেছে। এর ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবেই মূলত জ্বালানি তেলের বাজারে বড় দরপতন ঘটেছে।

আগামী দিনগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা বাড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরো কমতে পারে। যার প্রভাব শিগগিরই খুচরা জ্বালানির বাজারেও পড়তে পারে। তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নতুন করে তীব্র হলে বাজারের এ নিম্নমুখী প্রবণতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

জ্বালানি তেলের বাজার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট অয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ফিউচার মার্কেটে গতকাল রাতে একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ ডলার বা ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমে ৮৭ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়ায়।

নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন ট্রাম্প। ফল প্রকাশের মধ্যেই মঙ্গলবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প জানান, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা তার নেই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। এর আগে গত অক্টোবরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় তেলের দাম বৃদ্ধি পায়।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

/জেএইচ/