মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৭ মুসলিম প্রার্থীর ঐতিহাসিক জয়

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৭ মুসলিম প্রার্থীর ঐতিহাসিক জয়
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসে ৭ জন মুসলিম আইনপ্রণেতা জয়লাভ করেছেন। দেশটির আইনসভার উভয় কক্ষে মুসলিম প্রার্থীদের এ অর্জনকে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিক অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রিপাবলিকানদের পরাজিত করে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ- উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে।
আব্দুল এল-সায়েদ
৪২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক রজার্সকে পরাজিত করে মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। পেশায় চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদ অবসরপ্রাপ্ত সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয়ী হন। পুরো নির্বাচনি প্রচারণাজুড়ে তাকে রিপাবলিকান শিবির ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীক্ষ্ণ ধর্মীয় আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পাওয়া এল-সায়েদ শুরু থেকেই ইসরায়েলে মার্কিন অস্ত্র পাঠানোর কড়া সমালোচনা করে এসেছেন এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে প্রকাশ্যে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে তার সাবেক প্রাইমারি প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্স, এল-সায়েদের এসব বক্তব্যের জের ধরে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
অ্যাডাম হামাভি
নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসীয় জেলা থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলকে হারিয়ে কংগ্রেসে স্থান করে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হামাভি। ৫৬ বছর বয়সী এ সাবেক সেনাচিকিৎসক ও প্লাস্টিক সার্জন নিউ জার্সি থেকে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য। ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়া হামাভি ২০২৪ সালে গাজার ইউরোপীয় হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়েছেন। তিনি তার প্রচারণায় সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের ঋণ মওকুফ, অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর সংস্থার বিলুপ্তি এবং ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তুলে ধরেছিলেন।
দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়া
জুনের প্রাইমারিতে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে পরাজিত করার পর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে হাউসের আসন নিশ্চিত করেছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়া। নাগরিক অধিকার বিষয়ক গবেষক, ডক্টরেট শিক্ষার্থী ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী প্রার্থী ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে এক অবিশ্বাস্য জয় অর্জন করেন। সামাজিক সংগঠন শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখাই ছিল তার প্রচারণার মূল ভিত্তি।
রশিদা তালিব
প্রতিনিধি পরিষদে আগে থেকেই দায়িত্ব পালন করা ৪ জন মুসলিম সদস্য পুনরায় দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে তাদের আসন ধরে রেখেছেন। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রশিদা তালিব রিপাবলিকান জেমস হুপারকে হারিয়ে রাজ্যের ১২তম কংগ্রেসীয় জেলা থেকে পঞ্চমবারের মতো জয়ী হয়েছেন। কংগ্রেসের একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সদস্য হিসেবে রশিদা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র আইনের সঠিক প্রয়োগ, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে সবসময় অনড় অবস্থান নিয়েছেন।
ইলহান ওমর
মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসীয় জেলা থেকে পঞ্চমবারের মতো জয় পেলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইলহান ওমর। তিনি রিপাবলিকান জন নাগেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডেভেল জ্যাকসনকে পরাজিত করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ওমর ২০১৯ সালে প্রথম সোমালি-আমেরিকান ফেডারেল আইনপ্রণেতা হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
নিজের জীবন ও পটভূমির কারণে বারবার রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র হস্তান্তরের কঠোর নজরদারির পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দ্রে কার্সন
ইন্ডিয়ানাপোলিস-ভিত্তিক ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আন্দ্রে কার্সন তার আসনটি সফলভাবে ধরে রেখেছেন। তিনি রিপাবলিকান প্যাট্রিক ম্যাকঅলি এবং লিবার্টারিয়ান জেমস সিনিয়াককে পরাজিত করেন। ২০০৮ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা কার্সন হাউসের সবচেয়ে প্রবীণ ও দীর্ঘ সময় ধরে সেবা দেওয়া মুসলিম আইনপ্রণেতা। আন্তর্জাতিক আইনের শাসন, মানুষের সমান মর্যাদা এবং বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা বৃদ্ধির পক্ষে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
লতিফা সাইমন
ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট বে-তে অবস্থিত ১২তম কংগ্রেসীয় জেলায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লতিফা সাইমন সহকর্মী ডেমোক্র্যাট জেমি জয়েসকে পরাজিত করে নিজের আসন বজায় রেখেছেন। সাইমন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কাজে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার আরেকটি পৃথক কংগ্রেসীয় আসনে ভোট গণনা এখনো চলছে, যেখানে প্রাথমিক গণনায় আরেক মুসলিম প্রার্থী আয়েশা ওহাব এগিয়ে রয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসে ৭ জন মুসলিম আইনপ্রণেতা জয়লাভ করেছেন। দেশটির আইনসভার উভয় কক্ষে মুসলিম প্রার্থীদের এ অর্জনকে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিক অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রিপাবলিকানদের পরাজিত করে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ- উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে।
আব্দুল এল-সায়েদ
৪২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক রজার্সকে পরাজিত করে মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। পেশায় চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদ অবসরপ্রাপ্ত সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয়ী হন। পুরো নির্বাচনি প্রচারণাজুড়ে তাকে রিপাবলিকান শিবির ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীক্ষ্ণ ধর্মীয় আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পাওয়া এল-সায়েদ শুরু থেকেই ইসরায়েলে মার্কিন অস্ত্র পাঠানোর কড়া সমালোচনা করে এসেছেন এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে প্রকাশ্যে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে তার সাবেক প্রাইমারি প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্স, এল-সায়েদের এসব বক্তব্যের জের ধরে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
অ্যাডাম হামাভি
নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসীয় জেলা থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলকে হারিয়ে কংগ্রেসে স্থান করে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হামাভি। ৫৬ বছর বয়সী এ সাবেক সেনাচিকিৎসক ও প্লাস্টিক সার্জন নিউ জার্সি থেকে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য। ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়া হামাভি ২০২৪ সালে গাজার ইউরোপীয় হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়েছেন। তিনি তার প্রচারণায় সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের ঋণ মওকুফ, অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর সংস্থার বিলুপ্তি এবং ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তুলে ধরেছিলেন।
দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়া
জুনের প্রাইমারিতে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে পরাজিত করার পর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে হাউসের আসন নিশ্চিত করেছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়া। নাগরিক অধিকার বিষয়ক গবেষক, ডক্টরেট শিক্ষার্থী ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী প্রার্থী ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে এক অবিশ্বাস্য জয় অর্জন করেন। সামাজিক সংগঠন শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখাই ছিল তার প্রচারণার মূল ভিত্তি।
রশিদা তালিব
প্রতিনিধি পরিষদে আগে থেকেই দায়িত্ব পালন করা ৪ জন মুসলিম সদস্য পুনরায় দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে তাদের আসন ধরে রেখেছেন। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রশিদা তালিব রিপাবলিকান জেমস হুপারকে হারিয়ে রাজ্যের ১২তম কংগ্রেসীয় জেলা থেকে পঞ্চমবারের মতো জয়ী হয়েছেন। কংগ্রেসের একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সদস্য হিসেবে রশিদা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র আইনের সঠিক প্রয়োগ, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে সবসময় অনড় অবস্থান নিয়েছেন।
ইলহান ওমর
মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসীয় জেলা থেকে পঞ্চমবারের মতো জয় পেলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইলহান ওমর। তিনি রিপাবলিকান জন নাগেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডেভেল জ্যাকসনকে পরাজিত করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ওমর ২০১৯ সালে প্রথম সোমালি-আমেরিকান ফেডারেল আইনপ্রণেতা হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
নিজের জীবন ও পটভূমির কারণে বারবার রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র হস্তান্তরের কঠোর নজরদারির পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দ্রে কার্সন
ইন্ডিয়ানাপোলিস-ভিত্তিক ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আন্দ্রে কার্সন তার আসনটি সফলভাবে ধরে রেখেছেন। তিনি রিপাবলিকান প্যাট্রিক ম্যাকঅলি এবং লিবার্টারিয়ান জেমস সিনিয়াককে পরাজিত করেন। ২০০৮ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা কার্সন হাউসের সবচেয়ে প্রবীণ ও দীর্ঘ সময় ধরে সেবা দেওয়া মুসলিম আইনপ্রণেতা। আন্তর্জাতিক আইনের শাসন, মানুষের সমান মর্যাদা এবং বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা বৃদ্ধির পক্ষে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
লতিফা সাইমন
ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট বে-তে অবস্থিত ১২তম কংগ্রেসীয় জেলায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লতিফা সাইমন সহকর্মী ডেমোক্র্যাট জেমি জয়েসকে পরাজিত করে নিজের আসন বজায় রেখেছেন। সাইমন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কাজে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার আরেকটি পৃথক কংগ্রেসীয় আসনে ভোট গণনা এখনো চলছে, যেখানে প্রাথমিক গণনায় আরেক মুসলিম প্রার্থী আয়েশা ওহাব এগিয়ে রয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৭ মুসলিম প্রার্থীর ঐতিহাসিক জয়
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসে ৭ জন মুসলিম আইনপ্রণেতা জয়লাভ করেছেন। দেশটির আইনসভার উভয় কক্ষে মুসলিম প্রার্থীদের এ অর্জনকে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিক অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রিপাবলিকানদের পরাজিত করে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ- উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে।
আব্দুল এল-সায়েদ
৪২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক রজার্সকে পরাজিত করে মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। পেশায় চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদ অবসরপ্রাপ্ত সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয়ী হন। পুরো নির্বাচনি প্রচারণাজুড়ে তাকে রিপাবলিকান শিবির ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীক্ষ্ণ ধর্মীয় আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পাওয়া এল-সায়েদ শুরু থেকেই ইসরায়েলে মার্কিন অস্ত্র পাঠানোর কড়া সমালোচনা করে এসেছেন এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে প্রকাশ্যে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে তার সাবেক প্রাইমারি প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্স, এল-সায়েদের এসব বক্তব্যের জের ধরে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
অ্যাডাম হামাভি
নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসীয় জেলা থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলকে হারিয়ে কংগ্রেসে স্থান করে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হামাভি। ৫৬ বছর বয়সী এ সাবেক সেনাচিকিৎসক ও প্লাস্টিক সার্জন নিউ জার্সি থেকে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য। ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়া হামাভি ২০২৪ সালে গাজার ইউরোপীয় হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়েছেন। তিনি তার প্রচারণায় সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের ঋণ মওকুফ, অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর সংস্থার বিলুপ্তি এবং ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তুলে ধরেছিলেন।
দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়া
জুনের প্রাইমারিতে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে পরাজিত করার পর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে হাউসের আসন নিশ্চিত করেছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়া। নাগরিক অধিকার বিষয়ক গবেষক, ডক্টরেট শিক্ষার্থী ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী প্রার্থী ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে এক অবিশ্বাস্য জয় অর্জন করেন। সামাজিক সংগঠন শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখাই ছিল তার প্রচারণার মূল ভিত্তি।
রশিদা তালিব
প্রতিনিধি পরিষদে আগে থেকেই দায়িত্ব পালন করা ৪ জন মুসলিম সদস্য পুনরায় দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে তাদের আসন ধরে রেখেছেন। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রশিদা তালিব রিপাবলিকান জেমস হুপারকে হারিয়ে রাজ্যের ১২তম কংগ্রেসীয় জেলা থেকে পঞ্চমবারের মতো জয়ী হয়েছেন। কংগ্রেসের একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সদস্য হিসেবে রশিদা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র আইনের সঠিক প্রয়োগ, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে সবসময় অনড় অবস্থান নিয়েছেন।
ইলহান ওমর
মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসীয় জেলা থেকে পঞ্চমবারের মতো জয় পেলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইলহান ওমর। তিনি রিপাবলিকান জন নাগেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডেভেল জ্যাকসনকে পরাজিত করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ওমর ২০১৯ সালে প্রথম সোমালি-আমেরিকান ফেডারেল আইনপ্রণেতা হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
নিজের জীবন ও পটভূমির কারণে বারবার রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র হস্তান্তরের কঠোর নজরদারির পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দ্রে কার্সন
ইন্ডিয়ানাপোলিস-ভিত্তিক ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আন্দ্রে কার্সন তার আসনটি সফলভাবে ধরে রেখেছেন। তিনি রিপাবলিকান প্যাট্রিক ম্যাকঅলি এবং লিবার্টারিয়ান জেমস সিনিয়াককে পরাজিত করেন। ২০০৮ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা কার্সন হাউসের সবচেয়ে প্রবীণ ও দীর্ঘ সময় ধরে সেবা দেওয়া মুসলিম আইনপ্রণেতা। আন্তর্জাতিক আইনের শাসন, মানুষের সমান মর্যাদা এবং বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা বৃদ্ধির পক্ষে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
লতিফা সাইমন
ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট বে-তে অবস্থিত ১২তম কংগ্রেসীয় জেলায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লতিফা সাইমন সহকর্মী ডেমোক্র্যাট জেমি জয়েসকে পরাজিত করে নিজের আসন বজায় রেখেছেন। সাইমন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কাজে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার আরেকটি পৃথক কংগ্রেসীয় আসনে ভোট গণনা এখনো চলছে, যেখানে প্রাথমিক গণনায় আরেক মুসলিম প্রার্থী আয়েশা ওহাব এগিয়ে রয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি









