শিরোনাম

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বাধ্যতামূলক শ্রম নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে শিথিলতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া ও মেক্সিকোসহ বেশ কয়েকটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের পণ্যে পূর্বনির্ধারিত শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট ১০ বা সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে। এ ছাড়া চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় জরুরি আইনের আওতায় ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ ‘পারস্পরিক শুল্ক’ বাতিল করে দেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট । এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিল। যার মেয়াদ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হচ্ছে। ঠিক একই সময়ে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ট্রানজিটে থাকা পণ্যগুলো আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নতুন শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের আগের ধাক্কা সামলাতে এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ব্যাপক পরিসরে শুল্ক আরোপ করা হলেও বেশ কিছু পণ্যকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল-গ্যাস, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যদ্রব্য। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২৩২ ধারার আওতাভুক্ত গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্তপূরণ করা পণ্যগুলোও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইদে জানিয়েছেন, এই শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। কারণ, তাদের দেশে বাধ্যতামূলক শ্রম রোধে স্পষ্ট আইন রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও এটিকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তবে মাত্র কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের মুখে পড়া কানাডা কিছুটা নমনীয় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক জানিয়েছেন, তারা পারস্পরিক স্বার্থে আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট গভর্নর মাউরা হিলি সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রির এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক শতাব্দী ধরে বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধের আইন রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই পথ অনুসরণ করার সময় পার হয়ে গেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শুধু মেয়াদ শেষ হওয়া শুল্কের বিকল্প হিসেবে এটি আনা হয়নি; বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে বাধ্যতামূলক শ্রম নির্মূল করতেই উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের আহ্বানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

/এসবি/