
সিটিজেন ডেস্ক


মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন ইসরায়েলের নতুন ‘মৃত্যুদণ্ড আইন’ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই আইনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অপরাধ করলে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসির শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু একই অপরাধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু সরকারের এই আইন বৈষম্যমূলক এবং বর্ণবাদী নীতির উদাহরণ।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এমন নীতি অনুসরণকারী একটি সরকারকে আমরা কেন বিলিয়ন ডলারের ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দিচ্ছি?’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলারের জরুরি সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেন।
সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন, ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হলেও দেশটির উচিত দ্রুত এ যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে রবিবার (২৯ মার্চ) পর্যন্ত ১ হাজার ২১ জন নাগরিকের ওপর পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৬৬ শতাংশই দ্রুত সংঘাত অবসানের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে, লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ, আর বাকি ৬ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ঘোর বিরোধী দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ নাগরিক। বিপরীতে মাত্র ৩৫ শতাংশ নাগরিক এ সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। রাজনৈতিক বিভাজনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক শিবির রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও বড় একটি অংশ (৪০ শতাংশ) মনে করেন লক্ষ্য অর্জন না হলেও দ্রুত সংঘাত শেষ করা প্রয়োজন।
তবে দলটির ৫৭ শতাংশ কট্টর সমর্থক এখনো দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধে লিপ্ত থেকে লক্ষ্য অর্জনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। সামগ্রিকভাবে জরিপটি বর্তমান প্রশাসনের ইরান নীতির ওপর মার্কিন জনমতের একটি স্পষ্ট অনাস্থা ও যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে ফুটিয়ে তুলেছে।
সূত্র: রয়টার্স

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এক বড় ধরনের অগ্রগতির আভাস দিয়েছেন। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে বার্তা বিনিময় করছে এবং এ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন যে কোনো মুহূর্তে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য প্রস্তুত এবং এ লক্ষ্যে পর্দার অন্তরালে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দেন । তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন আলোচনার নামে কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ বা ভুয়া আলোচনার কৌশল সহ্য করবে না।
ট্রাম্পের নীতি অনুযায়ী, কেবল অর্থবহ এবং কার্যকর আলোচনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে তিনি রাজি হননি, তবে শন হ্যানিটিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রুবিও বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই মন্তব্য করেন, আমরা এখন শেষ রেখা দেখতে পাচ্ছি।
ইরান ইস্যুর পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের কার্যকারিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। রুবিও বলেন, দীর্ঘকাল ধরে যে জোটটি মার্কিন স্বার্থে কাজ করে এসেছে, সেটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এখনও তার উদ্দেশ্য যথাযথভাবে পূরণ করছে কি না, তা ওয়াশিংটনকে হয়তো পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
সূত্র: বিবিসি

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর দফায় দফায় বিমান হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামীসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে জেলার জেবচিত ও কাফরা শহরে এ হামলা চালানো হয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) তথ্যমতে, জেবচিত শহরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে চালানো হামলায় ওই দম্পতি প্রাণ হারান। একই সময়ে নাবাতিয়ের পার্শ্ববর্তী কাফরা শহরে চালানো পৃথক এক বিমান হামলায় আরও ২ জন নিহত হন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত এক ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে চালানো ইসরায়েলি হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা ৮ জন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো লক্ষ্য করেই তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরে বিমান হামলা আরও জোরদার করেছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর কথা বলা হলেও এসব হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানের গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলায় ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করা হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সীমান্তের বাইরে শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা দুর্বল করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে সেন্টকম একটি ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে পাহাড়ি এলাকায় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা