শিরোনাম

আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

সিটিজেন ডেস্ক
আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস
প্রতীকী ছবি

আজ ২ এপ্রিল, বিশ্ব অটিজম দিবস। ‘অটিজম ও মানবতা-প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে’-প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস।

অটিজম কোনো রোগ নয়, বরং এটি একটি স্নায়বিক বিকাশজনিত বৈচিত্র্য বা ‘নিউরো-ডাইভারসিটি’ এই বার্তাটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

অটিজম সচেতনতা দিবসের মূল কারিগর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। ২০০৭ সালের শেষদিকে কাতারের তৎকালীন ফার্স্ট লেডি শেখা মোজা বিনতে নাসের আল-মিসনদ জাতিসংঘে অটিজম সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি বিশেষ দিবসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুরা উপযুক্ত পরিবেশ পেলে সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হতে পারে। কাতারের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৬২তম অধিবেশনে ৬২/১৩৯ নম্বর রেজুলেশনটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়।

জাতিসংঘের সেই ঐতিহাসিক সভায় ২ এপ্রিল তারিখটি নির্ধারণ করার পেছনে একক কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ ছিল না। বরং এটি বিশ্বজুড়ে অটিজম প্রচারণাকে একটি অভিন্ন ক্যালেন্ডার ডে-তে নিয়ে আসার জন্য কাতার ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মতিতে নির্ধারিত হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে মার্কিন অটিজমবিষয়ক বিশ্বের বৃহত্তম সংস্থা ‘অটিজম স্পিকস’ প্রথমবারের মতো ‘নীল বাতি প্রজ্বলন’ কর্মসূচি শুরু করে।

নীল রঙকে প্রশান্তি, সহমর্মিতা এবং অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনন্য প্রতিভা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং থেকে শুরু করে ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন পর্যন্ত বিশ্বের আইকনিক স্থাপনাগুলো নীল আলোতে আলোকিত করা হয়।

বাংলাদেশ এই দিবসের অন্যতম সক্রিয় অংশীদার এবং দক্ষিণ এশিয়ায় অটিজম ব্যবস্থাপনায় নেতৃস্থানীয় দেশ। ২০০৮ সাল থেকে নিয়মিত পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার এই খাতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ২০১১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে অটিজম আন্দোলন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০০ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিজম স্পেকট্রাম ডিজ-অর্ডারে আক্রান্ত।

বাংলাদেশের সরকারি জরিপ অনুযায়ী, সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলেই এখন প্রাথমিক পর্যায়ে অটিজম শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিস-অর্ডার অ্যান্ড অটিজমএ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে অটিজম সেবায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই দিবসের মূল সমন্বয়ক হিসেবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করে।

অটিজম সচেতনতায় সাফল্য এলেও এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছেও। বিশেষ করে বয়স্ক অটিস্টিক ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান, তাদের আবাসন সুবিধা এবং সমাজের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

/এসবি