বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমানো কতটা বিপজ্জনক?

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমানো কতটা বিপজ্জনক?
ছবি: এআই

প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় এখন মানুষের হাতে হাতে চলে এসেছে স্মার্টফোন। সেইসঙ্গে ফোনের প্রতি মানুষের আসক্তিও বাড়ছে। ঘুমানোর আগে ফোন দেখা এবং ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ফোন চেক করা এখন অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেউ বালিশের পাশে, কেউ বিছানার পাশের টেবিলে আবার কেউ ফোন চার্জে রেখেই ঘুমান। তবে রাতে ফোন কাছে রাখার এই অভ্যাস ঘুম নষ্ট করার পাশাপাশি কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

মোবাইল ফোনের বিকিরণ নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়েছে। এর ফলে ক্যান্সার বা গুরুতর রোগ হয়-এমন মনে করা হলেও এর পক্ষে এখনও স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে রাতে ফোন ব্যবহারের সঙ্গে ঘুমের ব্যাঘাত এবং ফোন চার্জের সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে বিস্ফোরণের মতো ঝুঁকি রয়েছে।

ফোনের আলোতে ঘুমের ব্যাঘাত

মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে নীল আলো নির্গত হয়। এই আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে প্রভাব ফেলতে পারে। সন্ধ্যা বা রাতে অতিরিক্ত আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোন ঘুম ও জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নোটিফিকেশনেও ঘুম নষ্ট হতে পারে

রাতে ফোন পাশে রেখে শুয়ে পড়লে কল, বার্তা, নোটিফিকেশন কিংবা ভাইব্রেশনে ঘুমের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। দেখা গেলো এসব কারণে আপনার ঘুম ভেঙে গেছে, কিছুক্ষণ পর আবার ঘুমিয়ে পড়েছেন। সকালে উঠে এই ঘটনা আপনার মনে পড়ছে না। তবে এতে আপনার স্বাভাবিক ঘুম নষ্ট হচ্ছে। বারবার এমন হলে ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে দিনের বেলায় ক্লান্তি, বিরক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

সেইসঙ্গে বালিশের পাশে ফোন থাকলে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পরপরই মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এজন্য ঘুমানোর আগে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ বা সাইলেন্ট মোড চালু করা যেতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কলের অনুমতি রেখে ফোনটি বালিশ থেকে কিছুটা দূরে রাখা ভালো।

ফোনের বিকিরণে কি ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে?

মোবাইল ফোন থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা বেতার তরঙ্গ নির্গত হয়। এটি নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত। এক্স-রে থেকে নির্গত আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় এই তরঙ্গের শক্তি অনেক কম। বিজ্ঞানীরা এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। এখনও চলছে এই গবেষণা। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডকে ‘সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ হিসেবে গ্রুপ ২বি শ্রেণিতে রেখেছে। তবে এর অর্থ মোবাইল ফোন ক্যান্সারের কারণ- এমন নয়। এর পক্ষে শক্ত প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

অন্যান্য গবেষণাতেও মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং মস্তিষ্কের টিউমারের মধ্যে নিশ্চিত কার্যকারণ সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এছাড়া পুরুষদের শুক্রাণু কমে যায়-এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

তবে বিকিরণের সংস্পর্শ কমাতে ফোন কিছুটা দূরে রাখা ভালো। এক্ষেত্রে কথা বলার সময় স্পিকার ব্যবহার করা কিংবা প্রয়োজন না থাকলে এয়ারপ্লেন মোড চালু করা যেতে পারে।

বালিশের নিচে ফোন চার্জ দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে

রাতে অনেকেই ফোন চার্জ দিয়ে বালিশের পাশে রাখেন। ফোন কাছে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ঝুঁকিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। বালিশ, কম্বল বা তোশকের নিচে ফোন রেখে চার্জ দিলে তাপ বের হওয়ার সুযোগ কমে যায়। এতে ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এর ফলে ফোন বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি, ত্রুটিপূর্ণ চার্জার বা নষ্ট তার এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাই ফোন চার্জ দেওয়ার সময় সেটি বিছানা, বালিশ, কম্বলসহ দাহ্য জিনিস থেকে দূরে শক্ত ও সমতল জায়গায় রাখা উচিত। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত চার্জার ও তার ব্যবহার করাও জরুরি।

রাতে অতিরিক্ত ফোনের ব্যবহার মানসিক চাপ বাড়তে পারে

বিছানার পাশে ফোন থাকলে গভীর রাতেও খবর, সামাজিকমাধ্যম, অফিসের বার্তা কিংবা ই-মেইল দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মন খারাপ করা খবর বা কাজের চাপসংক্রান্ত বার্তা ঘুমের আগে মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। যদিও ফোন কাছে থাকলেই উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা তৈরি হবে-এমন নয়। তবে রাত জেগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, দেরিতে ঘুমানো এবং ঘুমের মান খারাপ হওয়ার মতো বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

/জেএইচ/