মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়? যা বলছে গবেষণা

মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়? যা বলছে গবেষণা
সিজেডএন ডেস্ক

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে প্রায় সবার হাতেই এখন মোবাইল ফোন চলে এসেছে। এটা ছাড়া যেন দৈনন্দিন জীবন কল্পনাই করা যায় না। যোগাযোগ, কাজ কিংবা বিনোদন- সব ক্ষেত্রেই জায়গা করে নিয়েছে মুঠোফোন। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতির কারণ হতে পারে। অনেক পুরুষ দীর্ঘ সময় ফোন প্যান্টের সামনের পকেটে রাখেন। এই অভ্যাস পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন ও চলাচলের ক্ষমতার ওপর মোবাইল ফোনের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে অন্য গবেষণায় সুস্পষ্ট কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল বিষয় মোবাইল ফোন থেকে নির্গত বেতার তরঙ্গ এবং ফোনের তাপ শুক্রাণুর গুণমানকে প্রভাবিত করতে পারে কি না। তবে পকেটে ফোন রাখলেই শুক্রাণুর ক্ষতি হবে কিংবা বন্ধ্যত্ব দেখা দেবে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
মোবাইল ফোন থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা বেতার তরঙ্গ নির্গত হয়। এটি নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত। এক্স-রে থেকে নির্গত আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় এই তরঙ্গের শক্তি অনেক কম।
এই রেডিয়েশনেই গবেষকদের প্রধান বিষয়বস্তু। দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শে এলে শুক্রাণুর গুণমানের পরিবর্তন ঘটে কি না তা পরীক্ষা করছেন তারা। শুক্রাণুর গুণমান বলতে এর সংখ্যা, গঠন, জীবিত থাকার হার এবং চলাচলের সক্ষমতাকে বোঝায়।
২০২১ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে ৩৯টি গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। এতে পরীক্ষাগারে শুক্রাণুর ওপর বেতার তরঙ্গের সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রাণির ওপর পরিচালিত কিছু পরীক্ষায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার সম্মিলিত ফলাফলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান কমে যাওয়ার সুস্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালে প্রকাশিত আরেকটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনাতেও মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শ ও পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে একই ধরনের ফলাফলের কথা বলা হয়।
অর্থাৎ, মোবাইল ফোন শুক্রাণুর ক্ষতি করে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চললেও সাধারণভাবে ফোন ব্যবহার বা পকেটে বহনের কারণে শুক্রাণুর ক্ষতি হয়- এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখলে ঝুঁকি বাড়ে কি না?
প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখলে সেটি অণ্ডকোষের কাছাকাছি অবস্থান করে। এ কারণে ফোন থেকে নির্গত বেতার তরঙ্গ এবং উৎপন্ন তাপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন গবেষকরা। গবেষকদের আগ্রহ রয়েছে।
তবে শরীরের কাছাকাছি ফোন রাখলেই শুক্রাণুর ক্ষতি হবে, এমনটা বলা যায় না। এর সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করতে পারে ফোনের নির্গত শক্তি, ব্যবহারের ধরন, সংস্পর্শের মাত্রা এবং অন্যান্য বিষয়গুলোর ওপর।
২০২৪ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় সামনের পকেটে ফোন বহনের সঙ্গে শুক্রাণুর ঘনত্ব, মোট সংখ্যা, গঠন, চলাচলের ক্ষমতা কিংবা গর্ভধারণে প্রয়োজনীয় সময়ের সম্পর্কের বিষয়ে প্রমাণকে অনিশ্চিত বলে উল্লেখ করা হয়। গবেষণাগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তাই প্যান্টের পকেটে ফোন রাখাকে সরাসরি বন্ধ্যত্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখলে তা ব্যক্তিগত পছন্দ হতে পারে।
শুক্রাণুর গুণমান কমে গেলে কী হয়?
শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবে প্রজননক্ষমতা কমে যেতে পারে। তবে বেশ কিছু কারণে পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমে যেতে পারে। যেমন—
- ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার
- অতিরিক্ত মদ্যপান
- স্থূলতা ও কিছু বিপাকীয় সমস্যা
- নির্দিষ্ট সংক্রমণ ও হরমোনজনিত সমস্যা
- কিছু ওষুধের ব্যবহার
- অণ্ডকোষের নির্দিষ্ট রোগ ও অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ
এছাড়া বয়স, পারিবারিক ইতিহাস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসও প্রজননক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই সন্তান ধারণে সমস্যা হলে শুধু মোবাইল ফোনকে দায়ী করা যাবে না। বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও সম্ভাব্য কারণগুলো মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
মোবাইল ফোনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। তবে প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে।
ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখা, ফোন অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া, ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা। সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি প্রজননস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট বা কোনো ধরনের ওষুধ না খাওয়া। শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণমান বাড়ানোর দাবি করে বাজারে বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। তবে সব পণ্যের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে প্রায় সবার হাতেই এখন মোবাইল ফোন চলে এসেছে। এটা ছাড়া যেন দৈনন্দিন জীবন কল্পনাই করা যায় না। যোগাযোগ, কাজ কিংবা বিনোদন- সব ক্ষেত্রেই জায়গা করে নিয়েছে মুঠোফোন। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতির কারণ হতে পারে। অনেক পুরুষ দীর্ঘ সময় ফোন প্যান্টের সামনের পকেটে রাখেন। এই অভ্যাস পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন ও চলাচলের ক্ষমতার ওপর মোবাইল ফোনের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে অন্য গবেষণায় সুস্পষ্ট কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল বিষয় মোবাইল ফোন থেকে নির্গত বেতার তরঙ্গ এবং ফোনের তাপ শুক্রাণুর গুণমানকে প্রভাবিত করতে পারে কি না। তবে পকেটে ফোন রাখলেই শুক্রাণুর ক্ষতি হবে কিংবা বন্ধ্যত্ব দেখা দেবে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
মোবাইল ফোন থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা বেতার তরঙ্গ নির্গত হয়। এটি নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত। এক্স-রে থেকে নির্গত আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় এই তরঙ্গের শক্তি অনেক কম।
এই রেডিয়েশনেই গবেষকদের প্রধান বিষয়বস্তু। দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শে এলে শুক্রাণুর গুণমানের পরিবর্তন ঘটে কি না তা পরীক্ষা করছেন তারা। শুক্রাণুর গুণমান বলতে এর সংখ্যা, গঠন, জীবিত থাকার হার এবং চলাচলের সক্ষমতাকে বোঝায়।
২০২১ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে ৩৯টি গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। এতে পরীক্ষাগারে শুক্রাণুর ওপর বেতার তরঙ্গের সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রাণির ওপর পরিচালিত কিছু পরীক্ষায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার সম্মিলিত ফলাফলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান কমে যাওয়ার সুস্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালে প্রকাশিত আরেকটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনাতেও মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শ ও পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে একই ধরনের ফলাফলের কথা বলা হয়।
অর্থাৎ, মোবাইল ফোন শুক্রাণুর ক্ষতি করে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চললেও সাধারণভাবে ফোন ব্যবহার বা পকেটে বহনের কারণে শুক্রাণুর ক্ষতি হয়- এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখলে ঝুঁকি বাড়ে কি না?
প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখলে সেটি অণ্ডকোষের কাছাকাছি অবস্থান করে। এ কারণে ফোন থেকে নির্গত বেতার তরঙ্গ এবং উৎপন্ন তাপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন গবেষকরা। গবেষকদের আগ্রহ রয়েছে।
তবে শরীরের কাছাকাছি ফোন রাখলেই শুক্রাণুর ক্ষতি হবে, এমনটা বলা যায় না। এর সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করতে পারে ফোনের নির্গত শক্তি, ব্যবহারের ধরন, সংস্পর্শের মাত্রা এবং অন্যান্য বিষয়গুলোর ওপর।
২০২৪ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় সামনের পকেটে ফোন বহনের সঙ্গে শুক্রাণুর ঘনত্ব, মোট সংখ্যা, গঠন, চলাচলের ক্ষমতা কিংবা গর্ভধারণে প্রয়োজনীয় সময়ের সম্পর্কের বিষয়ে প্রমাণকে অনিশ্চিত বলে উল্লেখ করা হয়। গবেষণাগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তাই প্যান্টের পকেটে ফোন রাখাকে সরাসরি বন্ধ্যত্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখলে তা ব্যক্তিগত পছন্দ হতে পারে।
শুক্রাণুর গুণমান কমে গেলে কী হয়?
শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবে প্রজননক্ষমতা কমে যেতে পারে। তবে বেশ কিছু কারণে পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমে যেতে পারে। যেমন—
- ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার
- অতিরিক্ত মদ্যপান
- স্থূলতা ও কিছু বিপাকীয় সমস্যা
- নির্দিষ্ট সংক্রমণ ও হরমোনজনিত সমস্যা
- কিছু ওষুধের ব্যবহার
- অণ্ডকোষের নির্দিষ্ট রোগ ও অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ
এছাড়া বয়স, পারিবারিক ইতিহাস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসও প্রজননক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই সন্তান ধারণে সমস্যা হলে শুধু মোবাইল ফোনকে দায়ী করা যাবে না। বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও সম্ভাব্য কারণগুলো মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
মোবাইল ফোনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। তবে প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে।
ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখা, ফোন অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া, ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা। সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি প্রজননস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট বা কোনো ধরনের ওষুধ না খাওয়া। শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণমান বাড়ানোর দাবি করে বাজারে বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। তবে সব পণ্যের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো।

মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়? যা বলছে গবেষণা
সিজেডএন ডেস্ক

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে প্রায় সবার হাতেই এখন মোবাইল ফোন চলে এসেছে। এটা ছাড়া যেন দৈনন্দিন জীবন কল্পনাই করা যায় না। যোগাযোগ, কাজ কিংবা বিনোদন- সব ক্ষেত্রেই জায়গা করে নিয়েছে মুঠোফোন। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতির কারণ হতে পারে। অনেক পুরুষ দীর্ঘ সময় ফোন প্যান্টের সামনের পকেটে রাখেন। এই অভ্যাস পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন ও চলাচলের ক্ষমতার ওপর মোবাইল ফোনের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে অন্য গবেষণায় সুস্পষ্ট কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল বিষয় মোবাইল ফোন থেকে নির্গত বেতার তরঙ্গ এবং ফোনের তাপ শুক্রাণুর গুণমানকে প্রভাবিত করতে পারে কি না। তবে পকেটে ফোন রাখলেই শুক্রাণুর ক্ষতি হবে কিংবা বন্ধ্যত্ব দেখা দেবে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
মোবাইল ফোন থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা বেতার তরঙ্গ নির্গত হয়। এটি নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত। এক্স-রে থেকে নির্গত আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় এই তরঙ্গের শক্তি অনেক কম।
এই রেডিয়েশনেই গবেষকদের প্রধান বিষয়বস্তু। দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শে এলে শুক্রাণুর গুণমানের পরিবর্তন ঘটে কি না তা পরীক্ষা করছেন তারা। শুক্রাণুর গুণমান বলতে এর সংখ্যা, গঠন, জীবিত থাকার হার এবং চলাচলের সক্ষমতাকে বোঝায়।
২০২১ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে ৩৯টি গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। এতে পরীক্ষাগারে শুক্রাণুর ওপর বেতার তরঙ্গের সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রাণির ওপর পরিচালিত কিছু পরীক্ষায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার সম্মিলিত ফলাফলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান কমে যাওয়ার সুস্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালে প্রকাশিত আরেকটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনাতেও মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শ ও পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে একই ধরনের ফলাফলের কথা বলা হয়।
অর্থাৎ, মোবাইল ফোন শুক্রাণুর ক্ষতি করে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চললেও সাধারণভাবে ফোন ব্যবহার বা পকেটে বহনের কারণে শুক্রাণুর ক্ষতি হয়- এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখলে ঝুঁকি বাড়ে কি না?
প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখলে সেটি অণ্ডকোষের কাছাকাছি অবস্থান করে। এ কারণে ফোন থেকে নির্গত বেতার তরঙ্গ এবং উৎপন্ন তাপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন গবেষকরা। গবেষকদের আগ্রহ রয়েছে।
তবে শরীরের কাছাকাছি ফোন রাখলেই শুক্রাণুর ক্ষতি হবে, এমনটা বলা যায় না। এর সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করতে পারে ফোনের নির্গত শক্তি, ব্যবহারের ধরন, সংস্পর্শের মাত্রা এবং অন্যান্য বিষয়গুলোর ওপর।
২০২৪ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় সামনের পকেটে ফোন বহনের সঙ্গে শুক্রাণুর ঘনত্ব, মোট সংখ্যা, গঠন, চলাচলের ক্ষমতা কিংবা গর্ভধারণে প্রয়োজনীয় সময়ের সম্পর্কের বিষয়ে প্রমাণকে অনিশ্চিত বলে উল্লেখ করা হয়। গবেষণাগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তাই প্যান্টের পকেটে ফোন রাখাকে সরাসরি বন্ধ্যত্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখলে তা ব্যক্তিগত পছন্দ হতে পারে।
শুক্রাণুর গুণমান কমে গেলে কী হয়?
শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবে প্রজননক্ষমতা কমে যেতে পারে। তবে বেশ কিছু কারণে পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমে যেতে পারে। যেমন—
- ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার
- অতিরিক্ত মদ্যপান
- স্থূলতা ও কিছু বিপাকীয় সমস্যা
- নির্দিষ্ট সংক্রমণ ও হরমোনজনিত সমস্যা
- কিছু ওষুধের ব্যবহার
- অণ্ডকোষের নির্দিষ্ট রোগ ও অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ
এছাড়া বয়স, পারিবারিক ইতিহাস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসও প্রজননক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই সন্তান ধারণে সমস্যা হলে শুধু মোবাইল ফোনকে দায়ী করা যাবে না। বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও সম্ভাব্য কারণগুলো মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
মোবাইল ফোনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। তবে প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে।
ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখা, ফোন অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া, ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা। সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি প্রজননস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট বা কোনো ধরনের ওষুধ না খাওয়া। শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণমান বাড়ানোর দাবি করে বাজারে বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। তবে সব পণ্যের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো।

বিচ্ছেদের পরও প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখেন ৬০ শতাংশ মানুষ, কারণ কী?
অফিসে দীর্ঘ সময় বসে থাকেন? জানুন ক্ষতিকর দিক







