তেজপাতায় শতাধিক পরিবারের দিনবদল

তেজপাতায় শতাধিক পরিবারের দিনবদল
রংপুর সংবাদদাতা

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বই-খাতা ছেড়ে অন্যের বাড়িতে কাজ নিতে হয়েছিল। এর পরের গল্পটা অবশ্য ভিন্ন। যে গল্প অনুপ্রেরণার, মানুষকে পথ দেখানোর। দিনমজুরি করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন রংপুরের কাউনিয়ার গোলজার হোসেন। তিনি এখন অন্যকে ভাগ্যবদলের পথ দেখাচ্ছেন।
গোলজার হোসেনের দিনবদলের শুরুটা হয়েছিল মাত্র ১৪টি তেজপাতার চারা রোপণের মধ্য দিয়ে। তার হাত ধরে তেজপাতা হয়ে উঠেছে কাউনিয়ার শতাধিক পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার প্রতীক।
উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তেজপাতাচাষির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৮৮৩ হেক্টর জমিতে এখন তেজপাতার চাষ হচ্ছে। কাউনিয়ার তেজপাতার ‘সুবাস’ এখন দূরদূরান্তেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন। তাদের হাত ধরে ভেষজ এই মসলা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।
কাউনিয়া উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম বাজেমজকুর। এ গ্রামেই গোলজার হোসেনের বাড়ি। দুই বোন, চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় গোলজার হোসেন। তার জন্ম ১৯৬৩ সালে। আট বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার পর বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়ির গরু ছাগল লালন–পালনের কাজ করেন তিনি। ২২ বছর বয়সে মায়ের মৃত্যু তার জীবনে বড় আঘাত হয়ে আসে। কী করবেন, তখন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। বিভিন্নজনের সঙ্গে পরামর্শ করেন, কেউ কেউ ব্যবসার কথা বলেন। একজন বলেছিলেন, ধান–সবজির চাষ তো কমবেশি গ্রামের সবাই করে, মসলার চাষ করে দেখতে পারেন। লাভ হলেও হতে পারে!
মানসিক অস্থিরতার ওই সময়ে পরিবারের চাপে পড়ে বিয়েও করেন গোলজার হোসেন। বিয়ের কয়েক মাস পর কী এক কাজে কাউনিয়া থেকে বগুড়ায় যান তিনি। ফেরার সময় ১৪টি তেজপাতার চারা কিনেছিলেন। কৌতূহলবশত বাড়ির উঠানেই সেসব চারা রোপণ করেন। এর দুই বছরের মাথায় তেজপাতা বিক্রি করে গোলজার আয় করেন পাঁচ হাজার টাকা। এই টাকা থেকে চার হাজার টাকা দিয়ে ৮০ শতক জমি ইজারা নিয়ে ১০০টি তেজপাতার চারা লাগান। গাছের ফাঁকে ফাঁকে লাগান আদা আর হলুদ। অভাবের সংসারে একটু একটু করে সচ্ছলতাও আসে। দিনমজুর থেকে গোলজার হোসেন হয়ে ওঠেন সফল চাষি। এখন দুই একর জমিতে মসলার চাষ করছেন গোলজার। খরচ বাদে বছরে তার আয় হচ্ছে চার লাখ টাকা।

গোলজার হোসেন বলেন, রোদ, ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিনমজুরের কাজ করেছি। এরপরও স্ত্রী-সন্তানদের জন্য তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে পারতাম না। তেজপাতার চাষে দিন বদলেছে।
৬৩ বছর বয়সী গোলজার হোসেনকে এলাকার মানুষ ‘গুরু’ মানেন। তার দিকনির্দেশনায় বহু কৃষক সাফল্যের মুখ দেখেছেন। বাজেমজকুরের পাশের গ্রাম টেপামধুপুরের কৃষক মোসলেম উদ্দিন ২০১০ সালে ৩৩ শতক জমিতে তেজপাতা চাষ শুরু করেন। দুই বছরের মাথায় সাফল্য পাওয়ায় নিয়মিত তেজপাতা আর আদা-হলুদ চাষ করছেন। ১৬ বছর ধরে এই মসলা বিক্রির টাকায় জমি কিনেছেন, বাড়ি করেছেন, মোটরসাইকেলও কিনেছেন।
টেপামধুপুর গ্রামের মোখলেছার রহমান, ছমছের আলী, লেবু মিয়া, আসাদুজ্জামান, আবদুল জব্বার, সদরা তালুক গ্রামের আবু বক্কর, আরাজী কানুয়া গ্রামের মোবারক হোসেনও তেজপাতা চাষ করেন। তাদের হিসাবে, আগে এক একর জমির ধান বিক্রি করে বছরে লাভ হতো ৩০-৪০ হাজার টাকা। একই জমিতে তেজপাতা ও আদা-হলুদ চাষ করে আয় করেছেন প্রায় দুই লাখ টাকা।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, লাভ বেশি হওয়ায় লোকজন ধানি জমিতেও তেজপাতার চাষ করছেন। তেজপাতার চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তেজপাতার চারা রোপণ করা হয়। পুকুরপাড়ে, রাস্তার ধারে, জমির আলে, বাড়ির উঠানে এই গাছ লাগানো যায়। এক একর জমিতে দেড় শ চারা রোপণ করা যায়। সেখান থেকে দুই বছরের মাথায় তেজপাতা সংগ্রহ করা হয়।
কাউনিয়ার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুল হক বলেন, এক একর জমি থেকে বছরে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকার তেজপাতা বিক্রি হয়। উৎপাদন খরচ একরপ্রতি ১২-১৪ হাজার টাকার বেশি নয়। একই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে আদা, হলুদ, লালশাক চাষ করা যায়। একটি গাছ থেকে শত বছর পর্যন্ত পাতা সংগ্রহ করা যায়।
যত দিন যাচ্ছে, বাজারে কাউনিয়ার তেজপাতার চাহিদাও বাড়ছে। সারা বছরই তেজপাতা বিক্রি হয়। স্থানীয় বাজারে বর্তমান শুকনা তেজপাতা ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
কাউনিয়া উপজেলার তেজপাতা ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, মান ভালো হওয়ায় দেশের বড় বড় কোম্পানিও কাউনিয়া থেকে তেজপাতা কিনে নিয়ে যায়। তেজপাতাকে ঘিরে এলাকায় ব্যবসার প্রসারও ঘটেছে।

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বই-খাতা ছেড়ে অন্যের বাড়িতে কাজ নিতে হয়েছিল। এর পরের গল্পটা অবশ্য ভিন্ন। যে গল্প অনুপ্রেরণার, মানুষকে পথ দেখানোর। দিনমজুরি করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন রংপুরের কাউনিয়ার গোলজার হোসেন। তিনি এখন অন্যকে ভাগ্যবদলের পথ দেখাচ্ছেন।
গোলজার হোসেনের দিনবদলের শুরুটা হয়েছিল মাত্র ১৪টি তেজপাতার চারা রোপণের মধ্য দিয়ে। তার হাত ধরে তেজপাতা হয়ে উঠেছে কাউনিয়ার শতাধিক পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার প্রতীক।
উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তেজপাতাচাষির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৮৮৩ হেক্টর জমিতে এখন তেজপাতার চাষ হচ্ছে। কাউনিয়ার তেজপাতার ‘সুবাস’ এখন দূরদূরান্তেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন। তাদের হাত ধরে ভেষজ এই মসলা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।
কাউনিয়া উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম বাজেমজকুর। এ গ্রামেই গোলজার হোসেনের বাড়ি। দুই বোন, চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় গোলজার হোসেন। তার জন্ম ১৯৬৩ সালে। আট বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার পর বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়ির গরু ছাগল লালন–পালনের কাজ করেন তিনি। ২২ বছর বয়সে মায়ের মৃত্যু তার জীবনে বড় আঘাত হয়ে আসে। কী করবেন, তখন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। বিভিন্নজনের সঙ্গে পরামর্শ করেন, কেউ কেউ ব্যবসার কথা বলেন। একজন বলেছিলেন, ধান–সবজির চাষ তো কমবেশি গ্রামের সবাই করে, মসলার চাষ করে দেখতে পারেন। লাভ হলেও হতে পারে!
মানসিক অস্থিরতার ওই সময়ে পরিবারের চাপে পড়ে বিয়েও করেন গোলজার হোসেন। বিয়ের কয়েক মাস পর কী এক কাজে কাউনিয়া থেকে বগুড়ায় যান তিনি। ফেরার সময় ১৪টি তেজপাতার চারা কিনেছিলেন। কৌতূহলবশত বাড়ির উঠানেই সেসব চারা রোপণ করেন। এর দুই বছরের মাথায় তেজপাতা বিক্রি করে গোলজার আয় করেন পাঁচ হাজার টাকা। এই টাকা থেকে চার হাজার টাকা দিয়ে ৮০ শতক জমি ইজারা নিয়ে ১০০টি তেজপাতার চারা লাগান। গাছের ফাঁকে ফাঁকে লাগান আদা আর হলুদ। অভাবের সংসারে একটু একটু করে সচ্ছলতাও আসে। দিনমজুর থেকে গোলজার হোসেন হয়ে ওঠেন সফল চাষি। এখন দুই একর জমিতে মসলার চাষ করছেন গোলজার। খরচ বাদে বছরে তার আয় হচ্ছে চার লাখ টাকা।

গোলজার হোসেন বলেন, রোদ, ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিনমজুরের কাজ করেছি। এরপরও স্ত্রী-সন্তানদের জন্য তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে পারতাম না। তেজপাতার চাষে দিন বদলেছে।
৬৩ বছর বয়সী গোলজার হোসেনকে এলাকার মানুষ ‘গুরু’ মানেন। তার দিকনির্দেশনায় বহু কৃষক সাফল্যের মুখ দেখেছেন। বাজেমজকুরের পাশের গ্রাম টেপামধুপুরের কৃষক মোসলেম উদ্দিন ২০১০ সালে ৩৩ শতক জমিতে তেজপাতা চাষ শুরু করেন। দুই বছরের মাথায় সাফল্য পাওয়ায় নিয়মিত তেজপাতা আর আদা-হলুদ চাষ করছেন। ১৬ বছর ধরে এই মসলা বিক্রির টাকায় জমি কিনেছেন, বাড়ি করেছেন, মোটরসাইকেলও কিনেছেন।
টেপামধুপুর গ্রামের মোখলেছার রহমান, ছমছের আলী, লেবু মিয়া, আসাদুজ্জামান, আবদুল জব্বার, সদরা তালুক গ্রামের আবু বক্কর, আরাজী কানুয়া গ্রামের মোবারক হোসেনও তেজপাতা চাষ করেন। তাদের হিসাবে, আগে এক একর জমির ধান বিক্রি করে বছরে লাভ হতো ৩০-৪০ হাজার টাকা। একই জমিতে তেজপাতা ও আদা-হলুদ চাষ করে আয় করেছেন প্রায় দুই লাখ টাকা।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, লাভ বেশি হওয়ায় লোকজন ধানি জমিতেও তেজপাতার চাষ করছেন। তেজপাতার চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তেজপাতার চারা রোপণ করা হয়। পুকুরপাড়ে, রাস্তার ধারে, জমির আলে, বাড়ির উঠানে এই গাছ লাগানো যায়। এক একর জমিতে দেড় শ চারা রোপণ করা যায়। সেখান থেকে দুই বছরের মাথায় তেজপাতা সংগ্রহ করা হয়।
কাউনিয়ার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুল হক বলেন, এক একর জমি থেকে বছরে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকার তেজপাতা বিক্রি হয়। উৎপাদন খরচ একরপ্রতি ১২-১৪ হাজার টাকার বেশি নয়। একই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে আদা, হলুদ, লালশাক চাষ করা যায়। একটি গাছ থেকে শত বছর পর্যন্ত পাতা সংগ্রহ করা যায়।
যত দিন যাচ্ছে, বাজারে কাউনিয়ার তেজপাতার চাহিদাও বাড়ছে। সারা বছরই তেজপাতা বিক্রি হয়। স্থানীয় বাজারে বর্তমান শুকনা তেজপাতা ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
কাউনিয়া উপজেলার তেজপাতা ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, মান ভালো হওয়ায় দেশের বড় বড় কোম্পানিও কাউনিয়া থেকে তেজপাতা কিনে নিয়ে যায়। তেজপাতাকে ঘিরে এলাকায় ব্যবসার প্রসারও ঘটেছে।

তেজপাতায় শতাধিক পরিবারের দিনবদল
রংপুর সংবাদদাতা

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বই-খাতা ছেড়ে অন্যের বাড়িতে কাজ নিতে হয়েছিল। এর পরের গল্পটা অবশ্য ভিন্ন। যে গল্প অনুপ্রেরণার, মানুষকে পথ দেখানোর। দিনমজুরি করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন রংপুরের কাউনিয়ার গোলজার হোসেন। তিনি এখন অন্যকে ভাগ্যবদলের পথ দেখাচ্ছেন।
গোলজার হোসেনের দিনবদলের শুরুটা হয়েছিল মাত্র ১৪টি তেজপাতার চারা রোপণের মধ্য দিয়ে। তার হাত ধরে তেজপাতা হয়ে উঠেছে কাউনিয়ার শতাধিক পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার প্রতীক।
উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তেজপাতাচাষির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৮৮৩ হেক্টর জমিতে এখন তেজপাতার চাষ হচ্ছে। কাউনিয়ার তেজপাতার ‘সুবাস’ এখন দূরদূরান্তেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন। তাদের হাত ধরে ভেষজ এই মসলা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।
কাউনিয়া উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম বাজেমজকুর। এ গ্রামেই গোলজার হোসেনের বাড়ি। দুই বোন, চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় গোলজার হোসেন। তার জন্ম ১৯৬৩ সালে। আট বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার পর বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়ির গরু ছাগল লালন–পালনের কাজ করেন তিনি। ২২ বছর বয়সে মায়ের মৃত্যু তার জীবনে বড় আঘাত হয়ে আসে। কী করবেন, তখন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। বিভিন্নজনের সঙ্গে পরামর্শ করেন, কেউ কেউ ব্যবসার কথা বলেন। একজন বলেছিলেন, ধান–সবজির চাষ তো কমবেশি গ্রামের সবাই করে, মসলার চাষ করে দেখতে পারেন। লাভ হলেও হতে পারে!
মানসিক অস্থিরতার ওই সময়ে পরিবারের চাপে পড়ে বিয়েও করেন গোলজার হোসেন। বিয়ের কয়েক মাস পর কী এক কাজে কাউনিয়া থেকে বগুড়ায় যান তিনি। ফেরার সময় ১৪টি তেজপাতার চারা কিনেছিলেন। কৌতূহলবশত বাড়ির উঠানেই সেসব চারা রোপণ করেন। এর দুই বছরের মাথায় তেজপাতা বিক্রি করে গোলজার আয় করেন পাঁচ হাজার টাকা। এই টাকা থেকে চার হাজার টাকা দিয়ে ৮০ শতক জমি ইজারা নিয়ে ১০০টি তেজপাতার চারা লাগান। গাছের ফাঁকে ফাঁকে লাগান আদা আর হলুদ। অভাবের সংসারে একটু একটু করে সচ্ছলতাও আসে। দিনমজুর থেকে গোলজার হোসেন হয়ে ওঠেন সফল চাষি। এখন দুই একর জমিতে মসলার চাষ করছেন গোলজার। খরচ বাদে বছরে তার আয় হচ্ছে চার লাখ টাকা।

গোলজার হোসেন বলেন, রোদ, ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিনমজুরের কাজ করেছি। এরপরও স্ত্রী-সন্তানদের জন্য তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে পারতাম না। তেজপাতার চাষে দিন বদলেছে।
৬৩ বছর বয়সী গোলজার হোসেনকে এলাকার মানুষ ‘গুরু’ মানেন। তার দিকনির্দেশনায় বহু কৃষক সাফল্যের মুখ দেখেছেন। বাজেমজকুরের পাশের গ্রাম টেপামধুপুরের কৃষক মোসলেম উদ্দিন ২০১০ সালে ৩৩ শতক জমিতে তেজপাতা চাষ শুরু করেন। দুই বছরের মাথায় সাফল্য পাওয়ায় নিয়মিত তেজপাতা আর আদা-হলুদ চাষ করছেন। ১৬ বছর ধরে এই মসলা বিক্রির টাকায় জমি কিনেছেন, বাড়ি করেছেন, মোটরসাইকেলও কিনেছেন।
টেপামধুপুর গ্রামের মোখলেছার রহমান, ছমছের আলী, লেবু মিয়া, আসাদুজ্জামান, আবদুল জব্বার, সদরা তালুক গ্রামের আবু বক্কর, আরাজী কানুয়া গ্রামের মোবারক হোসেনও তেজপাতা চাষ করেন। তাদের হিসাবে, আগে এক একর জমির ধান বিক্রি করে বছরে লাভ হতো ৩০-৪০ হাজার টাকা। একই জমিতে তেজপাতা ও আদা-হলুদ চাষ করে আয় করেছেন প্রায় দুই লাখ টাকা।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, লাভ বেশি হওয়ায় লোকজন ধানি জমিতেও তেজপাতার চাষ করছেন। তেজপাতার চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তেজপাতার চারা রোপণ করা হয়। পুকুরপাড়ে, রাস্তার ধারে, জমির আলে, বাড়ির উঠানে এই গাছ লাগানো যায়। এক একর জমিতে দেড় শ চারা রোপণ করা যায়। সেখান থেকে দুই বছরের মাথায় তেজপাতা সংগ্রহ করা হয়।
কাউনিয়ার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুল হক বলেন, এক একর জমি থেকে বছরে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকার তেজপাতা বিক্রি হয়। উৎপাদন খরচ একরপ্রতি ১২-১৪ হাজার টাকার বেশি নয়। একই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে আদা, হলুদ, লালশাক চাষ করা যায়। একটি গাছ থেকে শত বছর পর্যন্ত পাতা সংগ্রহ করা যায়।
যত দিন যাচ্ছে, বাজারে কাউনিয়ার তেজপাতার চাহিদাও বাড়ছে। সারা বছরই তেজপাতা বিক্রি হয়। স্থানীয় বাজারে বর্তমান শুকনা তেজপাতা ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
কাউনিয়া উপজেলার তেজপাতা ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, মান ভালো হওয়ায় দেশের বড় বড় কোম্পানিও কাউনিয়া থেকে তেজপাতা কিনে নিয়ে যায়। তেজপাতাকে ঘিরে এলাকায় ব্যবসার প্রসারও ঘটেছে।









