ভূমির স্থিতিশীলতা ও ঝুঁকি আমলে না নিয়ে ঢাকায় ভূগর্ভের পানি উত্তোলন অব্যাহত

ভূমির স্থিতিশীলতা ও ঝুঁকি আমলে না নিয়ে ঢাকায় ভূগর্ভের পানি উত্তোলন অব্যাহত
সেলিনা আক্তার

রাজধানী ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নামছে। গত দুই দশকে পানির স্তর নেমেছে প্রায় ৬৭ মিটার। ২০০১ সালে যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৩৯ দশমিক ৬ মিটার, সেখানে ২০২৬ সালে তা নেমে ১১৫ মিটার বা তার বেশি হতে পারে। নগরীর দৈনিক ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি লিটার পানির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই মেটানো হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী-জলাশয় দখল, সবুজ এলাকার সংকোচন এবং বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশের সুযোগ কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পুনর্ভরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পানি সরবরাহের সংকটের পাশাপাশি ভূমির স্থিতিশীলতা ও নগরের দুর্যোগ ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, ঢাকার বড় অংশ কংক্রিটে আচ্ছাদিত থাকায় বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ভূগর্ভ থেকে যে পরিমাণ পানি তোলা হচ্ছে, সে তুলনায় প্রাকৃতিকভাবে পানি পুনর্ভরণ হচ্ছে কম।
অবশ্য এই সংকট মোকাবিলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন ভূগর্ভস্থ পানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধান, পানি উত্তোলনে কার্যকর নীতিমালা এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পানির সংকটের পাশাপাশি মাটির স্তর সংকুচিত হওয়া ও ভূমি অবনমনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৪৫ দশমিক ৬ মিটার। ২০০৫ সালে তা নেমে ৫৪ দশমিক ২ মিটারে এবং ২০০৭ সালে ৬০ মিটারে পৌঁছায়। এরপর ২০২০ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৯৯ মিটার, ২০২১ সালে ১০২ দশমিক ৮ মিটার, ২০২২ সালে ১০৪ দশমিক ৮ মিটার এবং ২০২৪ সালে ১০৬ মিটারে নেমে আসে। ২০২৬ সালে এ স্তর ১১৫ মিটারে পৌঁছাতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসা দৈনিক ৩২০ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের দাবি করলেও উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়। নগরীর দৈনিক ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি লিটার পানির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২০৩ কোটি লিটার, সরবরাহ করা হয় গভীর নলকূপের মাধ্যমে। বিপরীতে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে আসে মাত্র ৩০ শতাংশ বা দৈনিক প্রায় ৮৭ কোটি লিটার পানি।
ঢাকা ওয়াসার অধীন ৪০১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় চার লাখ ছয় হাজার পানির সংযোগ রয়েছে। ভূ-উপরিস্থ উৎসের পানি শোধনের জন্য সংস্থাটির পাঁচটি পানি শোধনাগার রয়েছে।
জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেলে পানি তুলতে অধিক গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। এতে পানি উত্তোলনের ব্যয় বাড়বে, পাশাপাশি পানি সরবরাহ অবকাঠামোর ওপরও চাপ তৈরি হবে।
এই বিষয়ে ড. আদিল মুহাম্মদ খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘একটি আদর্শ নগরে ২৫ শতাংশ সবুজ এলাকা এবং ১০ থেকে ১২ শতাংশ জলাশয় থাকা উচিত। কিন্তু ঢাকায় সবুজ এলাকা ও জলাশয় মিলিয়ে তা মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে অবকাঠামো গড়ে ওঠায় সেগুলো ভেঙে নতুন করে সবুজ এলাকা তৈরি করা কঠিন। তাই বিদ্যমান জলাশয় ও নদী পুনরুদ্ধার এবং ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে।’
এই নগর পরিকল্পমনাবিদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নদী ও জলাশয়কে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং মাটির নিচে পানি প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে নগরীর পানি সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে গবেষণা প্রয়োজন। এ জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি উত্তোলনের ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা থাকা উচিত। যে কেউ যেন নিজের ইচ্ছামতো গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি উত্তোলন করতে না পারে, সে বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ দরকার।
ড. মো. জামাল উদ্দিন আরও বলেন, কোনো এলাকায় ভবন বা স্থাপনার অনুমোদন দেওয়ার সময় রাজউকের বিবেচনা করা উচিত, সেখানে পানির চাহিদা কোন উৎস থেকে পূরণ করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা ওয়াসাকে পানি উত্তোলন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা বা রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং চালুর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু পানি সরবরাহের সংকটে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে কোনো কোনো এলাকায় মাটির স্তর সংকুচিত হয়ে ভূমি অবনমনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ঢাকা শহরের বড় একটি অংশ ‘মধুপুর কাদা’ নামে পরিচিত শক্ত মাটির স্তরের ওপর অবস্থিত। এ কারণে কিছু এলাকায় বড় ধরনের ভূমি অবনমনের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ সুরক্ষা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, কৃত্রিমভাবে ভরাট করা নিম্নাঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণ এবং অনিয়ন্ত্রিত বহুতল ভবনের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের সময় এসব এলাকার মাটির বৈশিষ্ট্য ও স্থাপনার ঝুঁকি বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে মূল ঢাকার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে এ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পুরো রাজধানীর সব এলাকার ঝুঁকি একই রকম বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ঢাকার সব স্থানে শক্ত কাদামাটির স্তর নেই। বসুন্ধরা ও জলসিঁড়ির মতো কিছু এলাকায় নরম মাটি রয়েছে। এসব স্থানে মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসা ২০৩০ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে পানি সরবরাহের অনুপাত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর নীতিমালা এবং নদী-জলাশয় সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, মাটির নিচে পানি প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি, বিকল্প পানির উৎস উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়তে থাকা চাপ ভবিষ্যতে রাজধানীর পানি সরবরাহ, ভূমির স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

রাজধানী ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নামছে। গত দুই দশকে পানির স্তর নেমেছে প্রায় ৬৭ মিটার। ২০০১ সালে যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৩৯ দশমিক ৬ মিটার, সেখানে ২০২৬ সালে তা নেমে ১১৫ মিটার বা তার বেশি হতে পারে। নগরীর দৈনিক ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি লিটার পানির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই মেটানো হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী-জলাশয় দখল, সবুজ এলাকার সংকোচন এবং বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশের সুযোগ কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পুনর্ভরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পানি সরবরাহের সংকটের পাশাপাশি ভূমির স্থিতিশীলতা ও নগরের দুর্যোগ ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, ঢাকার বড় অংশ কংক্রিটে আচ্ছাদিত থাকায় বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ভূগর্ভ থেকে যে পরিমাণ পানি তোলা হচ্ছে, সে তুলনায় প্রাকৃতিকভাবে পানি পুনর্ভরণ হচ্ছে কম।
অবশ্য এই সংকট মোকাবিলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন ভূগর্ভস্থ পানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধান, পানি উত্তোলনে কার্যকর নীতিমালা এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পানির সংকটের পাশাপাশি মাটির স্তর সংকুচিত হওয়া ও ভূমি অবনমনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৪৫ দশমিক ৬ মিটার। ২০০৫ সালে তা নেমে ৫৪ দশমিক ২ মিটারে এবং ২০০৭ সালে ৬০ মিটারে পৌঁছায়। এরপর ২০২০ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৯৯ মিটার, ২০২১ সালে ১০২ দশমিক ৮ মিটার, ২০২২ সালে ১০৪ দশমিক ৮ মিটার এবং ২০২৪ সালে ১০৬ মিটারে নেমে আসে। ২০২৬ সালে এ স্তর ১১৫ মিটারে পৌঁছাতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসা দৈনিক ৩২০ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের দাবি করলেও উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়। নগরীর দৈনিক ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি লিটার পানির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২০৩ কোটি লিটার, সরবরাহ করা হয় গভীর নলকূপের মাধ্যমে। বিপরীতে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে আসে মাত্র ৩০ শতাংশ বা দৈনিক প্রায় ৮৭ কোটি লিটার পানি।
ঢাকা ওয়াসার অধীন ৪০১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় চার লাখ ছয় হাজার পানির সংযোগ রয়েছে। ভূ-উপরিস্থ উৎসের পানি শোধনের জন্য সংস্থাটির পাঁচটি পানি শোধনাগার রয়েছে।
জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেলে পানি তুলতে অধিক গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। এতে পানি উত্তোলনের ব্যয় বাড়বে, পাশাপাশি পানি সরবরাহ অবকাঠামোর ওপরও চাপ তৈরি হবে।
এই বিষয়ে ড. আদিল মুহাম্মদ খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘একটি আদর্শ নগরে ২৫ শতাংশ সবুজ এলাকা এবং ১০ থেকে ১২ শতাংশ জলাশয় থাকা উচিত। কিন্তু ঢাকায় সবুজ এলাকা ও জলাশয় মিলিয়ে তা মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে অবকাঠামো গড়ে ওঠায় সেগুলো ভেঙে নতুন করে সবুজ এলাকা তৈরি করা কঠিন। তাই বিদ্যমান জলাশয় ও নদী পুনরুদ্ধার এবং ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে।’
এই নগর পরিকল্পমনাবিদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নদী ও জলাশয়কে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং মাটির নিচে পানি প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে নগরীর পানি সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে গবেষণা প্রয়োজন। এ জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি উত্তোলনের ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা থাকা উচিত। যে কেউ যেন নিজের ইচ্ছামতো গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি উত্তোলন করতে না পারে, সে বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ দরকার।
ড. মো. জামাল উদ্দিন আরও বলেন, কোনো এলাকায় ভবন বা স্থাপনার অনুমোদন দেওয়ার সময় রাজউকের বিবেচনা করা উচিত, সেখানে পানির চাহিদা কোন উৎস থেকে পূরণ করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা ওয়াসাকে পানি উত্তোলন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা বা রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং চালুর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু পানি সরবরাহের সংকটে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে কোনো কোনো এলাকায় মাটির স্তর সংকুচিত হয়ে ভূমি অবনমনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ঢাকা শহরের বড় একটি অংশ ‘মধুপুর কাদা’ নামে পরিচিত শক্ত মাটির স্তরের ওপর অবস্থিত। এ কারণে কিছু এলাকায় বড় ধরনের ভূমি অবনমনের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ সুরক্ষা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, কৃত্রিমভাবে ভরাট করা নিম্নাঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণ এবং অনিয়ন্ত্রিত বহুতল ভবনের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের সময় এসব এলাকার মাটির বৈশিষ্ট্য ও স্থাপনার ঝুঁকি বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে মূল ঢাকার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে এ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পুরো রাজধানীর সব এলাকার ঝুঁকি একই রকম বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ঢাকার সব স্থানে শক্ত কাদামাটির স্তর নেই। বসুন্ধরা ও জলসিঁড়ির মতো কিছু এলাকায় নরম মাটি রয়েছে। এসব স্থানে মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসা ২০৩০ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে পানি সরবরাহের অনুপাত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর নীতিমালা এবং নদী-জলাশয় সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, মাটির নিচে পানি প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি, বিকল্প পানির উৎস উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়তে থাকা চাপ ভবিষ্যতে রাজধানীর পানি সরবরাহ, ভূমির স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

ভূমির স্থিতিশীলতা ও ঝুঁকি আমলে না নিয়ে ঢাকায় ভূগর্ভের পানি উত্তোলন অব্যাহত
সেলিনা আক্তার

রাজধানী ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নামছে। গত দুই দশকে পানির স্তর নেমেছে প্রায় ৬৭ মিটার। ২০০১ সালে যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৩৯ দশমিক ৬ মিটার, সেখানে ২০২৬ সালে তা নেমে ১১৫ মিটার বা তার বেশি হতে পারে। নগরীর দৈনিক ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি লিটার পানির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই মেটানো হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী-জলাশয় দখল, সবুজ এলাকার সংকোচন এবং বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশের সুযোগ কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পুনর্ভরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পানি সরবরাহের সংকটের পাশাপাশি ভূমির স্থিতিশীলতা ও নগরের দুর্যোগ ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, ঢাকার বড় অংশ কংক্রিটে আচ্ছাদিত থাকায় বৃষ্টির পানি মাটির নিচে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ভূগর্ভ থেকে যে পরিমাণ পানি তোলা হচ্ছে, সে তুলনায় প্রাকৃতিকভাবে পানি পুনর্ভরণ হচ্ছে কম।
অবশ্য এই সংকট মোকাবিলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন ভূগর্ভস্থ পানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধান, পানি উত্তোলনে কার্যকর নীতিমালা এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পানির সংকটের পাশাপাশি মাটির স্তর সংকুচিত হওয়া ও ভূমি অবনমনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৪৫ দশমিক ৬ মিটার। ২০০৫ সালে তা নেমে ৫৪ দশমিক ২ মিটারে এবং ২০০৭ সালে ৬০ মিটারে পৌঁছায়। এরপর ২০২০ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৯৯ মিটার, ২০২১ সালে ১০২ দশমিক ৮ মিটার, ২০২২ সালে ১০৪ দশমিক ৮ মিটার এবং ২০২৪ সালে ১০৬ মিটারে নেমে আসে। ২০২৬ সালে এ স্তর ১১৫ মিটারে পৌঁছাতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসা দৈনিক ৩২০ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের দাবি করলেও উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়। নগরীর দৈনিক ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি লিটার পানির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২০৩ কোটি লিটার, সরবরাহ করা হয় গভীর নলকূপের মাধ্যমে। বিপরীতে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে আসে মাত্র ৩০ শতাংশ বা দৈনিক প্রায় ৮৭ কোটি লিটার পানি।
ঢাকা ওয়াসার অধীন ৪০১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় চার লাখ ছয় হাজার পানির সংযোগ রয়েছে। ভূ-উপরিস্থ উৎসের পানি শোধনের জন্য সংস্থাটির পাঁচটি পানি শোধনাগার রয়েছে।
জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেলে পানি তুলতে অধিক গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। এতে পানি উত্তোলনের ব্যয় বাড়বে, পাশাপাশি পানি সরবরাহ অবকাঠামোর ওপরও চাপ তৈরি হবে।
এই বিষয়ে ড. আদিল মুহাম্মদ খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘একটি আদর্শ নগরে ২৫ শতাংশ সবুজ এলাকা এবং ১০ থেকে ১২ শতাংশ জলাশয় থাকা উচিত। কিন্তু ঢাকায় সবুজ এলাকা ও জলাশয় মিলিয়ে তা মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে অবকাঠামো গড়ে ওঠায় সেগুলো ভেঙে নতুন করে সবুজ এলাকা তৈরি করা কঠিন। তাই বিদ্যমান জলাশয় ও নদী পুনরুদ্ধার এবং ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে।’
এই নগর পরিকল্পমনাবিদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নদী ও জলাশয়কে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং মাটির নিচে পানি প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে নগরীর পানি সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে গবেষণা প্রয়োজন। এ জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি উত্তোলনের ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা থাকা উচিত। যে কেউ যেন নিজের ইচ্ছামতো গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি উত্তোলন করতে না পারে, সে বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ দরকার।
ড. মো. জামাল উদ্দিন আরও বলেন, কোনো এলাকায় ভবন বা স্থাপনার অনুমোদন দেওয়ার সময় রাজউকের বিবেচনা করা উচিত, সেখানে পানির চাহিদা কোন উৎস থেকে পূরণ করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা ওয়াসাকে পানি উত্তোলন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা বা রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং চালুর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু পানি সরবরাহের সংকটে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে কোনো কোনো এলাকায় মাটির স্তর সংকুচিত হয়ে ভূমি অবনমনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ঢাকা শহরের বড় একটি অংশ ‘মধুপুর কাদা’ নামে পরিচিত শক্ত মাটির স্তরের ওপর অবস্থিত। এ কারণে কিছু এলাকায় বড় ধরনের ভূমি অবনমনের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ সুরক্ষা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, কৃত্রিমভাবে ভরাট করা নিম্নাঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণ এবং অনিয়ন্ত্রিত বহুতল ভবনের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের সময় এসব এলাকার মাটির বৈশিষ্ট্য ও স্থাপনার ঝুঁকি বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে মূল ঢাকার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে এ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পুরো রাজধানীর সব এলাকার ঝুঁকি একই রকম বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ঢাকার সব স্থানে শক্ত কাদামাটির স্তর নেই। বসুন্ধরা ও জলসিঁড়ির মতো কিছু এলাকায় নরম মাটি রয়েছে। এসব স্থানে মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসা ২০৩০ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে পানি সরবরাহের অনুপাত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর নীতিমালা এবং নদী-জলাশয় সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, মাটির নিচে পানি প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি, বিকল্প পানির উৎস উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়তে থাকা চাপ ভবিষ্যতে রাজধানীর পানি সরবরাহ, ভূমির স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

যুগের পর যুগ সেবা না দিয়েই সুয়ারেজ
বিল আদায় করছে ঢাকা ওয়াসা
ঢাকা ওয়াসায় ৮৩ পদে চাকরির সুযোগ, আবেদন দ্রুত







