অন্ত ও বহির্বিভাগে চিকিৎসায় দীর্ঘ অপেক্ষা, ভোগান্তিতে মিটফোর্ডের রোগীরা
পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল। ১৮৫৮ সালের ১ মে এটি চালু হয়। দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। জায়গার অভাবে রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীর অস্বাভাবিক চাপ। সেবা পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বাইরে থেকে বেশি টাকা দিয়ে করাতে হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা। চিকিৎসকেরা অফিস চলাকালীন বাইরে রোগী দেখেন। হাসপাতালের কর্মচারীরা পরিত্যক্ত ভবনে মানবেতর জীবনযাপন করেন। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব অনিয়ম ও ভোগান্তির চিত্র। আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি আয়নাল হোসেনের তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব আজ প্রকাশ করা হলো।

অন্ত ও বহির্বিভাগে চিকিৎসায় দীর্ঘ অপেক্ষা, ভোগান্তিতে মিটফোর্ডের রোগীরা
আয়নাল হোসেন

টিকিটের জন্য জরুরি ও বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার সব পরীক্ষায় হয় না এখানে। বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে করাতে হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে তিনটি ওষুধ দিলে একটিও দেওয়া হয় না। অর্থোপেডিক, সার্জারি, ইএনটিসহ বিভিন্ন বিভাগে দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করেও অস্ত্রোপচার করা যায় না। আছে দালালদের দৌরাত্ম্য। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আছে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ। এসব কারণে পদে পদে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
গত ১৭ ও ২০ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবার এই হতাশার চিত্র দেখা গেছে। লাখো মানুষ চিকিৎসার জন্য দেশের অন্যতম এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই হাসপাতালে এসে টিকিট কাটা থেকে শুরু করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দেওয়াসহ বিভিন্ন সেবা পেতে সাত ঘণ্টা- আট ঘণ্টা এমনকি কোনো কোনো সময় দুই দিনও অপেক্ষা করতে হয়। দালালরা এই সুযোগেই রোগীদের আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ কাজে এই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগীরা বর্হিবিভাগ কিংবা অন্তর্বিভাগ যেখানেই যান নানা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। হাসপাতালে সব ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ রোগীদের বাইরে থেকে এসব পরীক্ষা করাতে হয়। বিশেষ করে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশির ভাগ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাইরে বেশি টাকা খরচ করে করাতে হচ্ছে। রিপোর্ট হাতে না পেলে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে দেরি করা হয়। ফলে রোগীদের স্বজনেরা বেশি টাকা দিয়ে বাইরের প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ হয়। যেমন সরকারি হাসপাতালে ইকোকার্ডিওগ্রাফি (সাদাকালো) করাতে যেখানে ২০০ টাকা লাগে সেখানে বাইরে একই পরীক্ষা করাতে ১০০০–১২০০ টাকা খরচ হয়। একইভাবে সরকারি হাসপাতালে ইসিজি পরীক্ষার জন্য ৮০ টাকা নেওয়া হলেও বাইরে ২৫০–৩০০ টাকা, সরকারি হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফিতে ১৫০–৩০০ টাকার বিপরীতে বেসরকারিতে ১০০০–১২০০ টাকা, সিরাম ক্রিয়েটিনিন সরকারিতে ৫০ টাকার বিপরীতে বেসরকারিতে ৩৫০–৪০০ টাকা এবং ডায়বেটিস নির্ণয়ের জন্য এইচবিএওয়ানসি পরীক্ষা করাতে সরকারিতে যেখানে ৩০০ টাকা লাগে সেখানে বেসরকারিতে লাগে ১১০০–১৪০০ টাকা।
হাসপাতালে ভোগান্তির চিত্র
গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বর্হিবিভাগের সামনে কথা হয় কেরানীগঞ্জের কালিন্দী এলাকার রোগী আছিয়া খাতুনের স্বামী ইরফান আলীর সঙ্গে। আছিয়া খাতুন হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগে ভর্তি রয়েছেন। ওই বিভাগের চিকিৎসকেরা তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ কয়েকটি পরীক্ষা করাতে দেন। ইরফান আলী পরীক্ষার তালিকা সংবলিত ব্যবস্থাপত্র নিয়ে কাউন্টারে টাকা জমা দিতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ১২০ জনের পেছনে লাইনে দাঁড়ান। দুই ঘণ্টা পর তিনি কাউন্টারে আসার সুযোগ পান। কিন্তু টাকা জমা দিতে গিয়ে তিনি পড়েন বিপত্তিতে। কাউন্টারের কর্মী টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রোগীর ভর্তির ফাইল কাউন্টারে নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু ভর্তি রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দিতে হলে যে ভর্তির ফাইলের প্রয়োজন হয় তা ইরফান আলী জানতেন না।
ইরফান আলী বলেন, ‘আমি ১২০ জনের পেছনে লাইনে দাঁড়াইয়া কাউন্টারে টাকা জমা দিতে যাই। কিন্তু ভর্তির ফাইল ছাড়া কাউন্টারের কর্মী কোনো টাকা জমা নিবে না। এই কথাটি কোথাও লেখা নাই। তখন কী আর করা, আবার ওয়ার্ডে গিয়া ফাইল নিয়া লাইনে দাঁড়াইছি। ওয়ার্ড থাইক্যা এই কথা বইল্যা দিলে বা টাকা জমা দেওয়ার কাউন্টারের পাশে বিষয়টি লেখা থাকলে আমাকে হয়রানি শিকার হতে হতো না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্হিবিভাগে এক থেকে দুই থেকে ঘণ্টা অপেক্ষার পর চিকিৎসক দেখানোর টিকিট পাওয়া যায়। এরপর চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গিয়ে আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এরপর কোনো পরীক্ষা দিলে টাকা জমা দিতে গেলেও লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়। টাকা জমা দেওয়ার পর নমুনা (স্যাম্পল) দিতে গেলে সেখানেও দীর্ঘ লাইন। এসব কাজ করতে করতে দিন শেষ হয়ে যায়। পরের দিন এসে আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়।

১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে সাড়ে তিনটার দিকে হাসপাতালের বর্হিবিভাগের আট তলায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য চালু করা ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে গিয়ে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তমের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি ওই ওয়ার্ড একজন নারী রোগী মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি তার পালস পরীক্ষা করেন। এরপর রোগীর ফাইল দেখতে চান। কিন্তু নার্স কিংবা চিকিৎসকের কাছে রোগীর ফাইল পাওয়া যায়নি। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রোগীর স্বামী ফাইল নিয়ে টাকা জমা দিতে গেছেন। তখন পরিচালক ভর্তি হওয়া রোগীর ফাইল যাতে বাইরে না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
ইতি আক্তার নামে পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার এক রোগী বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশিক্ষণ লাইনে দাঁড়াইয়া থাইক্যা ডাক্তারের কাছে যাই। ওষুধ কোম্পানির লোক ডাক্তারের কাছে গেছে। তাদের কারণে আমি ডাক্তার দেখাতে পারি নাই। তাগো (ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের) নাকি বৃহস্পতিবার ঢোকার পারমিশন আছে। কন এইডা কোনো কথা হইলো?’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেডিনোভার সোলায়মান, আল আমিন ও কাঞ্চন; পপুলারের কাউছার ও সবুজ এবং মেঘনা হাসপাতালের কবির হোসেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন। তারা ওয়ার্ড থেকে সরাসরি রোগীর স্যাম্পল সংগ্রহ করছেন। কয়েকজন দালাল আশপাশের মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, বাঁধন হাসপাতাল, ম্যাক্স মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, আল-আরাফাত হাসপাতাল, ডক্টরস ক্লিনিকস অ্যান্ড হাসপাতাল, ঢাকা হাসপাতাল ও নিউ ঢাকা ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার কাজে জড়িত।
অস্ত্রোপচারে বিলম্ব, বেসরকারি হাসপাতালই ভরসা
হাসপাতালের ওষুধের সংকট আছে বলে কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেছেন। এদের মধ্যে কেরানীগঞ্জ থেকে আসা রোগী ইয়াসমিন আক্তার জানান, হাসপাতালের বর্হিবিভাগের চিকিৎসক তাকে তিন ধরনের ওষুধ দেন। কিন্তু কাউন্টার থেকে কোনো ওষুধই তাকে দেওয়া হয়নি। কাউন্টারের কর্মীরা ওষুধের স্লিপও রেখে দিয়েছে।
ওষুধ-সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তম বলেন, ‘এটা আমি মানতে রাজি না। এখানে শতভাগ না হলেও ৯৫ শতাংশ ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বর্হিবিভাগে দৈনিক চার হাজার রোগী আসেন। এতো রোগীকে ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে পাঁচটি ওষুধের স্থলে হয়তো তিনটি পাচ্ছেন রোগীরা।’ রোগীরা যাতে হয়নারির শিকার না হয় সেজন্য তিনি নিয়মিত কয়েক ঘণ্টা পুরো হাসপাতালে চক্কর দেন বলে জানিয়েছেন।
রোগীদের ভোগান্তি, বাইরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বাধ্য করা, চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘৯০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এত রোগী সামাল দেওয়া অনেক কঠিন। এখন যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জায়গার অভাব এই হাসপাতালে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই কারণে রোগীদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’

টিকিটের জন্য জরুরি ও বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার সব পরীক্ষায় হয় না এখানে। বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে করাতে হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে তিনটি ওষুধ দিলে একটিও দেওয়া হয় না। অর্থোপেডিক, সার্জারি, ইএনটিসহ বিভিন্ন বিভাগে দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করেও অস্ত্রোপচার করা যায় না। আছে দালালদের দৌরাত্ম্য। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আছে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ। এসব কারণে পদে পদে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
গত ১৭ ও ২০ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবার এই হতাশার চিত্র দেখা গেছে। লাখো মানুষ চিকিৎসার জন্য দেশের অন্যতম এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই হাসপাতালে এসে টিকিট কাটা থেকে শুরু করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দেওয়াসহ বিভিন্ন সেবা পেতে সাত ঘণ্টা- আট ঘণ্টা এমনকি কোনো কোনো সময় দুই দিনও অপেক্ষা করতে হয়। দালালরা এই সুযোগেই রোগীদের আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ কাজে এই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগীরা বর্হিবিভাগ কিংবা অন্তর্বিভাগ যেখানেই যান নানা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। হাসপাতালে সব ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ রোগীদের বাইরে থেকে এসব পরীক্ষা করাতে হয়। বিশেষ করে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশির ভাগ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাইরে বেশি টাকা খরচ করে করাতে হচ্ছে। রিপোর্ট হাতে না পেলে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে দেরি করা হয়। ফলে রোগীদের স্বজনেরা বেশি টাকা দিয়ে বাইরের প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ হয়। যেমন সরকারি হাসপাতালে ইকোকার্ডিওগ্রাফি (সাদাকালো) করাতে যেখানে ২০০ টাকা লাগে সেখানে বাইরে একই পরীক্ষা করাতে ১০০০–১২০০ টাকা খরচ হয়। একইভাবে সরকারি হাসপাতালে ইসিজি পরীক্ষার জন্য ৮০ টাকা নেওয়া হলেও বাইরে ২৫০–৩০০ টাকা, সরকারি হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফিতে ১৫০–৩০০ টাকার বিপরীতে বেসরকারিতে ১০০০–১২০০ টাকা, সিরাম ক্রিয়েটিনিন সরকারিতে ৫০ টাকার বিপরীতে বেসরকারিতে ৩৫০–৪০০ টাকা এবং ডায়বেটিস নির্ণয়ের জন্য এইচবিএওয়ানসি পরীক্ষা করাতে সরকারিতে যেখানে ৩০০ টাকা লাগে সেখানে বেসরকারিতে লাগে ১১০০–১৪০০ টাকা।
হাসপাতালে ভোগান্তির চিত্র
গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বর্হিবিভাগের সামনে কথা হয় কেরানীগঞ্জের কালিন্দী এলাকার রোগী আছিয়া খাতুনের স্বামী ইরফান আলীর সঙ্গে। আছিয়া খাতুন হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগে ভর্তি রয়েছেন। ওই বিভাগের চিকিৎসকেরা তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ কয়েকটি পরীক্ষা করাতে দেন। ইরফান আলী পরীক্ষার তালিকা সংবলিত ব্যবস্থাপত্র নিয়ে কাউন্টারে টাকা জমা দিতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ১২০ জনের পেছনে লাইনে দাঁড়ান। দুই ঘণ্টা পর তিনি কাউন্টারে আসার সুযোগ পান। কিন্তু টাকা জমা দিতে গিয়ে তিনি পড়েন বিপত্তিতে। কাউন্টারের কর্মী টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রোগীর ভর্তির ফাইল কাউন্টারে নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু ভর্তি রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দিতে হলে যে ভর্তির ফাইলের প্রয়োজন হয় তা ইরফান আলী জানতেন না।
ইরফান আলী বলেন, ‘আমি ১২০ জনের পেছনে লাইনে দাঁড়াইয়া কাউন্টারে টাকা জমা দিতে যাই। কিন্তু ভর্তির ফাইল ছাড়া কাউন্টারের কর্মী কোনো টাকা জমা নিবে না। এই কথাটি কোথাও লেখা নাই। তখন কী আর করা, আবার ওয়ার্ডে গিয়া ফাইল নিয়া লাইনে দাঁড়াইছি। ওয়ার্ড থাইক্যা এই কথা বইল্যা দিলে বা টাকা জমা দেওয়ার কাউন্টারের পাশে বিষয়টি লেখা থাকলে আমাকে হয়রানি শিকার হতে হতো না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্হিবিভাগে এক থেকে দুই থেকে ঘণ্টা অপেক্ষার পর চিকিৎসক দেখানোর টিকিট পাওয়া যায়। এরপর চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গিয়ে আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এরপর কোনো পরীক্ষা দিলে টাকা জমা দিতে গেলেও লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়। টাকা জমা দেওয়ার পর নমুনা (স্যাম্পল) দিতে গেলে সেখানেও দীর্ঘ লাইন। এসব কাজ করতে করতে দিন শেষ হয়ে যায়। পরের দিন এসে আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়।

১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে সাড়ে তিনটার দিকে হাসপাতালের বর্হিবিভাগের আট তলায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য চালু করা ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে গিয়ে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তমের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি ওই ওয়ার্ড একজন নারী রোগী মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি তার পালস পরীক্ষা করেন। এরপর রোগীর ফাইল দেখতে চান। কিন্তু নার্স কিংবা চিকিৎসকের কাছে রোগীর ফাইল পাওয়া যায়নি। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রোগীর স্বামী ফাইল নিয়ে টাকা জমা দিতে গেছেন। তখন পরিচালক ভর্তি হওয়া রোগীর ফাইল যাতে বাইরে না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
ইতি আক্তার নামে পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার এক রোগী বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশিক্ষণ লাইনে দাঁড়াইয়া থাইক্যা ডাক্তারের কাছে যাই। ওষুধ কোম্পানির লোক ডাক্তারের কাছে গেছে। তাদের কারণে আমি ডাক্তার দেখাতে পারি নাই। তাগো (ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের) নাকি বৃহস্পতিবার ঢোকার পারমিশন আছে। কন এইডা কোনো কথা হইলো?’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেডিনোভার সোলায়মান, আল আমিন ও কাঞ্চন; পপুলারের কাউছার ও সবুজ এবং মেঘনা হাসপাতালের কবির হোসেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন। তারা ওয়ার্ড থেকে সরাসরি রোগীর স্যাম্পল সংগ্রহ করছেন। কয়েকজন দালাল আশপাশের মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, বাঁধন হাসপাতাল, ম্যাক্স মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, আল-আরাফাত হাসপাতাল, ডক্টরস ক্লিনিকস অ্যান্ড হাসপাতাল, ঢাকা হাসপাতাল ও নিউ ঢাকা ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার কাজে জড়িত।
অস্ত্রোপচারে বিলম্ব, বেসরকারি হাসপাতালই ভরসা
হাসপাতালের ওষুধের সংকট আছে বলে কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেছেন। এদের মধ্যে কেরানীগঞ্জ থেকে আসা রোগী ইয়াসমিন আক্তার জানান, হাসপাতালের বর্হিবিভাগের চিকিৎসক তাকে তিন ধরনের ওষুধ দেন। কিন্তু কাউন্টার থেকে কোনো ওষুধই তাকে দেওয়া হয়নি। কাউন্টারের কর্মীরা ওষুধের স্লিপও রেখে দিয়েছে।
ওষুধ-সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তম বলেন, ‘এটা আমি মানতে রাজি না। এখানে শতভাগ না হলেও ৯৫ শতাংশ ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বর্হিবিভাগে দৈনিক চার হাজার রোগী আসেন। এতো রোগীকে ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে পাঁচটি ওষুধের স্থলে হয়তো তিনটি পাচ্ছেন রোগীরা।’ রোগীরা যাতে হয়নারির শিকার না হয় সেজন্য তিনি নিয়মিত কয়েক ঘণ্টা পুরো হাসপাতালে চক্কর দেন বলে জানিয়েছেন।
রোগীদের ভোগান্তি, বাইরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বাধ্য করা, চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘৯০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এত রোগী সামাল দেওয়া অনেক কঠিন। এখন যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জায়গার অভাব এই হাসপাতালে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই কারণে রোগীদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’

অন্ত ও বহির্বিভাগে চিকিৎসায় দীর্ঘ অপেক্ষা, ভোগান্তিতে মিটফোর্ডের রোগীরা
আয়নাল হোসেন

টিকিটের জন্য জরুরি ও বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার সব পরীক্ষায় হয় না এখানে। বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে করাতে হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে তিনটি ওষুধ দিলে একটিও দেওয়া হয় না। অর্থোপেডিক, সার্জারি, ইএনটিসহ বিভিন্ন বিভাগে দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করেও অস্ত্রোপচার করা যায় না। আছে দালালদের দৌরাত্ম্য। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আছে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ। এসব কারণে পদে পদে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
গত ১৭ ও ২০ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবার এই হতাশার চিত্র দেখা গেছে। লাখো মানুষ চিকিৎসার জন্য দেশের অন্যতম এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই হাসপাতালে এসে টিকিট কাটা থেকে শুরু করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দেওয়াসহ বিভিন্ন সেবা পেতে সাত ঘণ্টা- আট ঘণ্টা এমনকি কোনো কোনো সময় দুই দিনও অপেক্ষা করতে হয়। দালালরা এই সুযোগেই রোগীদের আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ কাজে এই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগীরা বর্হিবিভাগ কিংবা অন্তর্বিভাগ যেখানেই যান নানা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। হাসপাতালে সব ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ রোগীদের বাইরে থেকে এসব পরীক্ষা করাতে হয়। বিশেষ করে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশির ভাগ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাইরে বেশি টাকা খরচ করে করাতে হচ্ছে। রিপোর্ট হাতে না পেলে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে দেরি করা হয়। ফলে রোগীদের স্বজনেরা বেশি টাকা দিয়ে বাইরের প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ হয়। যেমন সরকারি হাসপাতালে ইকোকার্ডিওগ্রাফি (সাদাকালো) করাতে যেখানে ২০০ টাকা লাগে সেখানে বাইরে একই পরীক্ষা করাতে ১০০০–১২০০ টাকা খরচ হয়। একইভাবে সরকারি হাসপাতালে ইসিজি পরীক্ষার জন্য ৮০ টাকা নেওয়া হলেও বাইরে ২৫০–৩০০ টাকা, সরকারি হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফিতে ১৫০–৩০০ টাকার বিপরীতে বেসরকারিতে ১০০০–১২০০ টাকা, সিরাম ক্রিয়েটিনিন সরকারিতে ৫০ টাকার বিপরীতে বেসরকারিতে ৩৫০–৪০০ টাকা এবং ডায়বেটিস নির্ণয়ের জন্য এইচবিএওয়ানসি পরীক্ষা করাতে সরকারিতে যেখানে ৩০০ টাকা লাগে সেখানে বেসরকারিতে লাগে ১১০০–১৪০০ টাকা।
হাসপাতালে ভোগান্তির চিত্র
গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বর্হিবিভাগের সামনে কথা হয় কেরানীগঞ্জের কালিন্দী এলাকার রোগী আছিয়া খাতুনের স্বামী ইরফান আলীর সঙ্গে। আছিয়া খাতুন হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগে ভর্তি রয়েছেন। ওই বিভাগের চিকিৎসকেরা তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ কয়েকটি পরীক্ষা করাতে দেন। ইরফান আলী পরীক্ষার তালিকা সংবলিত ব্যবস্থাপত্র নিয়ে কাউন্টারে টাকা জমা দিতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ১২০ জনের পেছনে লাইনে দাঁড়ান। দুই ঘণ্টা পর তিনি কাউন্টারে আসার সুযোগ পান। কিন্তু টাকা জমা দিতে গিয়ে তিনি পড়েন বিপত্তিতে। কাউন্টারের কর্মী টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রোগীর ভর্তির ফাইল কাউন্টারে নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু ভর্তি রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দিতে হলে যে ভর্তির ফাইলের প্রয়োজন হয় তা ইরফান আলী জানতেন না।
ইরফান আলী বলেন, ‘আমি ১২০ জনের পেছনে লাইনে দাঁড়াইয়া কাউন্টারে টাকা জমা দিতে যাই। কিন্তু ভর্তির ফাইল ছাড়া কাউন্টারের কর্মী কোনো টাকা জমা নিবে না। এই কথাটি কোথাও লেখা নাই। তখন কী আর করা, আবার ওয়ার্ডে গিয়া ফাইল নিয়া লাইনে দাঁড়াইছি। ওয়ার্ড থাইক্যা এই কথা বইল্যা দিলে বা টাকা জমা দেওয়ার কাউন্টারের পাশে বিষয়টি লেখা থাকলে আমাকে হয়রানি শিকার হতে হতো না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্হিবিভাগে এক থেকে দুই থেকে ঘণ্টা অপেক্ষার পর চিকিৎসক দেখানোর টিকিট পাওয়া যায়। এরপর চিকিৎসকের কক্ষের সামনে গিয়ে আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এরপর কোনো পরীক্ষা দিলে টাকা জমা দিতে গেলেও লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়। টাকা জমা দেওয়ার পর নমুনা (স্যাম্পল) দিতে গেলে সেখানেও দীর্ঘ লাইন। এসব কাজ করতে করতে দিন শেষ হয়ে যায়। পরের দিন এসে আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়।

১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে সাড়ে তিনটার দিকে হাসপাতালের বর্হিবিভাগের আট তলায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য চালু করা ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে গিয়ে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তমের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি ওই ওয়ার্ড একজন নারী রোগী মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি তার পালস পরীক্ষা করেন। এরপর রোগীর ফাইল দেখতে চান। কিন্তু নার্স কিংবা চিকিৎসকের কাছে রোগীর ফাইল পাওয়া যায়নি। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রোগীর স্বামী ফাইল নিয়ে টাকা জমা দিতে গেছেন। তখন পরিচালক ভর্তি হওয়া রোগীর ফাইল যাতে বাইরে না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
ইতি আক্তার নামে পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার এক রোগী বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশিক্ষণ লাইনে দাঁড়াইয়া থাইক্যা ডাক্তারের কাছে যাই। ওষুধ কোম্পানির লোক ডাক্তারের কাছে গেছে। তাদের কারণে আমি ডাক্তার দেখাতে পারি নাই। তাগো (ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের) নাকি বৃহস্পতিবার ঢোকার পারমিশন আছে। কন এইডা কোনো কথা হইলো?’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেডিনোভার সোলায়মান, আল আমিন ও কাঞ্চন; পপুলারের কাউছার ও সবুজ এবং মেঘনা হাসপাতালের কবির হোসেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন। তারা ওয়ার্ড থেকে সরাসরি রোগীর স্যাম্পল সংগ্রহ করছেন। কয়েকজন দালাল আশপাশের মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, বাঁধন হাসপাতাল, ম্যাক্স মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, আল-আরাফাত হাসপাতাল, ডক্টরস ক্লিনিকস অ্যান্ড হাসপাতাল, ঢাকা হাসপাতাল ও নিউ ঢাকা ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার কাজে জড়িত।
অস্ত্রোপচারে বিলম্ব, বেসরকারি হাসপাতালই ভরসা
হাসপাতালের ওষুধের সংকট আছে বলে কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেছেন। এদের মধ্যে কেরানীগঞ্জ থেকে আসা রোগী ইয়াসমিন আক্তার জানান, হাসপাতালের বর্হিবিভাগের চিকিৎসক তাকে তিন ধরনের ওষুধ দেন। কিন্তু কাউন্টার থেকে কোনো ওষুধই তাকে দেওয়া হয়নি। কাউন্টারের কর্মীরা ওষুধের স্লিপও রেখে দিয়েছে।
ওষুধ-সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তম বলেন, ‘এটা আমি মানতে রাজি না। এখানে শতভাগ না হলেও ৯৫ শতাংশ ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বর্হিবিভাগে দৈনিক চার হাজার রোগী আসেন। এতো রোগীকে ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে পাঁচটি ওষুধের স্থলে হয়তো তিনটি পাচ্ছেন রোগীরা।’ রোগীরা যাতে হয়নারির শিকার না হয় সেজন্য তিনি নিয়মিত কয়েক ঘণ্টা পুরো হাসপাতালে চক্কর দেন বলে জানিয়েছেন।
রোগীদের ভোগান্তি, বাইরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বাধ্য করা, চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ টি এম এ রুস্তম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘৯০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এত রোগী সামাল দেওয়া অনেক কঠিন। এখন যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জায়গার অভাব এই হাসপাতালে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই কারণে রোগীদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’









