সুয়ারেজ লাইন নেই এমন এলাকায় বিল নিতে পারবে না ওয়াসা

সুয়ারেজ লাইন নেই এমন এলাকায় বিল নিতে পারবে না ওয়াসা
সেলিনা আক্তার

রাজধানীর যেসব এলাকায় ঢাকা ওয়াসার সুয়ারেজ বা পয়ঃনিষ্কাশন লাইন নেই, সেসব এলাকায় আগামী এক বছর গ্রাহকদের কাছ থেকে সুয়ারেজ বিল আদায় করতে পারবে না সংস্থাটি। গত ১০ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানকে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুয়ারেজ লাইন না থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এ ধরনের এলাকায় গ্রাহকদের বিল দেওয়া থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোন কোন এলাকা এ সিদ্ধান্তের আওতায় আসবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট না হলেও গুলশান, বনানীসহ কয়েকটি এলাকার নাম আলোচনায় এসেছে।
ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির ১০টি পরিচালন অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটিতে পূর্ণাঙ্গ সুয়ারেজ ব্যবস্থা রয়েছে। চারটি অঞ্চলে আংশিক ব্যবস্থা থাকলেও বাকি চারটিতে কোনো সুয়ারেজ লাইন নেই। বৃহত্তর উত্তরা, বৃহত্তর মিরপুরের অঞ্চল-৪ ও অঞ্চল-১০ এবং বারিধারা ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত অঞ্চল-৮-এ সুয়ারেজ লাইন নেই। এ ছাড়া গুলশান, নিকেতন, বারিধারা, বনানী, মহাখালী ডিওএইচএস, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও নিকুঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকাতেও ওয়াসার সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক নেই।
অন্যদিকে, যেসব অঞ্চলে আংশিক সুয়ারেজ ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোতেও সেবার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় রাজধানীর অনেক সুয়ারেজ লাইন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে কোথাও লাইন থাকলেও সব গ্রাহক কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা পাচ্ছেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর মাত্র ২০ শতাংশ এলাকায় কোনো না কোনো ধরনের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ পয়ঃবর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে গিয়ে মিশছে। এতে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এর অন্যতম উদাহরণ গুলশান-বনানী লেকের দূষণ।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গুলশান লেক দূষণমুক্ত করতে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার প্রতিটি ভবনে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল অথবা পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই এবং সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর ভবনমালিকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। তবে নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও হাউজিং সোসাইটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজউকের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
বাসিন্দা ও সোসাইটির প্রতিনিধিদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জায়গার সংকট এবং কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়েই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, বিদ্যমান অবকাঠামো ও ভবনের নকশা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায়
ওয়াসার কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে পয়ঃনিষ্কাশন খাতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় করেছে সংস্থাটি। অথচ রাজধানীর বড় একটি অংশে কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই।
২০১৩ সালে রাজধানীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে পাঁচটি শোধনাগার নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেয় ঢাকা ওয়াসা। এর মধ্যে দাশেরকান্দি শোধনাগার নির্মিত হলেও প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক পাইপলাইন গড়ে ওঠেনি। উত্তরা, মিরপুর, রায়েরবাজার ও পাগলায় (দ্বিতীয়) বাকি চারটি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও এসব প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ অবস্থায় ‘সুয়ারেজ লাইন নেই’ এমন এলাকায় বিল আদায় বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিস্তারিত লিখে পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এরপর তার দাপ্তরিক নম্বরে একাধিক দিন কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার স্টাফ অফিসার নাজমুস সাকিবকে কল করা হলে প্রতিষ্ঠানটির উপ-প্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এর পর এই প্রতিবেদক মো. আব্দুল কাদেরকে একাধিকবার কল করে। কিন্তু তিনি ধরেননি।

রাজধানীর যেসব এলাকায় ঢাকা ওয়াসার সুয়ারেজ বা পয়ঃনিষ্কাশন লাইন নেই, সেসব এলাকায় আগামী এক বছর গ্রাহকদের কাছ থেকে সুয়ারেজ বিল আদায় করতে পারবে না সংস্থাটি। গত ১০ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানকে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুয়ারেজ লাইন না থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এ ধরনের এলাকায় গ্রাহকদের বিল দেওয়া থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোন কোন এলাকা এ সিদ্ধান্তের আওতায় আসবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট না হলেও গুলশান, বনানীসহ কয়েকটি এলাকার নাম আলোচনায় এসেছে।
ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির ১০টি পরিচালন অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটিতে পূর্ণাঙ্গ সুয়ারেজ ব্যবস্থা রয়েছে। চারটি অঞ্চলে আংশিক ব্যবস্থা থাকলেও বাকি চারটিতে কোনো সুয়ারেজ লাইন নেই। বৃহত্তর উত্তরা, বৃহত্তর মিরপুরের অঞ্চল-৪ ও অঞ্চল-১০ এবং বারিধারা ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত অঞ্চল-৮-এ সুয়ারেজ লাইন নেই। এ ছাড়া গুলশান, নিকেতন, বারিধারা, বনানী, মহাখালী ডিওএইচএস, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও নিকুঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকাতেও ওয়াসার সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক নেই।
অন্যদিকে, যেসব অঞ্চলে আংশিক সুয়ারেজ ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোতেও সেবার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় রাজধানীর অনেক সুয়ারেজ লাইন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে কোথাও লাইন থাকলেও সব গ্রাহক কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা পাচ্ছেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর মাত্র ২০ শতাংশ এলাকায় কোনো না কোনো ধরনের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ পয়ঃবর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে গিয়ে মিশছে। এতে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এর অন্যতম উদাহরণ গুলশান-বনানী লেকের দূষণ।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গুলশান লেক দূষণমুক্ত করতে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার প্রতিটি ভবনে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল অথবা পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই এবং সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর ভবনমালিকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। তবে নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও হাউজিং সোসাইটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজউকের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
বাসিন্দা ও সোসাইটির প্রতিনিধিদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জায়গার সংকট এবং কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়েই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, বিদ্যমান অবকাঠামো ও ভবনের নকশা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায়
ওয়াসার কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে পয়ঃনিষ্কাশন খাতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় করেছে সংস্থাটি। অথচ রাজধানীর বড় একটি অংশে কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই।
২০১৩ সালে রাজধানীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে পাঁচটি শোধনাগার নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেয় ঢাকা ওয়াসা। এর মধ্যে দাশেরকান্দি শোধনাগার নির্মিত হলেও প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক পাইপলাইন গড়ে ওঠেনি। উত্তরা, মিরপুর, রায়েরবাজার ও পাগলায় (দ্বিতীয়) বাকি চারটি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও এসব প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ অবস্থায় ‘সুয়ারেজ লাইন নেই’ এমন এলাকায় বিল আদায় বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিস্তারিত লিখে পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এরপর তার দাপ্তরিক নম্বরে একাধিক দিন কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার স্টাফ অফিসার নাজমুস সাকিবকে কল করা হলে প্রতিষ্ঠানটির উপ-প্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এর পর এই প্রতিবেদক মো. আব্দুল কাদেরকে একাধিকবার কল করে। কিন্তু তিনি ধরেননি।

সুয়ারেজ লাইন নেই এমন এলাকায় বিল নিতে পারবে না ওয়াসা
সেলিনা আক্তার

রাজধানীর যেসব এলাকায় ঢাকা ওয়াসার সুয়ারেজ বা পয়ঃনিষ্কাশন লাইন নেই, সেসব এলাকায় আগামী এক বছর গ্রাহকদের কাছ থেকে সুয়ারেজ বিল আদায় করতে পারবে না সংস্থাটি। গত ১০ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানকে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুয়ারেজ লাইন না থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এ ধরনের এলাকায় গ্রাহকদের বিল দেওয়া থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোন কোন এলাকা এ সিদ্ধান্তের আওতায় আসবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট না হলেও গুলশান, বনানীসহ কয়েকটি এলাকার নাম আলোচনায় এসেছে।
ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির ১০টি পরিচালন অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটিতে পূর্ণাঙ্গ সুয়ারেজ ব্যবস্থা রয়েছে। চারটি অঞ্চলে আংশিক ব্যবস্থা থাকলেও বাকি চারটিতে কোনো সুয়ারেজ লাইন নেই। বৃহত্তর উত্তরা, বৃহত্তর মিরপুরের অঞ্চল-৪ ও অঞ্চল-১০ এবং বারিধারা ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত অঞ্চল-৮-এ সুয়ারেজ লাইন নেই। এ ছাড়া গুলশান, নিকেতন, বারিধারা, বনানী, মহাখালী ডিওএইচএস, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও নিকুঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকাতেও ওয়াসার সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক নেই।
অন্যদিকে, যেসব অঞ্চলে আংশিক সুয়ারেজ ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোতেও সেবার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় রাজধানীর অনেক সুয়ারেজ লাইন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে কোথাও লাইন থাকলেও সব গ্রাহক কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা পাচ্ছেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর মাত্র ২০ শতাংশ এলাকায় কোনো না কোনো ধরনের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ পয়ঃবর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে গিয়ে মিশছে। এতে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এর অন্যতম উদাহরণ গুলশান-বনানী লেকের দূষণ।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গুলশান লেক দূষণমুক্ত করতে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার প্রতিটি ভবনে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল অথবা পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই এবং সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর ভবনমালিকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। তবে নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও হাউজিং সোসাইটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজউকের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
বাসিন্দা ও সোসাইটির প্রতিনিধিদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত জায়গার সংকট এবং কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়েই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, বিদ্যমান অবকাঠামো ও ভবনের নকশা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায়
ওয়াসার কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে পয়ঃনিষ্কাশন খাতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় করেছে সংস্থাটি। অথচ রাজধানীর বড় একটি অংশে কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই।
২০১৩ সালে রাজধানীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে পাঁচটি শোধনাগার নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেয় ঢাকা ওয়াসা। এর মধ্যে দাশেরকান্দি শোধনাগার নির্মিত হলেও প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক পাইপলাইন গড়ে ওঠেনি। উত্তরা, মিরপুর, রায়েরবাজার ও পাগলায় (দ্বিতীয়) বাকি চারটি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও এসব প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ অবস্থায় ‘সুয়ারেজ লাইন নেই’ এমন এলাকায় বিল আদায় বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিস্তারিত লিখে পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এরপর তার দাপ্তরিক নম্বরে একাধিক দিন কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার স্টাফ অফিসার নাজমুস সাকিবকে কল করা হলে প্রতিষ্ঠানটির উপ-প্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এর পর এই প্রতিবেদক মো. আব্দুল কাদেরকে একাধিকবার কল করে। কিন্তু তিনি ধরেননি।

এসটিপি বাস্তবায়নে রাজউকের হুঁশিয়ারি, মনঃক্ষুণ্ন গুলশান-বনানীবাসী
১২ পথে গুলশান লেকে ঢুকছে বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্য
গুলশান লেকের দূষণ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
যুগের পর যুগ সেবা না দিয়েই সুয়ারেজ
বিল আদায় করছে ঢাকা ওয়াসা
সমন্বয়হীনতায় আটকে আছে গুলশান-বনানী লেকের উন্নয়ন







