শিরোনাম

২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইউজিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইউজিসির
লাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা কথা বলছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ

বৈশ্বিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের ২৫টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এসব কেন্দ্রে জাপানিজ, কোরিয়ান, চাইনিজ, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মানসহ মোট আটটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখানো হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে উৎসাহিত করা, তাদের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা এবং বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উপায় নির্ধারণের লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দক্ষ বিদেশি ভাষা শিক্ষকের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারগুলো সেই চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে চাহিদাসম্পন্ন ভাষায় দক্ষ করে তুলবে এবং দেশ-বিদেশের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার যুগে বহুভাষিক দক্ষতা আর অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়, বরং একটি অপরিহার্য সক্ষমতা। ভাষা শিক্ষা বাংলাদেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, কূটনীতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রবেশের পথ আরও সুগম করবে।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইউজিসি পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এ পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, যাতে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকদের জন্য বাংলাদেশ একটি পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি, ভিসা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা সহজতর করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির সমন্বয়ে একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক’ গঠন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের পাঁচটি পাবলিক ও পাঁচটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে মডেল এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের আবাসন, মেডিকেল সেন্টার, শিক্ষার্থী সহায়তা সেবা, কাউন্সেলিং, ক্যারিয়ার সাপোর্ট এবং বহুসাংস্কৃতিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেবার সম্প্রসারণ করা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রস্তাবিত ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারগুলো শুধু ভাষা শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এগুলো দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা, একাডেমিক বিনিময় এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্বের চর্চার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং, গবেষণা সহযোগিতা এবং বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

এর আগে, একই দিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় সমৃদ্ধ আধুনিক কৃষিবিদ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে নতুন প্রজন্মের কৃষিবিদদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।

/এসবি/