‘বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে’ বিসিএসে বাদ পড়ার অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে’ বিসিএসে বাদ পড়ার অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমদ তাহমিদ

নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর প্রায় ১০ মাস ধরে অপেক্ষায় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমদ তাহমিদ। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত গেজেটে নিজের নাম না থাকায় এখন চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি। বাবার রাজনৈতিক পরিচয়েরকারণেই হয়তো পুলিশ ভেরিফিকেশনে তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রেদওয়ান আহমদ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোষ্টে এই অভিযোগ করেন তিনি।

রেদওয়ান আহমদ তাহমিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

পোষ্টে রেদওয়ান আহমদ লিখেন, ৪৯ তম বিসিএসের গেজেট থেকে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুন থেকে আমি যে পরিশ্রমটা করেছিলাম, আমার আল্লাহ জানে। আমি সাফল্যও পেয়েছিলাম ৪৭ তম এর প্রিলি পাশ করে ও ৪৯ তম-তে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে। আল্লাহর দরবারে মর্জি হওয়া আমার রিজিককে আজ সরকার ১০ মাস আটকে রেখে আমাকে গেজেট বঞ্চিত করে দিলো।

তিনি লিখেন, আমার সাজানো স্বপ্ন, আমার ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শত রাতের রাত জাগা মোনাজাত, রোজা রেখে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ, মায়ের সার্বক্ষনিক আল্লাহর কাছে কোরআন পড়ে মোনাজাতকে পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে।

রেদওয়ান আহমদ লিখেন, আমি এখন আমার স্ত্রীর কান্না দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারছি না।আমার জীবনে আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। গত ১০ টা মাস গেজেটের অপেক্ষায় থেকে পড়ালেখা থেকেও দূরে সরে গেছিলাম। এখন আমি নিজেকে শেষ করে ফেলা ছাড়া আর কোনো পথ দেখছি না। জানিনা আল্লাহ আমার ভবিষ্যৎ জীবনকে কতটুকু দীর্ঘায়িত করবে। আমি আমার গেজেটের জন্য জীবনের শেষটুকু হলেও দিয়ে দিব। আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন।

তিনি লিখেন, ভেরিফিকেশনের সময় আমাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিলো পরিবারের কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না। আমি সততার সঙ্গেই জানিয়েছিলাম যে আমার বাবা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা জামায়াতের আমির। রাজনৈতিক এই কারণ ছাড়া আমাকে বাদ দেওয়ার মতো অন্য কোনো বিষয় আমার নথিপত্রে ছিল না।

/এসবি/