প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষার বদলে ফিরতে পারে লটারি

প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষার বদলে ফিরতে পারে লটারি
নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স সাধারণত নতুন বই, নতুন ব্যাগ আর নতুন বন্ধু পাওয়ার আনন্দের সময়। কিন্তু সেই বয়সেই যদি তাকে মুখোমুখি হতে হয় প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার, তাহলে আনন্দের জায়গা দখল করে নিতে পারে প্রস্তুতির চাপ। সঙ্গে যুক্ত হয় কোচিং, প্রাইভেট আর অভিভাবকদের বাড়তি দুশ্চিন্তা। এমন বাস্তবতার মধ্যেই প্রাথমিক স্তরের ভর্তি ব্যবস্থায় আবারও বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নীতিনির্ধারকদের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণির পাশাপাশি দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতে পারে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরের পাঁচটি শ্রেণিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে লটারির ভিত্তিতে।
তবে প্রাথমিক স্তরের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মাধ্যমিক পর্যায়ের ভর্তি ব্যবস্থাকে এক করে দেখা হচ্ছে না। মাধ্যমিকের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি বহাল রাখার পরিকল্পনাই রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত মার্চে ভর্তি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে এবং বলেছিলেন, ‘আমরা লটারি ব্যবস্থা প্রত্যাহার করলাম।’
সেই ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি আসতে থাকে। বিশেষ করে প্রাথমিকে শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেওয়া হলে তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা বাড়ার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।
ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোচিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে এর সঙ্গে একটি বাড়তি বাণিজ্যিক পরিসর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতার আরেকটি কারণ হলো বিশালসংখ্যক শিশুকে একই সময়ে পরীক্ষার আওতায় আনার বাস্তব জটিলতা। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আয়োজন, প্রশ্ন প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ শিক্ষা প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে প্রতিযোগিতা, কোচিং ও প্রাইভেটের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসময় নামী বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করাতে অনেক পরিবারকে কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো। ভর্তি প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। এতে তুলনামূলকভাবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা বাড়তি সুবিধা পেত-এমন অভিযোগও ছিল।
শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সময়ে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু করা হয়। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যেসব শাখায় প্রথম শ্রেণি রয়েছে, সেখানে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা চালু হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা বহাল ছিল।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় পরিস্থিতি আরও বদলে যায়। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়েও লটারিভিত্তিক ব্যবস্থাই চালু থাকে।
সম্প্রতি আবার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে গত ৮ আগস্ট প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এবার দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিকেও একই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। অর্থাৎ নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শ্রেণিতেই ভর্তি পরীক্ষা থাকবে না। শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে লটারির মাধ্যমে।

একটি শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স সাধারণত নতুন বই, নতুন ব্যাগ আর নতুন বন্ধু পাওয়ার আনন্দের সময়। কিন্তু সেই বয়সেই যদি তাকে মুখোমুখি হতে হয় প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার, তাহলে আনন্দের জায়গা দখল করে নিতে পারে প্রস্তুতির চাপ। সঙ্গে যুক্ত হয় কোচিং, প্রাইভেট আর অভিভাবকদের বাড়তি দুশ্চিন্তা। এমন বাস্তবতার মধ্যেই প্রাথমিক স্তরের ভর্তি ব্যবস্থায় আবারও বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নীতিনির্ধারকদের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণির পাশাপাশি দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতে পারে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরের পাঁচটি শ্রেণিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে লটারির ভিত্তিতে।
তবে প্রাথমিক স্তরের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মাধ্যমিক পর্যায়ের ভর্তি ব্যবস্থাকে এক করে দেখা হচ্ছে না। মাধ্যমিকের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি বহাল রাখার পরিকল্পনাই রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত মার্চে ভর্তি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে এবং বলেছিলেন, ‘আমরা লটারি ব্যবস্থা প্রত্যাহার করলাম।’
সেই ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি আসতে থাকে। বিশেষ করে প্রাথমিকে শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেওয়া হলে তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা বাড়ার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।
ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোচিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে এর সঙ্গে একটি বাড়তি বাণিজ্যিক পরিসর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতার আরেকটি কারণ হলো বিশালসংখ্যক শিশুকে একই সময়ে পরীক্ষার আওতায় আনার বাস্তব জটিলতা। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আয়োজন, প্রশ্ন প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ শিক্ষা প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে প্রতিযোগিতা, কোচিং ও প্রাইভেটের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসময় নামী বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করাতে অনেক পরিবারকে কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো। ভর্তি প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। এতে তুলনামূলকভাবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা বাড়তি সুবিধা পেত-এমন অভিযোগও ছিল।
শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সময়ে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু করা হয়। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যেসব শাখায় প্রথম শ্রেণি রয়েছে, সেখানে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা চালু হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা বহাল ছিল।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় পরিস্থিতি আরও বদলে যায়। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়েও লটারিভিত্তিক ব্যবস্থাই চালু থাকে।
সম্প্রতি আবার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে গত ৮ আগস্ট প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এবার দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিকেও একই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। অর্থাৎ নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শ্রেণিতেই ভর্তি পরীক্ষা থাকবে না। শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে লটারির মাধ্যমে।

প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষার বদলে ফিরতে পারে লটারি
নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স সাধারণত নতুন বই, নতুন ব্যাগ আর নতুন বন্ধু পাওয়ার আনন্দের সময়। কিন্তু সেই বয়সেই যদি তাকে মুখোমুখি হতে হয় প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার, তাহলে আনন্দের জায়গা দখল করে নিতে পারে প্রস্তুতির চাপ। সঙ্গে যুক্ত হয় কোচিং, প্রাইভেট আর অভিভাবকদের বাড়তি দুশ্চিন্তা। এমন বাস্তবতার মধ্যেই প্রাথমিক স্তরের ভর্তি ব্যবস্থায় আবারও বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নীতিনির্ধারকদের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণির পাশাপাশি দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতে পারে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরের পাঁচটি শ্রেণিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে লটারির ভিত্তিতে।
তবে প্রাথমিক স্তরের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মাধ্যমিক পর্যায়ের ভর্তি ব্যবস্থাকে এক করে দেখা হচ্ছে না। মাধ্যমিকের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি বহাল রাখার পরিকল্পনাই রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত মার্চে ভর্তি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে এবং বলেছিলেন, ‘আমরা লটারি ব্যবস্থা প্রত্যাহার করলাম।’
সেই ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি আসতে থাকে। বিশেষ করে প্রাথমিকে শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেওয়া হলে তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা বাড়ার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।
ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোচিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে এর সঙ্গে একটি বাড়তি বাণিজ্যিক পরিসর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতার আরেকটি কারণ হলো বিশালসংখ্যক শিশুকে একই সময়ে পরীক্ষার আওতায় আনার বাস্তব জটিলতা। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আয়োজন, প্রশ্ন প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ শিক্ষা প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে প্রতিযোগিতা, কোচিং ও প্রাইভেটের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসময় নামী বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করাতে অনেক পরিবারকে কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো। ভর্তি প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। এতে তুলনামূলকভাবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা বাড়তি সুবিধা পেত-এমন অভিযোগও ছিল।
শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সময়ে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু করা হয়। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যেসব শাখায় প্রথম শ্রেণি রয়েছে, সেখানে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা চালু হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা বহাল ছিল।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় পরিস্থিতি আরও বদলে যায়। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়েও লটারিভিত্তিক ব্যবস্থাই চালু থাকে।
সম্প্রতি আবার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে গত ৮ আগস্ট প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এবার দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিকেও একই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। অর্থাৎ নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শ্রেণিতেই ভর্তি পরীক্ষা থাকবে না। শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে লটারির মাধ্যমে।









