অনিয়ম: পাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

অনিয়ম: পাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
পাবনা প্রতিনিধি

গবেষণাপত্রে লেখকত্ব ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে অসঙ্গতি, তথ্যসূত্র (রেফারেন্স) সংক্রান্ত ত্রুটি, চিত্রের ডুপ্লিকেশন, সন্দেহজনক ফলাফল ও উপসংহারসহ গবেষণা অনিয়মের অভিযোগে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ৫ জন শিক্ষকের পাঁচটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিয়ার রিভিউ (বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন) প্রক্রিয়ায় কারচুপি, তথ্য ও গবেষণার ফলাফলে অসংগতি, প্লেজিয়ারিজম, একই তথ্য পুনর্ব্যবহার, অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ও উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সাইটেশন (উদ্ধৃতির সংখ্যা) বাড়ানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্র ও সংশিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী ‘রিট্র্যাকশন ওয়াচ’ ডাটাবেইজে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ৫ জন শিক্ষক এবং সাবেক একজন শিক্ষকের নাম রয়েছে। বর্তমান শিক্ষকরা হলেন– গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. এএইচএম ইফতেখারুল ফেরদৌস ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান।
অন্যজন হলেন– গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. হারুনর রশীদ। তিনি বর্তমানে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে অধ্যাপনা করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া ৫টি গবেষণা রেকর্ডের মধ্যে বিভাগ ভিত্তিক হিসাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২ জন শিক্ষকের যৌথভাবেে একটি। যার মধ্যে অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার বর্তমানে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান। গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলমের একটি। তিনি টানা চতুর্থবার বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর মধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলীর একটি। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. এ এইচ এম ইফতেখারুল ফেরদৌসের একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণায় অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে তবে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের গবেষণা বা তথ্য চুরি, জালিয়াতি কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ গুরুতর গবেষণা অনৈতিকতা। এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যৎ গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই গবেষণায় নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
জানতে চাইলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী বলেন, প্রবন্ধ প্রত্যাহারের অনেকগুলো কারণ হয়ে থাকে। আসলে এটা নির্ভর করে কী কারণে প্রত্যাহার হয়েছে তার ওপর। আমার ব্যাপারে যেটা হয়েছে, সেটা যদি আপনি নোটিশে দেখেন, একজন রিভিউয়ার তার দুইটা পেপার হাইড করার কারণে শুধুমাত্র রেফারেন্সের জন্য পেপারটা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা তিনটা রেফারেন্স সামঞ্জস্যপূর্ন নয় বলেছে। আমি তাদেরকে মেইলও দিয়েছি, বলেছি বিষয়টার সঙ্গে রেফারেন্সটা সাঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার বলেন, প্রত্যাহার আসলে বিভিন্ন কারণে হয়। অপ্রত্যাশিত ভুলের কারণেও হয়। আমার বিষয়ে যেটা হয়েছে ভুলবশত একটা উদ্বৃতির কারণে। সেটা হলো আমি যে রেফারেন্স ব্যবহার করেছি, সেটা সঠিক নয়, অন্য একটা রেফারেন্স হবে। রেফারেন্সে অসঙ্গতি এটা আমার ভুল ছিলো। তারা আমাকে মেইল করে জানায়, আমিও তাদের মেইল করে জানিয়েছি, আসলে রেফারেন্সটা ঠিক হয়নি। ওটা আমার ভুলবশত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, গবেষণা অনিয়মের বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পেরেছি। এর আগে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ বছর আগে দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ পেয়েছিলাম। তখন একটি তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো। তবে, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারবো।

গবেষণাপত্রে লেখকত্ব ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে অসঙ্গতি, তথ্যসূত্র (রেফারেন্স) সংক্রান্ত ত্রুটি, চিত্রের ডুপ্লিকেশন, সন্দেহজনক ফলাফল ও উপসংহারসহ গবেষণা অনিয়মের অভিযোগে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ৫ জন শিক্ষকের পাঁচটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিয়ার রিভিউ (বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন) প্রক্রিয়ায় কারচুপি, তথ্য ও গবেষণার ফলাফলে অসংগতি, প্লেজিয়ারিজম, একই তথ্য পুনর্ব্যবহার, অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ও উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সাইটেশন (উদ্ধৃতির সংখ্যা) বাড়ানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্র ও সংশিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী ‘রিট্র্যাকশন ওয়াচ’ ডাটাবেইজে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ৫ জন শিক্ষক এবং সাবেক একজন শিক্ষকের নাম রয়েছে। বর্তমান শিক্ষকরা হলেন– গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. এএইচএম ইফতেখারুল ফেরদৌস ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান।
অন্যজন হলেন– গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. হারুনর রশীদ। তিনি বর্তমানে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে অধ্যাপনা করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া ৫টি গবেষণা রেকর্ডের মধ্যে বিভাগ ভিত্তিক হিসাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২ জন শিক্ষকের যৌথভাবেে একটি। যার মধ্যে অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার বর্তমানে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান। গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলমের একটি। তিনি টানা চতুর্থবার বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর মধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলীর একটি। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. এ এইচ এম ইফতেখারুল ফেরদৌসের একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণায় অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে তবে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের গবেষণা বা তথ্য চুরি, জালিয়াতি কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ গুরুতর গবেষণা অনৈতিকতা। এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যৎ গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই গবেষণায় নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
জানতে চাইলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী বলেন, প্রবন্ধ প্রত্যাহারের অনেকগুলো কারণ হয়ে থাকে। আসলে এটা নির্ভর করে কী কারণে প্রত্যাহার হয়েছে তার ওপর। আমার ব্যাপারে যেটা হয়েছে, সেটা যদি আপনি নোটিশে দেখেন, একজন রিভিউয়ার তার দুইটা পেপার হাইড করার কারণে শুধুমাত্র রেফারেন্সের জন্য পেপারটা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা তিনটা রেফারেন্স সামঞ্জস্যপূর্ন নয় বলেছে। আমি তাদেরকে মেইলও দিয়েছি, বলেছি বিষয়টার সঙ্গে রেফারেন্সটা সাঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার বলেন, প্রত্যাহার আসলে বিভিন্ন কারণে হয়। অপ্রত্যাশিত ভুলের কারণেও হয়। আমার বিষয়ে যেটা হয়েছে ভুলবশত একটা উদ্বৃতির কারণে। সেটা হলো আমি যে রেফারেন্স ব্যবহার করেছি, সেটা সঠিক নয়, অন্য একটা রেফারেন্স হবে। রেফারেন্সে অসঙ্গতি এটা আমার ভুল ছিলো। তারা আমাকে মেইল করে জানায়, আমিও তাদের মেইল করে জানিয়েছি, আসলে রেফারেন্সটা ঠিক হয়নি। ওটা আমার ভুলবশত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, গবেষণা অনিয়মের বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পেরেছি। এর আগে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ বছর আগে দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ পেয়েছিলাম। তখন একটি তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো। তবে, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারবো।

অনিয়ম: পাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
পাবনা প্রতিনিধি

গবেষণাপত্রে লেখকত্ব ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে অসঙ্গতি, তথ্যসূত্র (রেফারেন্স) সংক্রান্ত ত্রুটি, চিত্রের ডুপ্লিকেশন, সন্দেহজনক ফলাফল ও উপসংহারসহ গবেষণা অনিয়মের অভিযোগে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ৫ জন শিক্ষকের পাঁচটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিয়ার রিভিউ (বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন) প্রক্রিয়ায় কারচুপি, তথ্য ও গবেষণার ফলাফলে অসংগতি, প্লেজিয়ারিজম, একই তথ্য পুনর্ব্যবহার, অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ও উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সাইটেশন (উদ্ধৃতির সংখ্যা) বাড়ানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্র ও সংশিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী ‘রিট্র্যাকশন ওয়াচ’ ডাটাবেইজে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ৫ জন শিক্ষক এবং সাবেক একজন শিক্ষকের নাম রয়েছে। বর্তমান শিক্ষকরা হলেন– গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. এএইচএম ইফতেখারুল ফেরদৌস ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান।
অন্যজন হলেন– গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. হারুনর রশীদ। তিনি বর্তমানে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে অধ্যাপনা করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া ৫টি গবেষণা রেকর্ডের মধ্যে বিভাগ ভিত্তিক হিসাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২ জন শিক্ষকের যৌথভাবেে একটি। যার মধ্যে অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার বর্তমানে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান। গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলমের একটি। তিনি টানা চতুর্থবার বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর মধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলীর একটি। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. এ এইচ এম ইফতেখারুল ফেরদৌসের একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণায় অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে তবে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের গবেষণা বা তথ্য চুরি, জালিয়াতি কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ গুরুতর গবেষণা অনৈতিকতা। এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যৎ গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই গবেষণায় নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
জানতে চাইলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী বলেন, প্রবন্ধ প্রত্যাহারের অনেকগুলো কারণ হয়ে থাকে। আসলে এটা নির্ভর করে কী কারণে প্রত্যাহার হয়েছে তার ওপর। আমার ব্যাপারে যেটা হয়েছে, সেটা যদি আপনি নোটিশে দেখেন, একজন রিভিউয়ার তার দুইটা পেপার হাইড করার কারণে শুধুমাত্র রেফারেন্সের জন্য পেপারটা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা তিনটা রেফারেন্স সামঞ্জস্যপূর্ন নয় বলেছে। আমি তাদেরকে মেইলও দিয়েছি, বলেছি বিষয়টার সঙ্গে রেফারেন্সটা সাঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার বলেন, প্রত্যাহার আসলে বিভিন্ন কারণে হয়। অপ্রত্যাশিত ভুলের কারণেও হয়। আমার বিষয়ে যেটা হয়েছে ভুলবশত একটা উদ্বৃতির কারণে। সেটা হলো আমি যে রেফারেন্স ব্যবহার করেছি, সেটা সঠিক নয়, অন্য একটা রেফারেন্স হবে। রেফারেন্সে অসঙ্গতি এটা আমার ভুল ছিলো। তারা আমাকে মেইল করে জানায়, আমিও তাদের মেইল করে জানিয়েছি, আসলে রেফারেন্সটা ঠিক হয়নি। ওটা আমার ভুলবশত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, গবেষণা অনিয়মের বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পেরেছি। এর আগে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ বছর আগে দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ পেয়েছিলাম। তখন একটি তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো। তবে, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারবো।








