এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পাচ্ছেন বদলির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পাচ্ছেন বদলির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হচ্ছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) থেকে অনলাইনে বদলির আবেদন নেওয়া হবে। তা চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তত্ত্বাবধানে টেলিটকের কারিগরি সহায়তায় স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে।
মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রদর্শক, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত সফটওয়্যারে মোবাইল ফোনে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে।
জানা গেছে, শিক্ষক বদলির জন্য শূন্যপদ রয়েছে ৬১ হাজার ৭৮২টি। এর বিপরীতে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক আবেদন করতে পারেন। ফলে শূন্যপদের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় অধিকাংশ আবেদনকারীই বদলির সুযোগ পাবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম যোগদানের পর চাকরির দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদনের যোগ্য হবেন। একইভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর চাকরি পূর্ণ হলে পরবর্তী বদলির আবেদন করা যাবে। একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে মাউশি। এরপর ওই শূন্যপদের বিপরীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত বদলি বা পদায়নের আদেশ দেওয়া হবে।
মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী শূন্যপদের ভিত্তিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়াজাত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা তদবিরের সুযোগ রাখা হবে না। শিক্ষকদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করে আসছে। এর ফলে অনেক শিক্ষক নিজ জেলার বাইরে নিয়োগ পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবার ও নিজ জেলা থেকে দূরে থাকায় তাদের অনেককে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
নিজ জেলা ও স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলে আবেদন
আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে নিজের স্থায়ী বা চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলার শূন্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে। এছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা কর্মস্থল জেলায় বদলির আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান হতে হবে। একজন শিক্ষক পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম আবেদনে উল্লেখ করতে পারবেন।
নারী ও জ্যেষ্ঠতায় অগ্রাধিকার
একটি শূন্যপদের বিপরীতে একাধিক আবেদন পড়লে নীতিমালা অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। এতে নারী শিক্ষক, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতাসহ নির্ধারিত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রতিযোগী আবেদনকারীদের কর্মস্থল একই বা ভিন্ন উপজেলা কিংবা জেলায় হলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলের দূরত্বও বিবেচনা করা হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুসৃত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একাধিক শিক্ষককে বদলি করা যাবে না।
এমপিও ও জ্যেষ্ঠতা বহাল
বদলি হলেও শিক্ষকের এমপিও, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে বদলির কারণে কোনো শিক্ষক টিএ/ডিএ ভাতা পাবেন না। বদলি আবেদন করলেই বদলি পাওয়া কোনো শিক্ষকের অধিকার হিসাবে গণ্য হবে না।
বদলির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের ওপর। বদলির আদেশ প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত বা ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অবমুক্তি থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান পর্যন্ত সময় কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের তথ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে অনলাইনে মাউশির মহাপরিচালক ও এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানকে জানাতে হবে।
ভুল তথ্য দিলে ব্যবস্থা
বদলি সফটওয়্যারে ভুল, অসত্য বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন করা হলে তা বাতিল করা হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়া কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির জন্য যোগ্য হবেন না। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ সংক্রান্ত আদেশ পরিবর্তন, পরিমার্জন বা বাতিল করতে পারবে।

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হচ্ছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) থেকে অনলাইনে বদলির আবেদন নেওয়া হবে। তা চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তত্ত্বাবধানে টেলিটকের কারিগরি সহায়তায় স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে।
মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রদর্শক, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত সফটওয়্যারে মোবাইল ফোনে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে।
জানা গেছে, শিক্ষক বদলির জন্য শূন্যপদ রয়েছে ৬১ হাজার ৭৮২টি। এর বিপরীতে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক আবেদন করতে পারেন। ফলে শূন্যপদের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় অধিকাংশ আবেদনকারীই বদলির সুযোগ পাবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম যোগদানের পর চাকরির দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদনের যোগ্য হবেন। একইভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর চাকরি পূর্ণ হলে পরবর্তী বদলির আবেদন করা যাবে। একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে মাউশি। এরপর ওই শূন্যপদের বিপরীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত বদলি বা পদায়নের আদেশ দেওয়া হবে।
মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী শূন্যপদের ভিত্তিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়াজাত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা তদবিরের সুযোগ রাখা হবে না। শিক্ষকদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করে আসছে। এর ফলে অনেক শিক্ষক নিজ জেলার বাইরে নিয়োগ পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবার ও নিজ জেলা থেকে দূরে থাকায় তাদের অনেককে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
নিজ জেলা ও স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলে আবেদন
আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে নিজের স্থায়ী বা চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলার শূন্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে। এছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা কর্মস্থল জেলায় বদলির আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান হতে হবে। একজন শিক্ষক পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম আবেদনে উল্লেখ করতে পারবেন।
নারী ও জ্যেষ্ঠতায় অগ্রাধিকার
একটি শূন্যপদের বিপরীতে একাধিক আবেদন পড়লে নীতিমালা অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। এতে নারী শিক্ষক, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতাসহ নির্ধারিত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রতিযোগী আবেদনকারীদের কর্মস্থল একই বা ভিন্ন উপজেলা কিংবা জেলায় হলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলের দূরত্বও বিবেচনা করা হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুসৃত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একাধিক শিক্ষককে বদলি করা যাবে না।
এমপিও ও জ্যেষ্ঠতা বহাল
বদলি হলেও শিক্ষকের এমপিও, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে বদলির কারণে কোনো শিক্ষক টিএ/ডিএ ভাতা পাবেন না। বদলি আবেদন করলেই বদলি পাওয়া কোনো শিক্ষকের অধিকার হিসাবে গণ্য হবে না।
বদলির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের ওপর। বদলির আদেশ প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত বা ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অবমুক্তি থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান পর্যন্ত সময় কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের তথ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে অনলাইনে মাউশির মহাপরিচালক ও এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানকে জানাতে হবে।
ভুল তথ্য দিলে ব্যবস্থা
বদলি সফটওয়্যারে ভুল, অসত্য বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন করা হলে তা বাতিল করা হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়া কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির জন্য যোগ্য হবেন না। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ সংক্রান্ত আদেশ পরিবর্তন, পরিমার্জন বা বাতিল করতে পারবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পাচ্ছেন বদলির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হচ্ছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) থেকে অনলাইনে বদলির আবেদন নেওয়া হবে। তা চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তত্ত্বাবধানে টেলিটকের কারিগরি সহায়তায় স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে।
মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রদর্শক, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত সফটওয়্যারে মোবাইল ফোনে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে।
জানা গেছে, শিক্ষক বদলির জন্য শূন্যপদ রয়েছে ৬১ হাজার ৭৮২টি। এর বিপরীতে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক আবেদন করতে পারেন। ফলে শূন্যপদের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় অধিকাংশ আবেদনকারীই বদলির সুযোগ পাবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম যোগদানের পর চাকরির দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদনের যোগ্য হবেন। একইভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর চাকরি পূর্ণ হলে পরবর্তী বদলির আবেদন করা যাবে। একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে মাউশি। এরপর ওই শূন্যপদের বিপরীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত বদলি বা পদায়নের আদেশ দেওয়া হবে।
মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী শূন্যপদের ভিত্তিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়াজাত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা তদবিরের সুযোগ রাখা হবে না। শিক্ষকদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করে আসছে। এর ফলে অনেক শিক্ষক নিজ জেলার বাইরে নিয়োগ পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবার ও নিজ জেলা থেকে দূরে থাকায় তাদের অনেককে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
নিজ জেলা ও স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলে আবেদন
আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে নিজের স্থায়ী বা চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলার শূন্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে। এছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা কর্মস্থল জেলায় বদলির আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান হতে হবে। একজন শিক্ষক পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম আবেদনে উল্লেখ করতে পারবেন।
নারী ও জ্যেষ্ঠতায় অগ্রাধিকার
একটি শূন্যপদের বিপরীতে একাধিক আবেদন পড়লে নীতিমালা অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। এতে নারী শিক্ষক, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতাসহ নির্ধারিত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রতিযোগী আবেদনকারীদের কর্মস্থল একই বা ভিন্ন উপজেলা কিংবা জেলায় হলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলের দূরত্বও বিবেচনা করা হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুসৃত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একাধিক শিক্ষককে বদলি করা যাবে না।
এমপিও ও জ্যেষ্ঠতা বহাল
বদলি হলেও শিক্ষকের এমপিও, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে বদলির কারণে কোনো শিক্ষক টিএ/ডিএ ভাতা পাবেন না। বদলি আবেদন করলেই বদলি পাওয়া কোনো শিক্ষকের অধিকার হিসাবে গণ্য হবে না।
বদলির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের ওপর। বদলির আদেশ প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত বা ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অবমুক্তি থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান পর্যন্ত সময় কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের তথ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে অনলাইনে মাউশির মহাপরিচালক ও এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানকে জানাতে হবে।
ভুল তথ্য দিলে ব্যবস্থা
বদলি সফটওয়্যারে ভুল, অসত্য বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন করা হলে তা বাতিল করা হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়া কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির জন্য যোগ্য হবেন না। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ সংক্রান্ত আদেশ পরিবর্তন, পরিমার্জন বা বাতিল করতে পারবে।

এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ৭১৩ শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ







