শিরোনাম

মজুত থাকলেও বাজারে ‘উধাও’ সয়াবিন তেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
মজুত থাকলেও বাজারে ‘উধাও’ সয়াবিন তেল
রাজধানীর একটি দোকানে অন্য তেল থাকলেও নেই বোতলজাত সয়াবিন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। বাজারে তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি করা হলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য তা এখন সোনার হরিণ। মিল-মালিক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অসাধু চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে লিটার প্রতি তেলের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

রাজধানীর কাওরান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে ৫ লিটার ও ১ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল নেই। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েক দিন ধরে ডিলাররা তেল সরবরাহ করছেন না। সরবরাহ দিলেও তারা বাড়তি দাম দাবি করছেন।

এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, ‘আমাদের কাছে তেল নেই –তা নয়, কিন্তু আমরা যে দামে কিনছি, তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি। ফলে জরিমানা এড়াতে আমরা তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছি।’

সরকার নির্ধারিত দামে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ১৭০-১৮০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমানে তা ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

মিল-মালিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে নতুন করে আরও ১২-১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে অনুমোদনের আগেই বাজারে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বড় বড় মিল-মালিক ও ডিলারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাজারে সরবরাহের কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করেছে। গত কয়েক দিনের অভিযানে র‍্যাব ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন গুদাম থেকে কয়েক হাজার লিটার অবৈধভাবে মজুত করা তেল উদ্ধার করেছে। এসব তেল ঈদের আগে বা দাম বাড়ার আশায় আটকে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​বাজারে এসে তেলের দাম দেখে হতাশ ক্রেতারা। একজন সাধারণ ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবকিছুর দামই এখন হাতের বাইরে। তেলের সংকটের কথা বলে দোকানে গেলে পাওয়া যায় না, কিন্তু বাড়তি টাকা দিলে ঠিকই ভেতর থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেখার কেউ নেই।’

​জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশব্যাপী কঠোর তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আগামী সপ্তাহেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করা হবে।

​সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপে দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে এবং ভোজ্যতেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরে আসবে।

/এফআর/