চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৮ টাকা, চাপে ক্রেতারা

চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৮ টাকা, চাপে ক্রেতারা
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তরাঞ্চলের চাল উৎপাদন ও সারা দেশে বিপণনের প্রধান কেন্দ্র বগুড়া ও নওগাঁয় ধান-চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মাঝারি ও সরু দুই ধরনের ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খুচরা চালের বাজারে।
মিলগেট থেকে শুরু করে খুচরা বাজারের হাতবদলে কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে ধান-চালের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।
বগুড়ার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র শেরপুরের চাল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে মাঝারি জাতের ধান মণপ্রতি ১১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় এবং সরু জাতের ধান ১৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ধানের দাম বাড়ার পাশাপাশি চালের বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। এক মাস আগে ৪৫-৪৬ টাকা কেজির মাঝারি চাল বর্তমানে ৫০ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সরু কাটারি চালের দাম মিল পর্যায়ে ৭৮-৭৯ টাকা এবং খুচরা বাজারে পৌঁছে ৮৪-৮৫ টাকায় ঠেকেছে। ধান কেনার পর্যায় থেকেই মিলমালিকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়।
বগুড়া শহরের বাজারে রঞ্জিত চাল ৫০-৫২ টাকা, আটাশ চাল ৫৪-৫৫ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকা এবং কাটারি চাল ৭৫-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পোলাওয়ের চালের দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ১৫০-১৬০ টাকায় নেমেছে।
মিলমালিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু ধানের দাম নয়; বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও কেজিতে বেড়েছে।
নওগাঁয় চালের দাম বেড়েছে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে নওগাঁর ধান-চালের বাজারে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ২ টাকা। খুচরা বাজারে বেড়েছে প্রায় ৪ টাকা পর্যন্ত। তবে সুগন্ধি আতপ চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কাটারিভোগ চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, জিরাশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, সুফলতা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, ব্রি-১৯ চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ব্রি-২৮ চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং স্বর্ণা-৫ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। এতে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরইমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আয় না বাড়লেও সংসারের খরচ বেড়েছে।
চালের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে অনেকে চাহিদামতো চাল কিনতে পারছেন না। নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারেও বাড়ছে সংসার চালানোর চাপ।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহণ খরচ বেড়েছে। এ কারণে ধান-চালের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি জানান, চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নেই। দেশে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। উত্তরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৫০ ট্রাক চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, চালের বাজারের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের টিম নিয়মিত তদারকি করছে। বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববাজারে চালের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ার প্রধান চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে ফসল উৎপাদন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। থাইল্যান্ডের সাদা চালের দাম প্রতি টন ৪৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বিশ্বে চালের উৎপাদন কমতে পারে। এশিয়ায় বিশ্বের অর্ধেকের বেশি চাল উৎপাদিত হওয়ায় এ অঞ্চলের আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব আন্তর্জাতিক সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলের চাল উৎপাদন ও সারা দেশে বিপণনের প্রধান কেন্দ্র বগুড়া ও নওগাঁয় ধান-চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মাঝারি ও সরু দুই ধরনের ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খুচরা চালের বাজারে।
মিলগেট থেকে শুরু করে খুচরা বাজারের হাতবদলে কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে ধান-চালের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।
বগুড়ার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র শেরপুরের চাল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে মাঝারি জাতের ধান মণপ্রতি ১১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় এবং সরু জাতের ধান ১৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ধানের দাম বাড়ার পাশাপাশি চালের বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। এক মাস আগে ৪৫-৪৬ টাকা কেজির মাঝারি চাল বর্তমানে ৫০ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সরু কাটারি চালের দাম মিল পর্যায়ে ৭৮-৭৯ টাকা এবং খুচরা বাজারে পৌঁছে ৮৪-৮৫ টাকায় ঠেকেছে। ধান কেনার পর্যায় থেকেই মিলমালিকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়।
বগুড়া শহরের বাজারে রঞ্জিত চাল ৫০-৫২ টাকা, আটাশ চাল ৫৪-৫৫ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকা এবং কাটারি চাল ৭৫-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পোলাওয়ের চালের দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ১৫০-১৬০ টাকায় নেমেছে।
মিলমালিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু ধানের দাম নয়; বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও কেজিতে বেড়েছে।
নওগাঁয় চালের দাম বেড়েছে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে নওগাঁর ধান-চালের বাজারে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ২ টাকা। খুচরা বাজারে বেড়েছে প্রায় ৪ টাকা পর্যন্ত। তবে সুগন্ধি আতপ চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কাটারিভোগ চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, জিরাশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, সুফলতা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, ব্রি-১৯ চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ব্রি-২৮ চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং স্বর্ণা-৫ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। এতে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরইমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আয় না বাড়লেও সংসারের খরচ বেড়েছে।
চালের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে অনেকে চাহিদামতো চাল কিনতে পারছেন না। নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারেও বাড়ছে সংসার চালানোর চাপ।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহণ খরচ বেড়েছে। এ কারণে ধান-চালের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি জানান, চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নেই। দেশে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। উত্তরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৫০ ট্রাক চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, চালের বাজারের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের টিম নিয়মিত তদারকি করছে। বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববাজারে চালের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ার প্রধান চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে ফসল উৎপাদন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। থাইল্যান্ডের সাদা চালের দাম প্রতি টন ৪৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বিশ্বে চালের উৎপাদন কমতে পারে। এশিয়ায় বিশ্বের অর্ধেকের বেশি চাল উৎপাদিত হওয়ায় এ অঞ্চলের আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব আন্তর্জাতিক সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে।

চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৮ টাকা, চাপে ক্রেতারা
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তরাঞ্চলের চাল উৎপাদন ও সারা দেশে বিপণনের প্রধান কেন্দ্র বগুড়া ও নওগাঁয় ধান-চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মাঝারি ও সরু দুই ধরনের ধানের দাম মণপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খুচরা চালের বাজারে।
মিলগেট থেকে শুরু করে খুচরা বাজারের হাতবদলে কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে ধান-চালের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।
বগুড়ার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র শেরপুরের চাল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে মাঝারি জাতের ধান মণপ্রতি ১১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় এবং সরু জাতের ধান ১৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ধানের দাম বাড়ার পাশাপাশি চালের বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। এক মাস আগে ৪৫-৪৬ টাকা কেজির মাঝারি চাল বর্তমানে ৫০ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সরু কাটারি চালের দাম মিল পর্যায়ে ৭৮-৭৯ টাকা এবং খুচরা বাজারে পৌঁছে ৮৪-৮৫ টাকায় ঠেকেছে। ধান কেনার পর্যায় থেকেই মিলমালিকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়।
বগুড়া শহরের বাজারে রঞ্জিত চাল ৫০-৫২ টাকা, আটাশ চাল ৫৪-৫৫ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকা এবং কাটারি চাল ৭৫-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পোলাওয়ের চালের দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ১৫০-১৬০ টাকায় নেমেছে।
মিলমালিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু ধানের দাম নয়; বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও কেজিতে বেড়েছে।
নওগাঁয় চালের দাম বেড়েছে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে নওগাঁর ধান-চালের বাজারে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ২ টাকা। খুচরা বাজারে বেড়েছে প্রায় ৪ টাকা পর্যন্ত। তবে সুগন্ধি আতপ চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কাটারিভোগ চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, জিরাশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, সুফলতা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, ব্রি-১৯ চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ব্রি-২৮ চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং স্বর্ণা-৫ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। এতে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরইমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আয় না বাড়লেও সংসারের খরচ বেড়েছে।
চালের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে অনেকে চাহিদামতো চাল কিনতে পারছেন না। নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারেও বাড়ছে সংসার চালানোর চাপ।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহণ খরচ বেড়েছে। এ কারণে ধান-চালের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি জানান, চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নেই। দেশে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। উত্তরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৫০ ট্রাক চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, চালের বাজারের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের টিম নিয়মিত তদারকি করছে। বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববাজারে চালের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ার প্রধান চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে ফসল উৎপাদন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। থাইল্যান্ডের সাদা চালের দাম প্রতি টন ৪৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বিশ্বে চালের উৎপাদন কমতে পারে। এশিয়ায় বিশ্বের অর্ধেকের বেশি চাল উৎপাদিত হওয়ায় এ অঞ্চলের আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব আন্তর্জাতিক সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে।

বেড়েছে চালের দাম, টমেটোর কেজি ১২০ টাকা
দুই সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৮ টাকা







