জাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে নেতা আটক

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
জাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে নেতা আটক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে আটক পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে তাকে আটক করেন জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তাকে আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাইফুল ইসলাম পাবিপ্রবির ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। চলতি বছরের ৩১ জুলাই ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। জাবির ট্রান্সপোর্ট চত্বরে মায়ের সঙ্গে একটি দোকান পরিচালনা করতেন তিনি। তবে তার মা জানিয়েছেন, ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, এ বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না।

জাবি শাখা ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য শারমিন আক্তার সাথীর একটি দলীয় ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে সেখানে আপত্তিকর মন্তব্য করেন সাইফুল। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ওই শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার দোকানে যান। সেখানে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলে তার মুঠোফোন পরীক্ষা করা হয়।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দাবি, সাইফুলের মুঠোফোনের গ্যালারিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার একটি ছবি পাওয়া যায়। এতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততার সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পরে বিষয়টি যাচাই করতে ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতাকে সেখানে ডাকা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, সাইফুলের মুঠোফোনের গ্যালারি, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথন পর্যালোচনা করে জাহাঙ্গীরনগর ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান সোহেল এবং কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল রানার সঙ্গেও সাইফুলের যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠন’ নামের একটি ফেসবুক আইডির সঙ্গে সংগঠনটির সদস্য হওয়ার বিষয়ে তার কথোপকথনও পাওয়া গেছে।

তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগিয়েছি। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরে কিছু করিনি।’

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ভাষ্য, মো. সোহেল রানার সঙ্গে সাইফুলের কথোপকথনে কোরবানির ঈদের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানো হয়। ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পোস্টার লাগানোর স্থানগুলোর আশপাশে সাইফুলের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, যেদিন যেসব স্থানে পোস্টার লাগানো হয়েছিল, সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজে সাইফুলকে ওই জায়গাগুলোর আশপাশে দেখা গেছে। পরে ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবির সঙ্গে সেদিনের তার চেহারা মিলিয়ে তাকে শনাক্ত করা হয়। পোস্টার লাগানোর কাজে তিনি যে সাইকেল ব্যবহার করতেন বলে আমরা দেখেছি, সেটিও আজ তার কাছে ছিল।

অন্যদিকে, পাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর বিষয়ে সাইফুল বলেন, ‘আমি সাভার থেকে পোস্টার ছাপাতাম। পরে গাড়িতে করে সেগুলো পাবনায় পাঠিয়ে দিতাম। সেখানে আমার সংগঠনের লোকজন পোস্টার লাগাত।’

এদিকে, খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, সাইফুল নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কার্যক্রম চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তার মুঠোফোনে পাওয়া কথোপকথন ও ছবির ভিত্তিতে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে।

জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাইফুলকে আটক করে তার মুঠোফোন পরীক্ষা করেন। এতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের অপতৎপরতার সঙ্গে তার সুস্পষ্ট সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করা হয়নি বলেও জানান জহির উদ্দিন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা দায়ের করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সাইফুলের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

/এমআর/