পিএসআর-টিআইএন সনদ যাচাইয়ে কঠোর হচ্ছে এনবিআর

পিএসআর-টিআইএন সনদ যাচাইয়ে কঠোর হচ্ছে এনবিআর
নিজস্ব প্রতিবেদক

করদাতাদের আয়কর বিবরণী দাখিলের প্রমাণপত্র বা পিএসআর এবং টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সময় জমা দেওয়া এসব নথির সত্যতা নিশ্চিত করতে কর অঞ্চলভিত্তিক পরিবীক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
গত ৬ আগস্ট এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে এনবিআর। নির্দেশনায় প্রতিটি কর অঞ্চলে উৎসে কর পরিবীক্ষণ টিম গঠন এবং পিএসআর ও টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলের পরিদর্শন রেঞ্জ-১-এর কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পরিবীক্ষণ টিম গঠন করতে হবে। পরিদর্শন রেঞ্জ-২, ৩ ও ৪ এর কর্মকর্তারা থাকবেন যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। এ ছাড়া উপকর কমিশনার, সহকারী কর কমিশনার অথবা অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনারকে টিম লিডার এবং কর পরিদর্শকদের সদস্য করা হবে।
এতে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে উৎসে কর কর্তন এবং পিএসআর বা টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র দাখিলের আইনগত বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের দায়িত্ব একই কর্তৃপক্ষের ওপর থাকলে, সেই প্রতিষ্ঠানের নথি যাচাইয়ের দায়িত্বও উৎসে কর পরিবীক্ষণ টিমকে দিতে হবে।
এনবিআরের নির্দেশনায় পিএসআর যাচাইকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে বা প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট করদাতার সর্বশেষ কর বছরের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র যাচাই করতে হবে। শুধু কাগজপত্র হাতে নিয়ে যাচাই সম্পন্ন করা যাবে না। প্রতিটি পিএসআর এনবিআরের ই-ট্যাক্স ব্যবস্থায় থাকা নির্ধারিত অনলাইন যাচাই পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হবে। একইভাবে টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্রের সত্যতাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য এনবিআরের নির্ধারিত আয়কর ওয়েবসাইট অথবা বারকোড স্ক্যানারের মাধ্যমে সনদ যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ কোনো সেবা নিতে গিয়ে করদাতা পিএসআর বা টিআইএন সনদ জমা দিলেই তা গ্রহণ করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে অনলাইনে তথ্য মিলিয়ে নথিটির বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অর্থবছরের শুরুতেই অর্থ আইন ও আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬৪সহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে এসব বিধান বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এনবিআরের সঙ্গে অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩১৮ অনুযায়ী দণ্ড এবং নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ধারা ২৬৪ অনুযায়ী জরিমানার বিধান রয়েছে-সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়েও সতর্ক করতে বলা হয়েছে।
পিএসআর ও টিআইএন সনদ যাচাইয়ের কাজ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত পরিবীক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর। এজন্য বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্ধারিত ছকে পিএসআর ও টিআইএন সনদ যাচাইয়ের স্বাক্ষরিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত এসব তথ্য পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী প্রতিবেদন এনবিআরের কর জরিপ ও পরিদর্শন শাখায় পাঠাতে হবে।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪৭ অনুযায়ী কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ ও ট্রাস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের কার্যক্রম যাচাইয়ের সময় পিএসআর এবং টিআইএনসংবলিত প্রত্যয়নপত্রও পরীক্ষা করতে হবে। এর ফলে শুধু ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাই নয়, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সেবা নিতে চাওয়া করদাতাদের ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং টিআইএন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর হবে।
নির্দেশনায় আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪২ এর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেবা গ্রহণের সময় প্রয়োজনীয় পিএসআর উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য উৎসে করের হারের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ হারে কর আদায় করতে হবে। তাই কোনো সেবা গ্রহণের আগে পিএসআর দাখিল এবং সেটির সত্যতা যাচাই করানো এখন করদাতা ও সেবা প্রদানকারী-দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এনবিআর জানিয়েছে, বোর্ডের অনুমোদিত ক্ষমতার সীমার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নির্ধারিত এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের পরিবীক্ষণ করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম অনুযায়ী এনবিআরে তথ্য পাঠানোও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তাদের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে পিএসআর ও টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রাতিষ্ঠানিক হবে। অনলাইনে নথির সত্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়ায় ভুয়া বা অসত্য কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি সেবা নেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে করদাতাদের নিয়মিত রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নে এনবিআরের নজরদারিও আরও জোরদার হবে।

করদাতাদের আয়কর বিবরণী দাখিলের প্রমাণপত্র বা পিএসআর এবং টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সময় জমা দেওয়া এসব নথির সত্যতা নিশ্চিত করতে কর অঞ্চলভিত্তিক পরিবীক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
গত ৬ আগস্ট এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে এনবিআর। নির্দেশনায় প্রতিটি কর অঞ্চলে উৎসে কর পরিবীক্ষণ টিম গঠন এবং পিএসআর ও টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলের পরিদর্শন রেঞ্জ-১-এর কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পরিবীক্ষণ টিম গঠন করতে হবে। পরিদর্শন রেঞ্জ-২, ৩ ও ৪ এর কর্মকর্তারা থাকবেন যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। এ ছাড়া উপকর কমিশনার, সহকারী কর কমিশনার অথবা অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনারকে টিম লিডার এবং কর পরিদর্শকদের সদস্য করা হবে।
এতে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে উৎসে কর কর্তন এবং পিএসআর বা টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র দাখিলের আইনগত বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের দায়িত্ব একই কর্তৃপক্ষের ওপর থাকলে, সেই প্রতিষ্ঠানের নথি যাচাইয়ের দায়িত্বও উৎসে কর পরিবীক্ষণ টিমকে দিতে হবে।
এনবিআরের নির্দেশনায় পিএসআর যাচাইকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে বা প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট করদাতার সর্বশেষ কর বছরের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র যাচাই করতে হবে। শুধু কাগজপত্র হাতে নিয়ে যাচাই সম্পন্ন করা যাবে না। প্রতিটি পিএসআর এনবিআরের ই-ট্যাক্স ব্যবস্থায় থাকা নির্ধারিত অনলাইন যাচাই পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হবে। একইভাবে টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্রের সত্যতাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য এনবিআরের নির্ধারিত আয়কর ওয়েবসাইট অথবা বারকোড স্ক্যানারের মাধ্যমে সনদ যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ কোনো সেবা নিতে গিয়ে করদাতা পিএসআর বা টিআইএন সনদ জমা দিলেই তা গ্রহণ করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে অনলাইনে তথ্য মিলিয়ে নথিটির বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অর্থবছরের শুরুতেই অর্থ আইন ও আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬৪সহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে এসব বিধান বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এনবিআরের সঙ্গে অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩১৮ অনুযায়ী দণ্ড এবং নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ধারা ২৬৪ অনুযায়ী জরিমানার বিধান রয়েছে-সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়েও সতর্ক করতে বলা হয়েছে।
পিএসআর ও টিআইএন সনদ যাচাইয়ের কাজ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত পরিবীক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর। এজন্য বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্ধারিত ছকে পিএসআর ও টিআইএন সনদ যাচাইয়ের স্বাক্ষরিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত এসব তথ্য পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী প্রতিবেদন এনবিআরের কর জরিপ ও পরিদর্শন শাখায় পাঠাতে হবে।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪৭ অনুযায়ী কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ ও ট্রাস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের কার্যক্রম যাচাইয়ের সময় পিএসআর এবং টিআইএনসংবলিত প্রত্যয়নপত্রও পরীক্ষা করতে হবে। এর ফলে শুধু ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাই নয়, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সেবা নিতে চাওয়া করদাতাদের ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং টিআইএন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর হবে।
নির্দেশনায় আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪২ এর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেবা গ্রহণের সময় প্রয়োজনীয় পিএসআর উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য উৎসে করের হারের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ হারে কর আদায় করতে হবে। তাই কোনো সেবা গ্রহণের আগে পিএসআর দাখিল এবং সেটির সত্যতা যাচাই করানো এখন করদাতা ও সেবা প্রদানকারী-দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এনবিআর জানিয়েছে, বোর্ডের অনুমোদিত ক্ষমতার সীমার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নির্ধারিত এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের পরিবীক্ষণ করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম অনুযায়ী এনবিআরে তথ্য পাঠানোও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তাদের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে পিএসআর ও টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রাতিষ্ঠানিক হবে। অনলাইনে নথির সত্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়ায় ভুয়া বা অসত্য কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি সেবা নেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে করদাতাদের নিয়মিত রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নে এনবিআরের নজরদারিও আরও জোরদার হবে।

পিএসআর-টিআইএন সনদ যাচাইয়ে কঠোর হচ্ছে এনবিআর
নিজস্ব প্রতিবেদক

করদাতাদের আয়কর বিবরণী দাখিলের প্রমাণপত্র বা পিএসআর এবং টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সময় জমা দেওয়া এসব নথির সত্যতা নিশ্চিত করতে কর অঞ্চলভিত্তিক পরিবীক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
গত ৬ আগস্ট এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে এনবিআর। নির্দেশনায় প্রতিটি কর অঞ্চলে উৎসে কর পরিবীক্ষণ টিম গঠন এবং পিএসআর ও টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলের পরিদর্শন রেঞ্জ-১-এর কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পরিবীক্ষণ টিম গঠন করতে হবে। পরিদর্শন রেঞ্জ-২, ৩ ও ৪ এর কর্মকর্তারা থাকবেন যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। এ ছাড়া উপকর কমিশনার, সহকারী কর কমিশনার অথবা অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনারকে টিম লিডার এবং কর পরিদর্শকদের সদস্য করা হবে।
এতে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে উৎসে কর কর্তন এবং পিএসআর বা টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র দাখিলের আইনগত বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের দায়িত্ব একই কর্তৃপক্ষের ওপর থাকলে, সেই প্রতিষ্ঠানের নথি যাচাইয়ের দায়িত্বও উৎসে কর পরিবীক্ষণ টিমকে দিতে হবে।
এনবিআরের নির্দেশনায় পিএসআর যাচাইকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে বা প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট করদাতার সর্বশেষ কর বছরের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র যাচাই করতে হবে। শুধু কাগজপত্র হাতে নিয়ে যাচাই সম্পন্ন করা যাবে না। প্রতিটি পিএসআর এনবিআরের ই-ট্যাক্স ব্যবস্থায় থাকা নির্ধারিত অনলাইন যাচাই পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হবে। একইভাবে টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্রের সত্যতাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য এনবিআরের নির্ধারিত আয়কর ওয়েবসাইট অথবা বারকোড স্ক্যানারের মাধ্যমে সনদ যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ কোনো সেবা নিতে গিয়ে করদাতা পিএসআর বা টিআইএন সনদ জমা দিলেই তা গ্রহণ করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে অনলাইনে তথ্য মিলিয়ে নথিটির বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অর্থবছরের শুরুতেই অর্থ আইন ও আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬৪সহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে এসব বিধান বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এনবিআরের সঙ্গে অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩১৮ অনুযায়ী দণ্ড এবং নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ধারা ২৬৪ অনুযায়ী জরিমানার বিধান রয়েছে-সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়েও সতর্ক করতে বলা হয়েছে।
পিএসআর ও টিআইএন সনদ যাচাইয়ের কাজ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত পরিবীক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর। এজন্য বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্ধারিত ছকে পিএসআর ও টিআইএন সনদ যাচাইয়ের স্বাক্ষরিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত এসব তথ্য পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী প্রতিবেদন এনবিআরের কর জরিপ ও পরিদর্শন শাখায় পাঠাতে হবে।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪৭ অনুযায়ী কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ ও ট্রাস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের কার্যক্রম যাচাইয়ের সময় পিএসআর এবং টিআইএনসংবলিত প্রত্যয়নপত্রও পরীক্ষা করতে হবে। এর ফলে শুধু ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাই নয়, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সেবা নিতে চাওয়া করদাতাদের ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং টিআইএন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর হবে।
নির্দেশনায় আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪২ এর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেবা গ্রহণের সময় প্রয়োজনীয় পিএসআর উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য উৎসে করের হারের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ হারে কর আদায় করতে হবে। তাই কোনো সেবা গ্রহণের আগে পিএসআর দাখিল এবং সেটির সত্যতা যাচাই করানো এখন করদাতা ও সেবা প্রদানকারী-দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এনবিআর জানিয়েছে, বোর্ডের অনুমোদিত ক্ষমতার সীমার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নির্ধারিত এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের পরিবীক্ষণ করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম অনুযায়ী এনবিআরে তথ্য পাঠানোও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তাদের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে পিএসআর ও টিআইএন সংবলিত প্রত্যয়নপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রাতিষ্ঠানিক হবে। অনলাইনে নথির সত্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়ায় ভুয়া বা অসত্য কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি সেবা নেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে করদাতাদের নিয়মিত রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নে এনবিআরের নজরদারিও আরও জোরদার হবে।

জুলাই-সেপ্টেম্বরে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ প্রণোদনা







