মানহীন দেশি ফ্রিজে আগ্রহ হারাচ্ছে ক্রেতা, ঝুঁকছে বিদেশি ব্র্যান্ডে

মানহীন দেশি ফ্রিজে আগ্রহ হারাচ্ছে ক্রেতা, ঝুঁকছে বিদেশি ব্র্যান্ডে
মরিয়ম সেঁজুতি

মূল্য ছাড়, কিস্তি সুবিধা আর দেশপ্রেমের বিজ্ঞাপনেও আর গলছে না ক্রেতাদের মন। মানহীন দেশি ইলেকট্রনিকস পণ্যের প্রতি ক্রমেই আগ্রহ হারাচ্ছে ক্রেতা। এর প্রভাব পড়েছে এক সময়ের দ্রুত বর্ধনশীল দেশের রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজের বাজারে। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার, ঘন ঘন কম্প্রেসর বিকল হওয়া এবং বিক্রয়োত্তর সেবার নামে গ্রাহক হয়রানির কারণে দেশি ব্র্যান্ডগুলোর ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তারা। ফলে দীর্ঘস্থায়িত্ব, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ফ্রিজের বাজার এখন দ্রুত চলে যাচ্ছে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর দখলে।
বিজ্ঞাপনের জৌলুস বনাম বাস্তবতার ফাঁকি
আধুনিক জীবনযাত্রা সহজ ও সুবিধাজনক করে তুলতে ফ্রিজ কর্মব্যস্ত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র। এটি খাবার সংরক্ষণ সহজ করে। বাজারের চাপ কমায়। খাবারে পচন রোধ করে। দ্রুত খাবার তৈরিতে সহায়তা করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংরক্ষণে সহায়ক এবং গরমের দিনে ঠান্ডা পানি ও খাবার সরবরাহে সাহায্য করে।
তবে বিগত এক দশকে দেশীয় বেশ কিছু ব্র্যান্ড চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন এবং কিস্তি সুবিধার ওপর ভর করে ফ্রিজের বাজারে বিশাল এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। দেশীয় কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। একটা সময় দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই পূরণ করত দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। কিন্তু অতি মুনাফা ও কাঁচামালের মান ধরে রাখতে না পারায় সেই বাজারে এখন ধস নেমেছে।
রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট, প্রগতি সরণি এবং কারওয়ান বাজারের ইলেকট্রনিক্স শোরুমগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ এবং খোঁজ থাকে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর দিকে।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কেনার কয়েক মাসের মধ্যেই গ্যাস লিকেজ হওয়া, ঠাণ্ডা না হওয়া বা বিভিন্ন অংশে মরিচা পড়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি থাকার পরও কাস্টমার কেয়ার থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে গ্রাহকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ফলে ‘সস্তা’-র পেছনে ছুটে প্রতারিত হওয়ার চেয়ে একটু বেশি টাকা খরচ করে টেকসই বিদেশি পণ্য কেনাকেই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা জানান, গত দুই বছরে বিদেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বিক্রির পরিমান অনেক বেশি, পক্ষান্তরে দেশীয় ব্রান্ডের ফ্রিজের বিক্আশঙ্কাজনক হারেরি কমেছে।
বিদেশি ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ার মূল কারণ
বেশ কিছু কারণে দেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বিক্রি অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে টেকসই প্রযুক্তি ও ইনভার্টার সুবিধা না থাকা, নিম্নমানের প্লাস্টিক ও বাহ্যিক উপাদান (বডি ম্যাটেরিয়াল), বিল্ড কোয়ালিটি ও স্থায়িত্ব, কম্প্রেসর ও কুলিং সিস্টেমে সমস্যা, স্মার্ট ফিচার, হয়রানিমূলক বিক্রয়োত্তর সেবার কথা বলা যেতে পারে।
দেশি ফ্রিজগুলোর ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, কেনার এক-দুই বছরের মধ্যেই এগুলোর কম্প্রেসর বসে যায় বা গ্যাস লিকেজ হয়ে ঠান্ডা হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
বিদেশি ফ্রিজের বডি, ভেতরের গ্লাস এবং ফিনিশিং অত্যন্ত নিখুঁত ও দীর্ঘস্থায়ী। অন্যদিকে খাবার দুর্গন্ধ হওয়া, ভেতরের প্লাস্টিকের তাক বা গ্লাস দ্রুত ভেঙে যাওয়া এবং ফ্রিজের বডিতে অল্প দিনেই মরিচা পড়ার মতো সমস্যাগুরো দেশি পণ্যের বাজার নষ্ট করছে।
বর্তমান যুগের ক্রেতারা ফ্রিজেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া চান। বিদেশি রেফ্রিজারেটরগুলোতে স্মার্ট ডায়াগনসিস, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রোটেকশন এবং কনভার্টিবল মুড (ফ্রিজারকে নরমাল ফ্রিজে রূপান্তরিত করার সুবিধা) থাকায় কারণে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ এখন বিদেশি ব্র্যান্ড।
বিপাকে মধ্যবিত্ত, মার খাচ্ছে দেশীয় শিল্প
মগবাজারে একটি বিদেশি কোম্পানির শোরুমে ফ্রিজ কিনতে এসেছেন হারুনর রশিদ। অনেক দেখে শুনে একটি তিনি হিটাচি ব্র্যান্ডের একটি ডিপ ফ্রিজ কিনলেন। কেন বিদেশি ব্রান্ডের ফ্রিজ কিনছেন- জানতে চাইলে তিনি সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘দেশি ব্রান্ডের একটি ফ্রিজ কিনেছিলাম। শোরুম থেকে বলা হয়েছিল, কোন বরফ জমবে না। কিন্তু কিছুদিন যেতেই দেখা গেছে বরফে আটকে যাচ্ছে ফ্রিজ। কিছুদিন পর পরই পরিষ্কার করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘১০ বছরের গ্যারান্টি দিলেও ৩ বছর শেষ হতেই সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য পুরোনো ফিজ বিক্রি করে নতুন এবং বিদেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কিনেছি। তিনি আরো বলেন, একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে বার বার দামি পণ্য কেনা সম্ভব না।’
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক সময় দেশের ফ্রিজের বাজারের সিংহভাগ দেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, গত দুই বছরে বিদেশি ব্র্যান্ডের বিক্রি জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে যৌথ উদ্যোগে দেশে অ্যাসেম্বল হওয়া এবং সরাসরি আমদানিকৃত বিদেশি ফ্রিজগুলো এখন শোরুমগুলোর প্রধান আকর্ষণ। বর্তমান বাজারে স্যামসাং, এলজি, সিঙ্গার, হিটাচি, শার্প কিংবা প্যানাসনিকের মতো বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো তাদের আধিপত্য নতুন করে বিস্তার করছে। যৌথ উদ্যোগে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের অ্যাসেম্বলিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং সরাসরি আমদানির সুবিধা থাকায়, দামের দিক থেকেও এগুলো এখন মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে বা আকষর্ণীয় অফার দিয়ে সচেতন ক্রেতাকে আর ধরে রাখা সম্ভব নয়। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি ফ্রিজ কিনে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় রেফ্রিজারেটর শিল্পকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে শুধু বিপণন বা বিজ্ঞাপনে জোর না দিয়ে কঠোরভাবে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যথায়, মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারের মতো ফ্রিজের বাজারও সম্পূর্ণভাবে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর একক নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, যা দেশীয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য এক বড় ধাক্কা হতে পারে।
২০২১ সালের মার্চে মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশ নামের একটি অলাভজনক সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশের ফ্রিজের বাজার বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো নিয়ন্ত্রণ করত। পরে দেশি ব্র্যান্ডগুলো সাধারণ ক্রেতার আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। বর্তমানে সেই জায়গায় পুনরায় ভাটা পড়তে শুরু করেছে।
বর্তমানে দেশের ফ্রিজের বাজারের আকার প্রায় ৬৮ কোটি ডলার। ১৩টির মতো দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ফ্রিজ বানাচ্ছে। এর মধ্যে যমুনা ইলেকট্রনিক্স, মার্সেল, ভিশন, ওয়ালটন, মিনিস্টার, কনকা ও সিঙ্গার ফ্রিজ অন্যতম।
দেশীয় শিল্প টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু শুল্ক সুবিধা আর নীতিমালার ওপর ভর করে কোনো শিল্প দীর্ঘ মেয়াদে টিকতে পারে না, যদি না পণ্যের শতভাগ মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যায়। যদি দেশি ফ্রিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অবিলম্বে তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ না বাড়ায় এবং যন্ত্রাংশের গুণগত মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত না করে, তাহলে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারের মতো দেশের ফ্রিজের বাজারও সম্পূর্ণভাবে বিদেশি বড় বড় কোম্পানিগুলো দখলে চলে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ালটন গ্রুপের ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের প্রধান রবিউল মিলটন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, প্রতিযোগিতার বাজার তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি হয়তো দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে যে প্রত্যাশা থাকে, যেমন- অনেক কম মূল্যে ভালোমানের পণ্য কিনবে সে ব্যাপারে ক্রেতারা হয়তো হতাশ।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশি কোম্পানি, যারা পণ্যটি পুরোপুরি দেশে তৈরি করছে না, তাদের ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকতে পারে কম্প্রেসর বা নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ফ্রিজ উৎপাদনের। কিন্তু ওয়ালটনের ক্রেতা বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা তারা অবশ্যই বলবেন, ওয়ালটনের পণ্য ভালো।

মূল্য ছাড়, কিস্তি সুবিধা আর দেশপ্রেমের বিজ্ঞাপনেও আর গলছে না ক্রেতাদের মন। মানহীন দেশি ইলেকট্রনিকস পণ্যের প্রতি ক্রমেই আগ্রহ হারাচ্ছে ক্রেতা। এর প্রভাব পড়েছে এক সময়ের দ্রুত বর্ধনশীল দেশের রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজের বাজারে। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার, ঘন ঘন কম্প্রেসর বিকল হওয়া এবং বিক্রয়োত্তর সেবার নামে গ্রাহক হয়রানির কারণে দেশি ব্র্যান্ডগুলোর ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তারা। ফলে দীর্ঘস্থায়িত্ব, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ফ্রিজের বাজার এখন দ্রুত চলে যাচ্ছে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর দখলে।
বিজ্ঞাপনের জৌলুস বনাম বাস্তবতার ফাঁকি
আধুনিক জীবনযাত্রা সহজ ও সুবিধাজনক করে তুলতে ফ্রিজ কর্মব্যস্ত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র। এটি খাবার সংরক্ষণ সহজ করে। বাজারের চাপ কমায়। খাবারে পচন রোধ করে। দ্রুত খাবার তৈরিতে সহায়তা করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংরক্ষণে সহায়ক এবং গরমের দিনে ঠান্ডা পানি ও খাবার সরবরাহে সাহায্য করে।
তবে বিগত এক দশকে দেশীয় বেশ কিছু ব্র্যান্ড চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন এবং কিস্তি সুবিধার ওপর ভর করে ফ্রিজের বাজারে বিশাল এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। দেশীয় কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। একটা সময় দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই পূরণ করত দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। কিন্তু অতি মুনাফা ও কাঁচামালের মান ধরে রাখতে না পারায় সেই বাজারে এখন ধস নেমেছে।
রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট, প্রগতি সরণি এবং কারওয়ান বাজারের ইলেকট্রনিক্স শোরুমগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ এবং খোঁজ থাকে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর দিকে।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কেনার কয়েক মাসের মধ্যেই গ্যাস লিকেজ হওয়া, ঠাণ্ডা না হওয়া বা বিভিন্ন অংশে মরিচা পড়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি থাকার পরও কাস্টমার কেয়ার থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে গ্রাহকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ফলে ‘সস্তা’-র পেছনে ছুটে প্রতারিত হওয়ার চেয়ে একটু বেশি টাকা খরচ করে টেকসই বিদেশি পণ্য কেনাকেই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা জানান, গত দুই বছরে বিদেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বিক্রির পরিমান অনেক বেশি, পক্ষান্তরে দেশীয় ব্রান্ডের ফ্রিজের বিক্আশঙ্কাজনক হারেরি কমেছে।
বিদেশি ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ার মূল কারণ
বেশ কিছু কারণে দেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বিক্রি অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে টেকসই প্রযুক্তি ও ইনভার্টার সুবিধা না থাকা, নিম্নমানের প্লাস্টিক ও বাহ্যিক উপাদান (বডি ম্যাটেরিয়াল), বিল্ড কোয়ালিটি ও স্থায়িত্ব, কম্প্রেসর ও কুলিং সিস্টেমে সমস্যা, স্মার্ট ফিচার, হয়রানিমূলক বিক্রয়োত্তর সেবার কথা বলা যেতে পারে।
দেশি ফ্রিজগুলোর ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, কেনার এক-দুই বছরের মধ্যেই এগুলোর কম্প্রেসর বসে যায় বা গ্যাস লিকেজ হয়ে ঠান্ডা হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
বিদেশি ফ্রিজের বডি, ভেতরের গ্লাস এবং ফিনিশিং অত্যন্ত নিখুঁত ও দীর্ঘস্থায়ী। অন্যদিকে খাবার দুর্গন্ধ হওয়া, ভেতরের প্লাস্টিকের তাক বা গ্লাস দ্রুত ভেঙে যাওয়া এবং ফ্রিজের বডিতে অল্প দিনেই মরিচা পড়ার মতো সমস্যাগুরো দেশি পণ্যের বাজার নষ্ট করছে।
বর্তমান যুগের ক্রেতারা ফ্রিজেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া চান। বিদেশি রেফ্রিজারেটরগুলোতে স্মার্ট ডায়াগনসিস, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রোটেকশন এবং কনভার্টিবল মুড (ফ্রিজারকে নরমাল ফ্রিজে রূপান্তরিত করার সুবিধা) থাকায় কারণে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ এখন বিদেশি ব্র্যান্ড।
বিপাকে মধ্যবিত্ত, মার খাচ্ছে দেশীয় শিল্প
মগবাজারে একটি বিদেশি কোম্পানির শোরুমে ফ্রিজ কিনতে এসেছেন হারুনর রশিদ। অনেক দেখে শুনে একটি তিনি হিটাচি ব্র্যান্ডের একটি ডিপ ফ্রিজ কিনলেন। কেন বিদেশি ব্রান্ডের ফ্রিজ কিনছেন- জানতে চাইলে তিনি সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘দেশি ব্রান্ডের একটি ফ্রিজ কিনেছিলাম। শোরুম থেকে বলা হয়েছিল, কোন বরফ জমবে না। কিন্তু কিছুদিন যেতেই দেখা গেছে বরফে আটকে যাচ্ছে ফ্রিজ। কিছুদিন পর পরই পরিষ্কার করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘১০ বছরের গ্যারান্টি দিলেও ৩ বছর শেষ হতেই সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য পুরোনো ফিজ বিক্রি করে নতুন এবং বিদেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কিনেছি। তিনি আরো বলেন, একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে বার বার দামি পণ্য কেনা সম্ভব না।’
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক সময় দেশের ফ্রিজের বাজারের সিংহভাগ দেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, গত দুই বছরে বিদেশি ব্র্যান্ডের বিক্রি জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে যৌথ উদ্যোগে দেশে অ্যাসেম্বল হওয়া এবং সরাসরি আমদানিকৃত বিদেশি ফ্রিজগুলো এখন শোরুমগুলোর প্রধান আকর্ষণ। বর্তমান বাজারে স্যামসাং, এলজি, সিঙ্গার, হিটাচি, শার্প কিংবা প্যানাসনিকের মতো বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো তাদের আধিপত্য নতুন করে বিস্তার করছে। যৌথ উদ্যোগে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের অ্যাসেম্বলিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং সরাসরি আমদানির সুবিধা থাকায়, দামের দিক থেকেও এগুলো এখন মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে বা আকষর্ণীয় অফার দিয়ে সচেতন ক্রেতাকে আর ধরে রাখা সম্ভব নয়। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি ফ্রিজ কিনে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় রেফ্রিজারেটর শিল্পকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে শুধু বিপণন বা বিজ্ঞাপনে জোর না দিয়ে কঠোরভাবে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যথায়, মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারের মতো ফ্রিজের বাজারও সম্পূর্ণভাবে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর একক নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, যা দেশীয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য এক বড় ধাক্কা হতে পারে।
২০২১ সালের মার্চে মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশ নামের একটি অলাভজনক সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশের ফ্রিজের বাজার বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো নিয়ন্ত্রণ করত। পরে দেশি ব্র্যান্ডগুলো সাধারণ ক্রেতার আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। বর্তমানে সেই জায়গায় পুনরায় ভাটা পড়তে শুরু করেছে।
বর্তমানে দেশের ফ্রিজের বাজারের আকার প্রায় ৬৮ কোটি ডলার। ১৩টির মতো দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ফ্রিজ বানাচ্ছে। এর মধ্যে যমুনা ইলেকট্রনিক্স, মার্সেল, ভিশন, ওয়ালটন, মিনিস্টার, কনকা ও সিঙ্গার ফ্রিজ অন্যতম।
দেশীয় শিল্প টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু শুল্ক সুবিধা আর নীতিমালার ওপর ভর করে কোনো শিল্প দীর্ঘ মেয়াদে টিকতে পারে না, যদি না পণ্যের শতভাগ মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যায়। যদি দেশি ফ্রিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অবিলম্বে তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ না বাড়ায় এবং যন্ত্রাংশের গুণগত মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত না করে, তাহলে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারের মতো দেশের ফ্রিজের বাজারও সম্পূর্ণভাবে বিদেশি বড় বড় কোম্পানিগুলো দখলে চলে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ালটন গ্রুপের ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের প্রধান রবিউল মিলটন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, প্রতিযোগিতার বাজার তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি হয়তো দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে যে প্রত্যাশা থাকে, যেমন- অনেক কম মূল্যে ভালোমানের পণ্য কিনবে সে ব্যাপারে ক্রেতারা হয়তো হতাশ।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশি কোম্পানি, যারা পণ্যটি পুরোপুরি দেশে তৈরি করছে না, তাদের ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকতে পারে কম্প্রেসর বা নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ফ্রিজ উৎপাদনের। কিন্তু ওয়ালটনের ক্রেতা বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা তারা অবশ্যই বলবেন, ওয়ালটনের পণ্য ভালো।

মানহীন দেশি ফ্রিজে আগ্রহ হারাচ্ছে ক্রেতা, ঝুঁকছে বিদেশি ব্র্যান্ডে
মরিয়ম সেঁজুতি

মূল্য ছাড়, কিস্তি সুবিধা আর দেশপ্রেমের বিজ্ঞাপনেও আর গলছে না ক্রেতাদের মন। মানহীন দেশি ইলেকট্রনিকস পণ্যের প্রতি ক্রমেই আগ্রহ হারাচ্ছে ক্রেতা। এর প্রভাব পড়েছে এক সময়ের দ্রুত বর্ধনশীল দেশের রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজের বাজারে। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার, ঘন ঘন কম্প্রেসর বিকল হওয়া এবং বিক্রয়োত্তর সেবার নামে গ্রাহক হয়রানির কারণে দেশি ব্র্যান্ডগুলোর ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তারা। ফলে দীর্ঘস্থায়িত্ব, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ফ্রিজের বাজার এখন দ্রুত চলে যাচ্ছে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর দখলে।
বিজ্ঞাপনের জৌলুস বনাম বাস্তবতার ফাঁকি
আধুনিক জীবনযাত্রা সহজ ও সুবিধাজনক করে তুলতে ফ্রিজ কর্মব্যস্ত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র। এটি খাবার সংরক্ষণ সহজ করে। বাজারের চাপ কমায়। খাবারে পচন রোধ করে। দ্রুত খাবার তৈরিতে সহায়তা করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংরক্ষণে সহায়ক এবং গরমের দিনে ঠান্ডা পানি ও খাবার সরবরাহে সাহায্য করে।
তবে বিগত এক দশকে দেশীয় বেশ কিছু ব্র্যান্ড চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন এবং কিস্তি সুবিধার ওপর ভর করে ফ্রিজের বাজারে বিশাল এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। দেশীয় কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। একটা সময় দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই পূরণ করত দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। কিন্তু অতি মুনাফা ও কাঁচামালের মান ধরে রাখতে না পারায় সেই বাজারে এখন ধস নেমেছে।
রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট, প্রগতি সরণি এবং কারওয়ান বাজারের ইলেকট্রনিক্স শোরুমগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ এবং খোঁজ থাকে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর দিকে।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কেনার কয়েক মাসের মধ্যেই গ্যাস লিকেজ হওয়া, ঠাণ্ডা না হওয়া বা বিভিন্ন অংশে মরিচা পড়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি থাকার পরও কাস্টমার কেয়ার থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে গ্রাহকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ফলে ‘সস্তা’-র পেছনে ছুটে প্রতারিত হওয়ার চেয়ে একটু বেশি টাকা খরচ করে টেকসই বিদেশি পণ্য কেনাকেই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা জানান, গত দুই বছরে বিদেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বিক্রির পরিমান অনেক বেশি, পক্ষান্তরে দেশীয় ব্রান্ডের ফ্রিজের বিক্আশঙ্কাজনক হারেরি কমেছে।
বিদেশি ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ার মূল কারণ
বেশ কিছু কারণে দেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বিক্রি অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে টেকসই প্রযুক্তি ও ইনভার্টার সুবিধা না থাকা, নিম্নমানের প্লাস্টিক ও বাহ্যিক উপাদান (বডি ম্যাটেরিয়াল), বিল্ড কোয়ালিটি ও স্থায়িত্ব, কম্প্রেসর ও কুলিং সিস্টেমে সমস্যা, স্মার্ট ফিচার, হয়রানিমূলক বিক্রয়োত্তর সেবার কথা বলা যেতে পারে।
দেশি ফ্রিজগুলোর ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, কেনার এক-দুই বছরের মধ্যেই এগুলোর কম্প্রেসর বসে যায় বা গ্যাস লিকেজ হয়ে ঠান্ডা হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
বিদেশি ফ্রিজের বডি, ভেতরের গ্লাস এবং ফিনিশিং অত্যন্ত নিখুঁত ও দীর্ঘস্থায়ী। অন্যদিকে খাবার দুর্গন্ধ হওয়া, ভেতরের প্লাস্টিকের তাক বা গ্লাস দ্রুত ভেঙে যাওয়া এবং ফ্রিজের বডিতে অল্প দিনেই মরিচা পড়ার মতো সমস্যাগুরো দেশি পণ্যের বাজার নষ্ট করছে।
বর্তমান যুগের ক্রেতারা ফ্রিজেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া চান। বিদেশি রেফ্রিজারেটরগুলোতে স্মার্ট ডায়াগনসিস, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রোটেকশন এবং কনভার্টিবল মুড (ফ্রিজারকে নরমাল ফ্রিজে রূপান্তরিত করার সুবিধা) থাকায় কারণে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ এখন বিদেশি ব্র্যান্ড।
বিপাকে মধ্যবিত্ত, মার খাচ্ছে দেশীয় শিল্প
মগবাজারে একটি বিদেশি কোম্পানির শোরুমে ফ্রিজ কিনতে এসেছেন হারুনর রশিদ। অনেক দেখে শুনে একটি তিনি হিটাচি ব্র্যান্ডের একটি ডিপ ফ্রিজ কিনলেন। কেন বিদেশি ব্রান্ডের ফ্রিজ কিনছেন- জানতে চাইলে তিনি সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘দেশি ব্রান্ডের একটি ফ্রিজ কিনেছিলাম। শোরুম থেকে বলা হয়েছিল, কোন বরফ জমবে না। কিন্তু কিছুদিন যেতেই দেখা গেছে বরফে আটকে যাচ্ছে ফ্রিজ। কিছুদিন পর পরই পরিষ্কার করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘১০ বছরের গ্যারান্টি দিলেও ৩ বছর শেষ হতেই সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য পুরোনো ফিজ বিক্রি করে নতুন এবং বিদেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কিনেছি। তিনি আরো বলেন, একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে বার বার দামি পণ্য কেনা সম্ভব না।’
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক সময় দেশের ফ্রিজের বাজারের সিংহভাগ দেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, গত দুই বছরে বিদেশি ব্র্যান্ডের বিক্রি জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে যৌথ উদ্যোগে দেশে অ্যাসেম্বল হওয়া এবং সরাসরি আমদানিকৃত বিদেশি ফ্রিজগুলো এখন শোরুমগুলোর প্রধান আকর্ষণ। বর্তমান বাজারে স্যামসাং, এলজি, সিঙ্গার, হিটাচি, শার্প কিংবা প্যানাসনিকের মতো বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো তাদের আধিপত্য নতুন করে বিস্তার করছে। যৌথ উদ্যোগে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের অ্যাসেম্বলিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং সরাসরি আমদানির সুবিধা থাকায়, দামের দিক থেকেও এগুলো এখন মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে বা আকষর্ণীয় অফার দিয়ে সচেতন ক্রেতাকে আর ধরে রাখা সম্ভব নয়। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি ফ্রিজ কিনে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় রেফ্রিজারেটর শিল্পকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে শুধু বিপণন বা বিজ্ঞাপনে জোর না দিয়ে কঠোরভাবে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যথায়, মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারের মতো ফ্রিজের বাজারও সম্পূর্ণভাবে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর একক নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, যা দেশীয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য এক বড় ধাক্কা হতে পারে।
২০২১ সালের মার্চে মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশ নামের একটি অলাভজনক সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশের ফ্রিজের বাজার বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো নিয়ন্ত্রণ করত। পরে দেশি ব্র্যান্ডগুলো সাধারণ ক্রেতার আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। বর্তমানে সেই জায়গায় পুনরায় ভাটা পড়তে শুরু করেছে।
বর্তমানে দেশের ফ্রিজের বাজারের আকার প্রায় ৬৮ কোটি ডলার। ১৩টির মতো দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ফ্রিজ বানাচ্ছে। এর মধ্যে যমুনা ইলেকট্রনিক্স, মার্সেল, ভিশন, ওয়ালটন, মিনিস্টার, কনকা ও সিঙ্গার ফ্রিজ অন্যতম।
দেশীয় শিল্প টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু শুল্ক সুবিধা আর নীতিমালার ওপর ভর করে কোনো শিল্প দীর্ঘ মেয়াদে টিকতে পারে না, যদি না পণ্যের শতভাগ মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যায়। যদি দেশি ফ্রিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অবিলম্বে তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ না বাড়ায় এবং যন্ত্রাংশের গুণগত মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত না করে, তাহলে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারের মতো দেশের ফ্রিজের বাজারও সম্পূর্ণভাবে বিদেশি বড় বড় কোম্পানিগুলো দখলে চলে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ালটন গ্রুপের ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের প্রধান রবিউল মিলটন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, প্রতিযোগিতার বাজার তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি হয়তো দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে যে প্রত্যাশা থাকে, যেমন- অনেক কম মূল্যে ভালোমানের পণ্য কিনবে সে ব্যাপারে ক্রেতারা হয়তো হতাশ।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশি কোম্পানি, যারা পণ্যটি পুরোপুরি দেশে তৈরি করছে না, তাদের ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকতে পারে কম্প্রেসর বা নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ফ্রিজ উৎপাদনের। কিন্তু ওয়ালটনের ক্রেতা বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা তারা অবশ্যই বলবেন, ওয়ালটনের পণ্য ভালো।




