শিরোনাম

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় যা আছে বাজেটে

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় যা আছে বাজেটে
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফাইল ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ দশে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে জর্জরিত বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নানা ক্ষেত্রে যথাযথ তদারকি না থাকা ও অব্যস্থাপনার কারণে এখানে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও অনেক বেশি।

এই পরিস্থিতিতে সরকার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ দূষণ রোধে বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তবে এখাতে বরাদ্দ দেওয়া অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে ভালো ফল পাওয়া যাবে না বলে পরিবেশবিদ ও বিশষেজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য মোট ৫১ হাজার ৭৪৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা মোট বাজেটের ১১ দশশূন্য মিক ৩ শতাংশ।

এই ৫১ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকার মধ্যে ৪২ হাজার ২২২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ৯ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘প্রশমন এবং নিম্ন কার্বন উন্নয়ন’ খাতে ৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘অভিযোজন’ খাতে সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। বাজেটের এই ক্রমবর্ধমান বরাদ্দ জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের দৃঢ় আর্থিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

তবে ২০৫০ সালের মধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতি বছর প্রায় ২০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন, যা বর্তমান বরাদ্দের তুলনায় অনেক বেশি।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দুটি মন্ত্রণালয় ও একটি বিভাগ সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে ১১ হাজার ২১৯ কোটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১০ হাজার ৬২৩ কোটি এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার ছয়টি স্তম্ভের মধ্যে ‘খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য’ খাতটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৪২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন. যা মোট বরাদ্দের ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভাব ও পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, এবারের বাজেটে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ভালো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এখানে সুশাসন নিশ্চিত দরকার। সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় আগামি পাঁচ বছরের মধ্য পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টিকারী প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, শিল্পায়নকে পরিবেশবান্ধব করতে অনলাইন মনিটরিং ও ছাড়পত্র প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইটিপি (তরল বর্জ্য পরিশোধানাগার) স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ৮২০টি প্রতিষ্ঠানের ইটিপিতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। যাতে কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য পরিশোধন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়।

বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশের কম হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হওয়া শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি। বর্তমানে ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ এবং ‘গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে অর্থায়নের চেষ্টা চলছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় তা খুব কম।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সহসভাপতি মহিদুল হক খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সুশাসন দরকার। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে উপযুক্ত ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে। কোনো দলীয় লোককে দায়িত্ব দেওয়া হলে ভাগ-বাঁটোয়ারার সুযোগ থাকবে। ইটিপির অভাবে ইউরোপের চামড়ার বাজার ধরা যাচ্ছে না। এটি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

/বিবি/