সারাদেশে ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ
আন্দোলন চলাকালে মিরপুর ১১ নম্বরে পুলিশের গাড়িতে আগুন

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার জেরে একদিনে দেশের ৫২৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানার প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কাজ না করেই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আজও উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্প মালিকরা।

গত কয়েকদিন ধরেই ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন পোশাক শ্রমিকরা। তবে গতকাল রবিবার সাভারের আশুলিয়া ও ঢাকার মিরপুরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, মিরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার, আশুলিয়া অঞ্চলে সংগঠনটির আওতাধীন ২ হাজার ১৩৪টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে রবিবার সচল ছিল ১ হাজার ৮১৬টি। তবে শ্রম অসন্তোষের কারণে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ৫২৯টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে মিরপুরে ৬৮টি কারখানার ৫১ হাজার ৬২৫ শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে যান। আর গাজীপুর ও ময়মনসিংহে ২৭৬টি কারখানার ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ শ্রমিক এবং সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় ১৮৫টি কারখানার ২ লাখ ৯০ হাজার ২০৫ শ্রমিক কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

বিকালে বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সদস্য কারখানার মালিকদের বৈঠকে উৎপাদন পরিস্থিতি ও কারখানা চালু রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সব কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করছেন মালিকরা।

তবে উৎপাদন চালু রাখার মতো পরিবেশ নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারে। আজ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন তারা।

এদিকে পোশাক শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নূন্যতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এতে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়াও নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

এর আগে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে তাদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দ্রুত আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত মজুরি নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে অস্থিতিশীলতা তৈরির ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।

/জেএইচ/