বেতনের দাবিতে নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বেতনের দাবিতে নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বিক্ষোভে নাসা গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

চার মাসের বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন নাসা গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।

বিক্ষোভে নাসা নীট, অ্যাপারেলস, ওয়েস্টার্ন ড্রেসেস ও মেইনল্যান্ড লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশ নেন। এ সময় তারা শ্রম আইন অনুযায়ী, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে মাহফুজা বেগম নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘কোরবানির ঈদের পর আমাদের কিছু না জানিয়েই কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দ্রুত সময়ের মধ্যে বেতন দেওয়া হবে। কিন্তু প্রায় চার মাস পার হয়ে গেলেও এখনো বেতন দেওয়া হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তাহলে চার মাসের বেতন কেন দেওয়া হবে না? আমরা তো যৌক্তিক দাবি নিয়ে কথা বলছি।’

তানজিলা আক্তার নামের আরেক শ্রমিক জানান, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ সকাল ৯টা থেকে শ্রম ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা। পরে দুপুর ১টার দিকে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট হয়ে সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে অবস্থান নেন।

নাসা ওয়েস্টার্ন ড্রেসেস লিমিটেডের ফিনিশিং সেকশন ইনচার্জ মো. আবদুর রহিম বলেন, ‘আমাদের দাবি মানা না হলে আরও বড় পরিসরে আন্দোলন করবো। সারা দেশে নাসা গ্রুপে ২৫ থেকে ৩০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন। তেজগাঁও শিল্প এলাকায় রয়েছেন প্রায় ৮০০ শ্রমিক। আমরা ন্যায্য পাওনা আদায় করেই ছাড়বো।’

নাসা মেইনল্যান্ডের ম্যানেজার মো. হাবিবুর রহমান জানান, শ্রম সচিবের সঙ্গে মুঠোফোনে তাদের কথা হয়েছে। সচিব জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নাসা গ্রুপের সম্পত্তি ক্রোক করেছে। শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য নাসা গ্রুপের জমি নাসা মেইনল্যান্ডে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বেতন পরিশোধের তারিখ ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সচিব। সচিবের আশ্বাসে আজকের মতো আমরা কর্মসূচি সমাপ্ত করবো।’

এদিকে, শ্রমিকেরা জানান, নাসা গ্রুপের শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে গত ২৮ জুন সচিবালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আইনমন্ত্রী, শ্রমসচিব, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কলকারখানা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিজিএমইএর নেতারা, নাসা গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদ এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকদের দাবি, ওই সভায় আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের সব পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তারা তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পাননি। দ্রুত বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

/এফআর/