শিরোনাম

বস্ত্র খাতের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের কমিটি

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বস্ত্র খাতের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের কমিটি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতিসহ নেতৃবৃন্দ। ছবি: পিএমও

দেশের টেক্সটাইল ও বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতিসহ নেতৃবৃন্দ। এ সময় বস্ত্রশিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথম বৈঠক করে খাতটির সমস্যা পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।

আজ বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে দেশের বস্ত্রশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং এ খাতের বিভিন্ন সমস্যা আলোচনায় উঠে আসে।

এ সময় বৈঠকে যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিটিএমএর সহ-সভাপতি শামীম ইসলাম, সাবেক সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক সৈয়দ এনায়েত কবির, ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার, বর্তমান পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, বাদশা মিয়া ছাড়াও আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া, মুন্নু ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, বাংলাদেশে সুতা ডাম্পিং, শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটসহ বস্ত্রশিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের ব্যাপারে বেশি আলোচনা হয়েছে। সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। কমিটিকে আগামী সাতদিনের মধ্যে বস্ত্রখাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা দেশের অর্থনীতিতে বস্ত্রশিল্পের অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা চান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বৈঠকে দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, বিনিয়োগ সংকট এবং নীতিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিটিএমএ খাতটির টেকসই উন্নয়নে সরকারের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বিত শুল্ক-কর কাঠামো ও রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন, রপ্তানিমুখী প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান ঋণের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ এবং সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সহায়তা সহজ শর্তে দ্রুত বাস্তবায়ন।

এ ছাড়া প্রযুক্তি আধুনিকায়ন (বিএমআরই), জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং ও কাস্টমসসহ সরকারি সেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে একটি ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস মেকানিজম চালুর প্রস্তাবও দেয় সংগঠনটি।

বিটিএমএর উপস্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বললেন, ‘দেশের রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।’

সাক্ষাৎ শেষে বিটিএমএর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ৫ কোটি টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়। সংগঠনটি জানায়, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কর্মসূচির জন্য এক লাখ সেট স্কুল ড্রেস সরবরাহে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিটিএমএর সাবেক ও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং বিভিন্ন টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারাও অংশ নেন।

/এমআর/