শিরোনাম

‘রাত ৩টার দিকে খবর আসে, আমার স্বামী আর নেই’

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
‘রাত ৩টার দিকে খবর আসে, আমার স্বামী আর নেই’
পরিবারে শোকের মাতম। ছবি: সংগৃহীত

‘গতকাল আমার স্বামা মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় জানিয়েছিলেন, ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন। ছেলেদের জন্য কেনাকাটা করার কথা বলেছে। কিন্তু কে জানতো, সেই কথাই হবে শেষ কথা। রাত ৩টার দিকে খবর আসে, আমার স্বামী আর নেই।’ ক্রন্দনসিক্ত অবস্থায় এসব কথা বলেছেন মোশারফ হোসেনের স্ত্রী কবরী আক্তার।

সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত হয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মোশারফ হোসেন। রবিবার (৮ মার্চ) সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে দেশটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মোশাররফ হোসেন উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্তনখোলা গ্রামের সুরজত আলীর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের হাল ধরতে প্রায় ৮ বছর আগে মোশারফ সৌদি আরবে যান। সংসার জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। তিন বছর আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। এরপর আবার ফিরে গিয়েছিলেন সংসারের হাল ধরতে।

গতকাল রবিবার ইফতারের আগে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে আজ সোমবার সেহরির সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি, পরিচয়সহ মোশারফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

তার স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, গতকাল সকালে স্বামীর সঙ্গে আমার শেষবার কথা হয়। তিনি জানিয়েছিলেন ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন। ছেলেদের জন্য কেনাকাটা করতে বলেছিলো। কিন্তু কে জানতো, সেই কথাই হবে শেষ কথা। রাত ৩টার দিকে খবর আসে, আমার স্বামী আর নেই।

গতকাল রবিবার রাত ৩টার দিকে মোশারফের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি। তার মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

নিহতের চাচাতো ভাই ও সৌদিপ্রবাসী এম জাকির হোসেন বলেন, ‘মোশারফের ক্যাম্পে ইফতারের প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় হঠাৎ একটি বিস্ফোরণে পুরো এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ওই এলাকায় একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে বলে শুনেছি।’

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রনী নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় ইউএনও বলেন, ‘প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

/এসআর/