শিরোনাম

মৌসুম শুরুর আগেই সুন্দরবনের মৌচাক কেটে সাবাড়

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
মৌসুম শুরুর আগেই সুন্দরবনের মৌচাক কেটে সাবাড়
মধু আহরণ করছেন এক মৌয়াল। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

মৌসুম শুরুর আগেই সুন্দরবনের মৌচাক কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে অসাধু মৌয়ালদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি বন বিভাগের নজরে এলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করছেন প্রকৃত মৌয়ালরা।

জানা গেছে, সারাদেশে সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধুর ব্যাপক চাহিদা। ক্রেতাদের কাছ থেকে অধিক দাম পাওয়ার লোভে অসাধু মৌয়ালরা মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে অপরিপক্ক চাক থেকে মধু সংগ্রহ করছেন। এতে মধু উৎপাদন হ্রাস ও মৌমাছির বংশ বিস্তারে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বনের ইকো সিস্টেম।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার মৌয়াল আব্দুর রহিম ও জামাল হোসেন জানান, অপরিপক্ক চাক থেকে মধু সংগ্রহ করার ফলে মৌচাকের সংখ্যা কমে যায়। এতে প্রকৃত মৌয়ালরা তাদের আয় থেকে বঞ্চিত হন।

মৌচাক

জানা যায়, বেশিরভাগ চোরাই মধু বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের আওতাধীন বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৌয়াল বলেন, এখন মধু কাটতে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হচ্ছে না। মাছ ধরার পাস নিয়ে সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ করছি। বিনিময়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কিছু মধু দিতে হচ্ছে। ভালো মধু হওয়ায় ক্রেতাদের কাছেও খুব চাহিদা থাকে। আমরা পাইকারি ১২শ থেকে ১৩শ টাকা কেজিতে মধু বিক্রি করছি।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে মধু আহরণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮ কুইন্টাল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরও কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৮২৫ কুইন্টাল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। তবে চুরি করে আহরণ করা মধু বন বিভাগের হিসাবের বাইরে থাকে।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনের মধু আহরণের মৌসুম শুরু হয়। ওই সময়টায় মৌয়ালদের মধু সংগ্রহের পাস দেওয়া হয়। আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি, যেন সুন্দরবন থেকে কেউ মধু চুরি করতে না পারেন। যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসআর/